কয়রা (খুলনা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৪ ঘণ্টা আগে
অভিযান চলাকালে সুন্দরবনের তেঁতুলতলার চর এলাকা থেকে লোকালয়ে পালিয়ে আসার সময় স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েন গুলিবিদ্ধ আরেক সদস্য। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
সুন্দরবনের খুলনার কয়রা অংশে দস্যু দুলাভাই বাহিনীর আস্তানায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বাহিনীপ্রধান রবিউল ইসলামসহ দুজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করা হয়েছে।
সুন্দরবনের ময়দাফেসা খাল এলাকায় বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে অভিযান শুরু হলে দস্যুদের সঙ্গে কোস্ট গার্ডের গোলাগুলি হয়।
নিহত শওকত সরদার (৬০) কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা।
অন্যদিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক রবিউল ইসলাম (৫০) একই এলাকার মৃত মানিক গাজী ও রিজিয়া বেগমের ছেলে। বর্তমানে তিনি খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এছাড়া শুক্রবার দুপুরে তেঁতুলতলার চর এলাকা থেকে লোকালয়ে পালিয়ে আসার সময় স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েন গুলিবিদ্ধ আরেক সদস্য ইসরাফিল হোসেন (২৬)। তার বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলায়।
কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, “কোস্ট গার্ড সদস্যরা গুলিবিদ্ধদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। সেখানে চিকিৎসক শওকত সরদারকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত রবিউল ইসলামকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে”।
কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রেজাউল ইসলাম জানান, শওকত হাসপাতালে আনার আগেই মারা যান এবং তার শরীরে গুলির চিহ্ন ছিল।
মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের তেঁতুলতলার চর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে কয়রা নদী। নদীর ওপারেই সুন্দরবনের শুরু। স্থানীয়দের ভাষ্য, রাতভর বন থেকে ভেসে আসা গুলির শব্দ আসছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা কামরুজ্জামান টুকু বলেন, “প্রথমে মনে হইছিল দুই ডাকাত দলের মধ্যে গোলাগুলি হইতেছে। পরে শুনলাম কোস্ট গার্ড অভিযান চালাইছে”।
স্থানীয় ইউপি সদস্য গনি মোড়ল ও বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিহত শওকত সরদারের ছেলে মফিজুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে দুলাভাই বাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, দলের সদস্যদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য দেওয়া প্রায় ১৭ লাখ টাকা নিয়ে তিনি ভারতে চলে যান।
এর জেরে প্রথমে তার ছোট ভাইকে তুলে নেওয়া হয়। পরে তাকে ছেড়ে দিয়ে শওকত সরদারকে বনের ভেতরে জিম্মি করে রাখা হয় বলে স্থানীয়দের দাবি। তাদের ধারণা, গোলাগুলির সময় সেই অবস্থাতেই তিনি নিহত হন।
এদিকে কয়রার বনজীবী আজিজুল ইসলাম দাবি করেন, ১০–১২ দিন আগে কাঁকড়া ধরতে গিয়ে অপহরণের শিকার হন তিনি। তার কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
তিনি বলেন, “গত রাতের গোলাগুলির সময় পালিয়ে আসি। সেখানে শওকত সরদারকে দেখেছি, সে রান্নাবান্নার কাজ করছিল”।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, বোটে অবস্থানরত ডাকাত সদস্যরা আগে গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ড পাল্টা গুলি করে। অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার এবং পলাতক সদস্যদের আটকের লক্ষ্যে অভিযান এখনো চলমান।