কোস্টগার্ডের সঙ্গে ‘গোলাগুলি’র ঘটনার পর গ্রেপ্তার হয়েছেন কথিত দুলাভাই বাহিনীর প্রধান রবিউল ইসলাম। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
সুন্দরবনের ভেতরে আবারও বনদস্যুদের তৎপরতার আলোচনার মধ্যে কোস্টগার্ডের সঙ্গে ‘গোলাগুলি’র ঘটনার পর গ্রেপ্তার হয়েছেন কথিত দুলাভাই বাহিনীর প্রধান রবিউল ইসলাম।
অভিযানের পরদিন শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পরে চিকিৎসা শেষে আবারও কোস্টগার্ড সদস্যরা তাকে নিজেদের সঙ্গে নিয়ে যান।
বন বিভাগের কয়রা টহল ফাঁড়ির আওতাধীন ময়দাফেসা খাল এলাকায় বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।
কোস্টগার্ডের অভিযানের সময় বনদস্যুদের সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
হাসপাতালের চিকিৎসা নথিতে দেখা গেছে, রবিউল ইসলামের বাড়ি কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর গ্রামে।
নথিতে তার পরিচয় দেওয়া হয়েছে মানিক গাজীর জেলে রবিউল ইসলাম (৫০) হিসেবে।
চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, তার হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলির ক্ষত ছিল।
হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কোস্টগার্ড সদস্যরা তাকে আবার নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, মহেশ্বরীপুর গ্রামের রবিউল ইসলামই বর্তমানে বনদস্যু দুলাভাই বাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
স্থানীয়দের দাবি, একসময় সুন্দরবন এলাকায় ইলিয়াস বাহিনী নামে একটি দস্যু চক্র সক্রিয় ছিল। ওই বাহিনীর প্রধান ইলিয়াস মারা যাওয়ার পর ২০২৪ সালে তার বোনের স্বামী রবিউল নতুন করে একটি দল গঠন করেন।
পরে দলটি দুলাভাই বাহিনী নামে পরিচিতি পায় বলেও জানান তারা।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, বনের মধ্যে গোলাগুলি ও এক দস্যু নিহতের খবর শুনেছি।
তবে আমাদের কাছে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই। কোস্টগার্ড বিষয়টি দেখছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক শরিফুল ইসলাম বলেন, আমরাও বিষয়টি শুনেছি। বিস্তারিত কোস্টগার্ড বলতে পারবে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কোস্টগার্ডের কর্মকর্তারা জানান, ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
তবে এখন পর্যন্ত গোলাগুলির সূত্রপাত, অভিযানের ধরন, হতাহতের সংখ্যা বা উদ্ধার হওয়া কোনো আলামত সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।