ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
চলন্ত ট্রেনে দুর্বৃত্তদের ছোড়া পাথরের আঘাতে চোখ হারানো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আয়কর আইনজীবী শ্যামল চন্দ্র দাস। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফেরার পথে চলন্ত ট্রেনে দুর্বৃত্তদের ছোড়া পাথরের আঘাতে গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় একটি চোখ হারিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আয়কর আইনজীবী শ্যামল চন্দ্র দাস।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে। চট্টগ্রামগামী তূর্ণা এক্সপ্রেস ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তালশহর রেলস্টেশন অতিক্রম করার সময় ট্রেনটিকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করা হয়। এ সময় একটি পাথর ট্রেনের জানালা ভেদ করে শ্যামল চন্দ্র দাসের ডান চোখে আঘাত হানে।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী অস্ত্রোপচার করা হলেও চিকিৎসকরা তার ক্ষতিগ্রস্ত চোখটি রক্ষা করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের পরামর্শে ডান চোখটি অপসারণ করতে হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া আয়কর আইনজীবী সমিতির সভাপতি মানছুরুল হক মনা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, সোমবার সকালে পারিবারিক কাজে শ্যামল ও তিনি ঢাকায় যান। রাতে চট্টগ্রামগামী তূর্ণা নিশিতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফিরছিলেন। ট্রেনটি দিনগত রাত দেড়টায় আশুগঞ্জের তালশহর রেলস্টেশন অতিক্রম করলে বাইরে থেকে ছোড়া পাথর শ্যামলের ডান চোখে এসে লাগে। এতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনে নেমে তাকে সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় ৷ সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত টানা অস্ত্রোপচার করেও তার চোখটি রক্ষা করা যায়নি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. শাহ আলম বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে এবং তদন্তে জড়িতদের শনাক্ত করা গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।