গাজীপুরের শ্রীপুর
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি পোশাক কারখানার নারী শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি পোশাক কারখানার নারী শ্রমিক লিজা বেগমের (৩৬) মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চারটি কারখানায় ভাঙচুর চালানো হয়। কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলায় শ্রমিক নয়, বহিরাগত উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তিরা জড়িত ছিল।
নিহত লিজা বেগম পিরোজপুরে নাজিরপুর উপজেলার হুগলাবুনিয়া গ্রামের মো. বিদ্যুৎ মিয়ার স্ত্রী এবং কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার গোবিনাথপুর গ্রামের আশরাফ মিয়ার মেয়ে। তিনি শ্রীপুর পৌর এলাকার আনসার রোডে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন এবং উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ী গ্রামের কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড পোশাক কারখানায় সুইং অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
জানা গেছে, বুধবার রাতের শিফটে কাজ করার সময় লিজা বেগম অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। তবে নিহতের পরিবারের কোনো সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
ভাঙচুরের শিকার কারখানাগুলো হলোÑ শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পশ্চিম খণ্ড (মাওনা চৌরাস্তা) এলাকার নোমান উইভিং মিলস লিমিটেড, কেওয়া নতুন বাজার এলাকার এমএইচসি কারখানা, এসবিএস টেক্সটাইলস মিলস লিমিটেড এবং কেওয়া বাজারের পশ্চিম পাশের ট্রিপল অ্যাপারেলস লিমিটেড। সংশ্লিষ্ট কারখানাগুলোর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেডের শ্রমিকরা সহকর্মী লিজা বেগমের মৃত্যুর খবর জানতে পেরে কাজ বন্ধ করে অ্যাসেম্বলি পয়েন্টে অবস্থান নেন। পরে তারা কারখানার সামনে মাওনা-বরমী আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে। প্রায় দুই ঘণ্টা পর শ্রমিকরা সড়ক ছেড়ে কারখানার ভেতরে ফিরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘ কর্মঘণ্টার কারণে শ্রমিকরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তারা আরও অভিযোগ করেন, উৎপাদন কর্মকর্তা আমীর হামজা এবং সুপারভাইজার শাহাজালাল শ্রমিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। প্রতিবাদ করলে সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে শনাক্ত করে তাকে হয়রানি বা চাকরিচ্যুত করা হয়। শ্রমিকদের দাবি, বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে লিজা বেগম কর্মরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা বিজন মালাকার বলেন, লিজা বেগমকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।
কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেডের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সঞ্জীব কুমার দে বলেন, শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনো অবহেলা করা হয়নি।
তিনি জানান, শনিবার সকালে শ্রমিক ও কারখানা কর্তৃপক্ষের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া নিহত শ্রমিকের দাফন-কাফনের ব্যয় কারখানা কর্তৃপক্ষ বহন করবে।
সহকারী পুলিশ সুপার (কালিয়াকৈর সার্কেল) শফিকুল ইসলাম বলেন, একজন শ্রমিকের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। শ্রমিকেরা কিছু সময়ের জন্য সড়ক অবরোধ করেছিলেন। কর্তৃপক্ষের অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়ার পর শ্রমিকরা সড়ক ছেড়ে যান। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।