সুরঞ্জিত হত্যাচেষ্টা মামলা
সিলেট প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে
সিলেটের বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে রায় ঘোষণার আগে সকালে আরিফুল হক চৌধুরী, লুৎফুজ্জামান বাবর ও জিকে গউছ আদালতে উপস্থিত হন। প্রবা ফটো
সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তর জনসভায় গ্রেনেড হামলা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সরকারদলীয় হুইপ জিকে গউছ এবং সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবরসহ অন্য আসামিদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
সিলেটের বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরের দিকে এই রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবুল হোসেন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্র জানায়, রায় ঘোষণার আগে সকালে আরিফুল হক চৌধুরী, লুৎফুজ্জামান বাবর ও জিকে গউছ আদালতে উপস্থিত হন। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাসের আদেশ দেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বোরহান উদ্দিন জানান, মামলায় মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল। এর মধ্যে তিনজন অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ায় এবং একজন মৃত্যুবরণ করায় বিচারাধীন ছিলেন না। অবশিষ্ট ৯ আসামির মধ্যে ৮ জনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। শুধু সৈয়দ নাঈম আহমেদ আরিফ ওরফে নিমুর বিরুদ্ধে তিনটি ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নাইমের বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর পশ্চিমপাড়া লম্বাহাটি গ্রামে। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি তাকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
খালসপ্রাপ্তরা হলেন মুহিব উল্লা ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে মফিজ ওরফে অভি, মুফতি মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ ওরফে খাজা, মো. আব্দুল মাজেদ বাট ওরফে ইউসুফ বাট, মো. নাজিউর রহমান নাজু ওরফে নাজমুল হক নাজু ওরফে নাজিমুল হক ও মাওলানা তাজ উদ্দিন। তাদের মধ্যে তাজ উদ্দিন পলাতক রয়েছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। হামলায় স্থানীয় যুবলীগের এক কর্মী নিহত হন এবং অন্তত ২৯ জন আহত হন। সুরঞ্জিত সেনগুপ্তও আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান। ঘটনার পর দিরাই থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক হেলাল উদ্দিন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর লুৎফুজ্জামান বাবর, আরিফুল হক চৌধুরী, জিকে গউছসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। বিচারকালে এই মামলায় ১২৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।