লক্ষ্মীপুরে ভাড়া বাসায় হামলা
রায়পুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ৫২ মিনিট আগে
তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে এই বাসায় ভাড়া থাকতেন শাহিনুর বেগম। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌর শহরে ভাড়া বাসায় দুই মেয়েসহ মাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।
হামলার ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় একজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এর আগে জেলার রায়পুর পৌর শহরের গোডাউন এলাকার পেছনে একটি ভাড়া বাসায় বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন শাহিনুর বেগম (৩৮), সাইমা (২০) ও শিফা (১০)। গুরুতর আহত ইকরা (১৭)কে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হচ্ছিলো এবং পথে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে ঘটনার পর হামলাকারীকে আটক করে মারধর করে স্থানীয় লোকজন। আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।
জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল রায়পুর–রামগঞ্জ) মো. আবদুর রাশেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পরিবারের বরাতে তিনি জানান, সাইমা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং ইকরা লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তাদের বাড়ি কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায়।
হামলাকারী রায়পুরে ফল বিক্রির কাজ করতেন এবং প্রায় আট মাস আগে একই বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।
অভিযোগ রয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে তিনি ওই বাসায় প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালান। এতে ঘটনাস্থলে তিনজন নিহত হন এবং গুরুতর আহত হন একজন।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে গণপিটুনি দেয় এবং পরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। আহত অবস্থায় তাকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে চিকিৎসাধীন মারা যায় সে।
নিহত শাহিনুর বেগমের ছেলে জুনায়েদ ইসলাম শিফাত (১৮) বলেন, “হামলাকারী ব্যক্তিকে আমি চিনি না। তবে তিনি আগে একই ভবনে ভাড়া থাকতেন। আমি সকালে যে দোকানে কাজ করি সেখানে চলে যাই। পরে আম্মু ফোন দিয়ে জানতে চান আমি নাস্তা করেছি কি না। কিছুক্ষণ পর আমি আবার ফোন দিলে তিনি আর ফোন ধরেননি। পরে বাসার সামনে গিয়ে দেখি অনেক লোকজন দাঁড়িয়ে আছে। তখন জানতে পারি এই ঘটনা ঘটেছে”।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম বলেন, “গভীর জখম এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে চারজনের মৃত্যু হয়েছে”।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক বলেন, চারজন নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত একজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল, তিনিও পথে মারা গেছেন। আর যিনি হামলার ঘটনায় আটক হয়েছেন, তাকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে পাঠানোর পর তিনিও মারা গেছেন। বিস্তারিত পরে তদন্ত করে বলা যাবে।