তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও টানা ভারি বর্ষণের প্রভাবে তিস্তাসহ কুড়িগ্রামের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে জেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বুধবার সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে পানি ২৯ দশমিক ০৫ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে, যা বিপৎসীমা (২৯ দশমিক ৩১ মিটার) থেকে মাত্র ০ দশমিক ২৬ মিটার নিচে রয়েছে।
কুড়িগ্রাম পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি ২৪ দশমিক ৮৪ মিটার, যা বিপৎসীমা (২৬ দশমিক ০৫ মিটার) থেকে মাত্র ১ দশমিক ২১ মিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে।
তালুক সিমুলবাড়ী পয়েন্টে ধরলার পানি ২৯ দশমিক ৯৪ মিটার, যা বিপৎসীমা (৩০ দশমিক ৮৭ মিটার) থেকে ০ দশমিক ৯৩ মিটার নিচে রয়েছে।
পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমার নদীর পানি ২৮ দশমিক ৭৫ মিটার উচ্চতায় স্থির রয়েছে, যা বিপৎসীমা (২৯ দশমিক ৬০ মিটার) থেকে ০ দশমিক ৮৫ মিটার নিচে।
নুনখাওয়া পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি ২৪ দশমিক ৫৬ মিটার, যা বিপৎসীমা (২৬ দশমিক ০৫ মিটার) থেকে ১ দশমিক ৪৯ মিটার নিচে রয়েছে।
অন্যদিকে চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ২১ দশমিক ৯৭ মিটার, যা বিপৎসীমা (২৩ দশমিক ২৫ মিটার) থেকে ১ দশমিক ২৮ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম এলাকায় ৫২ মিলিমিটার, পাটেশ্বরী এলাকায় ৫৫ মিলিমিটার এবং কাউনিয়া এলাকায় ৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে অব্যাহত পানি বৃদ্ধির কারণে জেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। অনেক এলাকায় তলিয়ে গেছে চীনাবাদাম, পাট, মরিচ ও ভুট্টার ক্ষেত। নদী তীরবর্তী মানুষের মধ্যে বন্যা ও ভাঙন আতঙ্ক বাড়ছে।
পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক দিনে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, “উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার নদ-নদীগুলোর পানি বাড়ছে। বিশেষ করে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে।”
তিনি বলেন, “উজানে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”