অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মো. আমিনুর রহমান সরকার দোলন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
নরসিংদীর মনোহরদীতে চাঁদা না দেওয়ায় এক অন্তঃসত্ত্বা নারী উদ্যোক্তাকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।
শ্লীলতাহানির ঘটনাটি গত ৭ মে। তবে পুলিশ মামলা না নেওয়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার আদালতে মামলা করা হয় বলে দাবি করেছেন ওই নারী।
অভিযুক্ত মো. আমিনুর রহমান সরকার দোলন (৫০) মনোহরদী উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন মনোহরদী উপজেলার হাররদিয়া এলাকার আব্দুল হালিমের ছেলে আব্দুল জব্বার (৩০) এবং অর্জুনচর এলাকার মৃত আব্দুল আউয়ালের ছেলে মোক্তার উদ্দিন তালুকদার (৪৮)।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. আমিনুর রহমান সরকার দোলন ও তার সহযোগীরা দীর্ঘ দিন ধরে ওই অন্তঃসত্ত্বা নারী উদ্যোক্তার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে হুমকি দেওয়া হয়। এর জেরে গত ৭ মে দুপুরে অভিযুক্তরা ওই নারীর বিউটি পার্লারে ঢুকে পুনরায় চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওই অন্তঃসত্ত্বা নারী উদ্যোক্তার ওপর হামলা চালান। এ সময় ওই নারীকে প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে এলোপাতাড়ি পেটানো হয়।
এক পর্যায়ে বিএনপি নেতা দোলন ওই নারীর কাপড় খুলে শ্লীলতাহানি করেন এবং ফোন ভেঙে ফেলেন। এরপর অপর আসামি আব্দুল জব্বার পার্লার থেকে ৫২ হাজার টাকা এবং মোক্তার উদ্দিন তালুকদার একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেন।
এ সময় ভুক্তভোগীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই অন্তঃসত্ত্বা নারীকে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে ভুক্তভাগী নারী বলেন, “চিকিৎসা শেষে মনোহরদী থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নিতে রাজি হয়নি, বলেছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে যেতে। আমরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো মামলা বা জিডিও করেনি পুলিশ। দীর্ঘ দিন চেষ্টার পর থানায় মামলা করতে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে বাধ্য হয়ে নরসিংদী কোর্টে গত ১৮ জুন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করি। আমার ও আমার অনাগত সন্তানের ওপর হামলাকারীদের বিচার চাই”।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. আমিনুর রহমান সরকার দোলনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে কল রিসিভ না হওয়ায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।
মামলা নেওয়ার বিষয়ে গড়িমসির বিষয়টি অস্বীকার করে মনোহরদী থানার ওসি জাহাঙ্গীর বাদশা বলেন, “এ ধরনের কোনো ঘটনার ব্যাপারে আমি অবগত নই। কোনো নারীও থানায় কোনো অভিযোগ নিয়ে আসেননি”।