জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, পশ্চিমাঞ্চল
প্রকাশ : ৭ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে
বর্তমানে রীনা যমজ সন্তানদের নিয়ে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ঝিনাইদহের মহেশপুরে যমজ কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ার ঘটনায় রাকিবুল ইসলাম নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
সম্প্রতি মহেশপুর উপজেলার পুরাতন কোলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুরাতন কোলা গ্রামের মৃত পীর বক্সের মেয়ে রীনা খাতুনের (২২) সঙ্গে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাশ্ববর্তী নতুন কোলা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে রাকিবুলের বিয়ে হয়।
বিয়ের কিছুদিন পর অন্তঃসত্তা হন রীনা। পরে চিকিৎসকদের মাধ্যমে জানতে পারেন, তার গর্ভে যমজ কন্যাসন্তান রয়েছে বলেও জানায় সূত্র।
সূত্রটি আরও জানায়, বিষয়টি জানার পর থেকেই স্বামী রাকিবুলের পরিবারের আচরণ বদলে যেতে শুরু করে।
এ বিষয়ে রীনা বলেন, “গর্ভে কন্যা সন্তান রয়েছে এ কথা জানার পর থেকেই আমাকে মানসিক চাপ দিতে থাকে। একপর্যায়ে শারীরিক নির্যাতন করতে থাকে।
“তাদের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আমি আমার বাবার বাড়িতে চলে আসি। ছয় মাস আগে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে সিজারের মাধ্যমে আমার যমজ কন্যা সন্তান হয়।”
রীনা অভিযোগ করে বলেন, “জন্মের পর থেকে ছয় মাস বয়সী যমজ সন্তান দুটির কোনো খোঁজ নেয়নি রাকিবুলের পরিবার। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সমাধান হয়নি। থানা-পুলিশকে জানিয়েও কোনো ফল পাইনি।”
রীনা দাবি করেন, “এর মধ্যেই কয়েক দিন আগে ডাকযোগে স্বামী রাকিবুল আমাকে তালাকনামা পাঠায়। কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ায় আমাকে অপমান ও নির্যাতন করা হয়েছে। একপর্যায়ে যৌতুকের জন্য চাপ দিয়ে শেষ পর্যন্ত তালাক দিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমার দুই শিশুর জন্য প্রতি মাসে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার খাবার কিনতে হয়। আমার বাবা নেই, বিধবা মায়ের পক্ষে এই ব্যয় বহন করা খুবই কষ্টসাধ্য। আমাকে না দেখুক, অন্তত তার সন্তানদের দায়িত্বটুকু পালন করবে।”
অভিযোগের বিষয়ে রাকিবুল ইসলাম বলেন, “আমার পরিবার যে সিদ্ধান্ত নিবে আমি সেটাই মেনে নেবো।”
এ ব্যাপারে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, শিশুদের টিকাদান কার্যক্রমে অংশ নিতে গিয়ে আমি রীনার কাছ থেকে বিষয়টি শুনেছি। পরে সে একটা লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, বলেন ইউএনও।