× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ইমেইল থেকে

নিরাপদ বাংলাদেশ চাই

ফারজানা আক্তার

প্রকাশ : ১ ঘণ্টা আগে

গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

বর্তমান বাংলাদেশের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কলঙ্কিত অধ্যায়ের একটি হলো ধর্ষকের আগেই ধর্ষিতাকে নির্মম মৃত্যুবরণ করতে হয়।

সভ্যতার এই চরম অবক্ষয় কেবল একটি অপরাধ নয়, এটি পুরো সামষ্টিক জাতির বিবেককে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করে। যে দেশে নারীর নিরাপত্তা প্রতিনিয়ত বিঘ্নিত হয় সে দেশের উন্নয়ন ও স্বাধীনতা ক্রমে ধ্বংসাত্মক হতে বাধ্য। ধর্ষণের বর্তমান সময়ের ভয়াবহতা এতটাই তীব্র যে তা কেবল একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীকেই নয় বরং অপরিপক্ব শিশুকেও বাদ রাখে না। একজন সদ্য বেড়ে ওঠা শিশু রঙিন পৃথিবীর খেলায় মাতোয়ারা হওয়ার বয়সে জীবন-মৃত্যুর খেলায় বাজি ধরতে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, এই কলঙ্কিত অধ্যায় থেকে একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীও রক্ষা পায় না। বৃদ্ধ থেকে শুরু করে, মাঝ বয়সী নারী এমনকি অপরিপক্ব শিশু বিকৃত মস্তিষ্কের পুরুষের যৌনাচারে অকালে ঝড়ে পড়বে তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এমন একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের নারীর নিরাপত্তাহীন আতঙ্কিত পরিস্থিতি কেবল দুঃখজনক বার্তাই প্রকাশ করে না এটি সামষ্টিক জাতির জন্য লজ্জাজনক। যে পুরুষ মায়ের গর্ভে ধারণ হয়ে পৃথিবীর আলো দেখে আবার সেই পুরুষই অন্য মায়ের গর্ভ কলঙ্কিত করে এর মতো হিংস্র মানসিকতা আর কিছুই হতে পারে না। কতটা নির্মম, নৃশংসতার শিকার হতে হয় একজন নারীকে।

একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের অর্ধেক সংখ্যক নারীর এমন কলঙ্কিত আতঙ্কের শেষ কোথায় তার উত্তর আজও অজানা। তবে ধর্ষণ তখনই প্রকট হয় যখন একটি রাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থা নড়বড়ে হয়। এই ক্ষেত্রে ধর্ষক উপযুক্ত শাস্তি না পেয়ে পুনরায় একই কাজে লিপ্ত হয়। একটি রাষ্ট্রের নিরাপত্তার বলয় নির্ভর করে সেই দেশের বিচারব্যবস্থার সঠিক প্রয়োগের ওপর। বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ধর্ষণের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে মূলত ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদানের অক্ষমতার কারণে।

ধর্ষণের কারণে যদি ভুক্তভোগী শিশুর মৃত্যু হয় বা গুরুতর আহত হয় তবে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। কিন্তু সংবিধান ধারা কাগজে-কলমে নামমাত্র সীমাবদ্ধ উপযুক্ত আইনের প্রয়োগের হার খুবই কম। ফলে এর মাঝেই হিংস্র যৌনাচারের জন্ম নেয়। একজন বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষ তার নিজের মা, বোন কিংবা নিজের মেয়েকেও ছাড়ে না। তার কাছে বৃদ্ধ থেকে বনিতা কেবলই লালসার তৃপ্তি। এই সকল অপরাধী অন্যায়ের প্রতি তখনই বেগ বৃদ্ধি করতে থাকে যখন বিচার কাঠামোতে অর্থ কিংবা ক্ষমতার জোরে চলতে থাকে। আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। তাই অপরাধী যেইহোক তার শাস্তি যেন অতি দ্রুত এবং দৃষ্টান্তমূলক হয়। অপরাধীর পক্ষে থাকা জনগণকেও শাস্তির আওতায় আনতে হবে। যেন ভবিষ্যতে লোভে পড়ে কেউ অপরাধীর জন্য আপিলের চেষ্টা করতে সাহস না পায়।

সচেতন নাগরিকদের এই বিষয়ে সোচ্চার হতে হবে। অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে রুখতে না পারা অন্যায় করার সমান।  বিচারহীনতার সংস্কৃতিই নতুন নতুন ধর্ষক তৈরির সবচেয়ে বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে। যখন একের পর এক ধর্ষকের ফাঁসি কার্যকর হবে, তখন সাধারণ মানুষের মনে আইনের প্রতি আস্থা ফিরে আসবে। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করবে না। তাই জিরো টলারেন্স নীতি শুধু আইনের পাতায় নয়, প্রয়োজন সুষ্ঠুতার সাথে এখনই প্রয়োগ করা। এতে হিংস্র নরপশুদের লালসা কোনো নারীকে গ্রাস করতে পারবে না। প্রশাসনের সদিচ্ছা এবং জনগণের সম্মিলিত প্রতিরোধই পারে আগামী সময়ে মা-বোন ও শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ও কলঙ্কমুক্ত বাংলাদেশ উপহার দিতে।

 

লেখক: ফারজানা আক্তার (শিক্ষার্থী, ইডেন মহিলা কলেজ, ঢাকা)

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা