ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ৩ ঘণ্টা আগে
বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
প্রায় ৫১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে জেনারেল ওভারহলিংয়ের পর চালুর মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় আবারও বন্ধ হয়ে গেছে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৩ নম্বর ইউনিট।
দুটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ২৫ মে বিকল হয়ে যাওয়ায় ইউনিটটি বন্ধ করতে হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এটি পুনরায় চালু করতে অন্তত দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
গত ২০২৫ সালের ২৫ অক্টোবর ৩ নম্বর ইউনিটটি জেনারেল ওভারহলিংয়ের জন্য বন্ধ করা হয়। প্রায় সাত মাসব্যাপী সংস্কারকাজ শেষে চলতি বছরের ২০ মে বিকেল ৫টা ৪৬ মিনিটে ইউনিটটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরে আসে। এ কাজে ব্যয় হয় ৪ দশমিক ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।
তবে চালুর মাত্র পাঁচ দিনের মাথায়, গত ২৫ মে ইউনিটটির দুটি বড় ধরনের যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ করে ইউনিটটি আবারও অচল হয়ে পড়ে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একাধিক প্রকৌশলী ও কর্মচারী অভিযোগ করেন, ওভারহলিংয়ের সময় প্রয়োজনীয় নতুন যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপনের পরিবর্তে পুরোনো যন্ত্রাংশ সংস্কার করে ব্যবহার করা হয়েছে। এ কারণেই এত অল্প সময়ের মধ্যে ইউনিটটি বিকল হয়ে পড়েছে বলে তাদের দাবি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক।
তিনি বলেন, “দুটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ইউনিটটি বন্ধ রয়েছে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ চীন থেকে আনা হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে অন্তত দুই সপ্তাহের মধ্যে ইউনিটটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে”।
তিনি আরও জানান, চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পূর্ববর্তী চুক্তি অনুযায়ী ওভারহলিংয়ের জন্য ৪ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিট চালু রয়েছে এবং সেখান থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে উত্তোলিত কয়লা ব্যবহার করে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হারবিন ইন্টারন্যাশনাল। চুক্তি অনুযায়ী নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সরবরাহের দায়িত্ব থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি তা যথাযথভাবে পালন করছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে বারবার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে মোট তিনটি ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে ১ ও ২ নম্বর ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ১২৫ মেগাওয়াট করে এবং ৩ নম্বর ইউনিটের ক্ষমতা ২৭৫ মেগাওয়াট। তবে কেন্দ্রটি চালুর পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সময়ই তিনটি ইউনিট একযোগে চালু রেখে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হয়নি।