ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৮ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ৮ ঘণ্টা আগে
ময়মনসিংহ নগরীতে ছুরিকাঘাতে রানা মিয়া (২৮) নামে এক বিএনপিকর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত রানা মিয়া ওই এলাকার মৃত শরাফ উদ্দিনের ছেলে। তিনি পেশায় অটোরিকশা চালক ছিলেন।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার (২ জুন) বিকালে নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের চর ঈশ্বরদিয়া মধ্যপাড়া এলাকার গাঙ্গের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওইদিন রাতেই নিহতের বড় ভাই মোফাজ্জল হোসেন মহানগর জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য মফিদুল ইসলাম মাস্টারকে প্রধান আসামি করে ১০ জনের নাম দিয়ে অজ্ঞাত আরও ১১-১২ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন।
পুলিশ রাতে যে চারজনকে গ্রেপ্তার করে তারা হলেনÑ চর ঈশ্বরদিয়া মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য মফিদুল ইসলাম মাস্টারের ছেলে মাহমুদুল ইসলাম মাহিন (২০), আলী হোসেনের ছেলে তোফাজ্জল হোসেন (৪০), তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে হূমায়ুন কবীর আকাশ (২৩), চাঁন মিয়ার ছেলে মনিরুল ইসলাম (২৪)।
নিহত রানা মিয়ার স্বজন মাহাবুবুল আলম বলেন, জাতীয় নির্বাচনে আমরা বিএনপির পক্ষে কাজ করেছি এবং ধানের শীষে ভোট দিয়েছি। এরপর থেকে জামায়াত নেতা মফিদুল ইসলাম মাস্টারের সঙ্গে আমাদের বিরোধ চলে আসছিল। সোমবার মফিদুল মাস্টারের বাড়ির ছেলেরা ফুটবল খেলা শেষে আমাদের বাড়ির সামনে দোকানে পানীয় কিনতে এসে আমাদের লোকজনকে হেয় করে কথা বলে। প্রতিবাদ করলে মফিদুল মাস্টারের বাড়ির লোকজন মারধরের হুমকি দিয়ে চলে যায়। এ ঘটনার পর রাতে আবারও মফিদুল মাস্টারের বাড়ির ছেলেরা আমাদের বাড়িতে হামলা করে। পরে মফিদুল মাস্টার নিজে আমাদের বাড়িতে এসে বিষয়টি মীমাংসা করে চলে যায়।
তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার বিকালে মফিদুল মাস্টার ৫০ থেকে ৬০ জনকে নিয়ে এসে হামলা করে। হামলার সময় মফিদুল মাস্টারের ছেলে মাহিন ছুরি দিয়ে রানার বুকের পাশে আঘাত করে। হামলায় রানা ছাড়াও আসাদ (৩৬), মোফাজ্জল (৩৫), শাহান (৪৫), মুনসুর আলী (৫০), শাকিল (৩০), দিনি মিয়া (৩৫) আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক রানাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত রানার ভাই তোফাজ্জল হোসেন বলেন, আমার ভাইয়ের হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য মফিদুল ইসলাম মাস্টার বলেন, আমি বা আমার ছেলে ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলাম না। আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা কামরুল আহসান এমরুল বলেন, ঘটনাটি আমরা জেনেছি। এটি রাজনৈতিক কোনো বিষয় নিয়ে ঘটেনি। গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বে এ ঘটনা ঘটেছে।
ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ বলেন, রানা বিগত নির্বাচনে আমার পক্ষে এলাকায় কাজ করেছে। চিহ্নিত গুপ্ত রাজনৈতিক দলের সদস্যরা আমাদের এ নিবেদিত কর্মীকে খুন করেছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হত্যায় জড়িত সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলেছি।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গ্রেপ্তার চারজনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।