ফেনী সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০২২ ১৫:৩৫ পিএম
আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২২ ১৫:৫৪ পিএম
খেজুর রস সংগ্রহের জন্য গাছ প্রস্তুত করছেন দাগনভূঞার এক গাছি। ছবি: প্রবা
শীতের আগমনে অযত্ন ও অবহেলায় বেড়ে উঠা খেজুর গাছের কদরও বেড়ে যায়। কারণ শীতকাল মানেই বাংলার ঘরে ঘরে নানা রকম পিঠা উৎসব। আর সেই পিঠার অন্যতম উপাদান খেজুর রসের লালি ও পাটালি গুড়। দেশের অন্যান্য জায়গার মতো ফেনীতে জানান দিচ্ছে শীতের বার্তা। তাই এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলার গাছিরা। চলছে গাছ তৈরি ও নলি বসানোর কাজ। তবে এ বছর শীতের মাত্রা কম থাকায় রস তেমনটা না পাওয়ার আশংকা করছেন গাছিরা।
দাগনভূঞা উপজেলার দিগন্তজুড়ে মাঠ কিংবা সড়কের দুই পাশে সারি সারি খেজুর গাছ চোখে পড়ত। কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য এই খেজুর গাছ। যা আছে তা থেকেই চলছে খেজুর রস সংগ্রহের প্রস্তুতি।
গাছি আবসার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘প্রতি বছরের মতো এ বছরও রস সংগ্রহ করার জন্য খেজুর গাছগুলোকে প্রস্তুত করার কাজ চলছে। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এই বছর শীতের মাত্রা খুবই কম। শীতের প্রভাবের কারণে রস তেমনটা নাও পেতে পারি।’
মোমিনুল হক বলেন, ‘এলাকায় একসময় শত শত খেজুর গাছ থাকলেও বর্তমানে বেশি গাছ নাই। তবে খেজুর রসের চাহিদা রয়েছে প্রচুর। তাই আমরা চেষ্টা করছি খেজুর রস যাতে সংগ্রহ করতে পারি।’
জলিল আহাম্মদ নামের গাছি বলেন, ‘গত বছর প্রতি কেজি খেজুরের রস বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকা দরে। এ বছর খেজুরের রসের দাম বাড়তে পারে।’
খেজুর রস বিক্রেতা শহীদ, মোফাজ্জল, করিমসহ কয়েকজন বললেন, এক সময় খেজুর রস বিক্রি করে সংসার চালিয়েছেন। তবে এখন আগের মতো খেজুর গাছ না থাকায় ব্যবসা আগের মতো নেই। তারপরও তারা মৌসুমি এই ব্যবসা ধরে রেখেছেন।
দাগনভূঞা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহি উদ্দিন মজুমদার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘খেজুর রস বিক্রি করে বাড়তি আয় করা সম্ভব। এটা যেহেতু অপ্রচলিত ফসল এ ব্যাপারে আমাদের জন্য আলাদা কোনো নির্দেশনা নেই। তবে ব্যক্তিগতভাবে কেউ গাছ কিংবা বাগান করতে চাইলে কৃষি বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় কারিগরী সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়া হবে।’