প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০২৩ ১১:৪৮ এএম
আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৩ ১৩:২৩ পিএম
বঙ্গবাজারে মঙ্গলবার সকালে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস। প্রবা ফটো
দেশের অন্যতম বড় কাপড়ের মার্কেট ঢাকার বঙ্গবাজারের আকাশ এখন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। ঈদের আগের এই ভয়াবহ আগুনে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন দোকানিরা।
মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) সকাল ৬টা ১০ মিনিটে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৫০টি ইউনিট মার্কেটের চারদিক থেকে চেষ্টা করছে। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনী। এ ছাড়া পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে রয়েছেন।
আরও পড়ুন : ‘আমার সব শেষ’, ব্যবসায়ীর আর্তনাদ
এর আগে ১৯৯৫ সালে একবার ভয়াবহ আগুনে পুড়ে যায় বঙ্গবাজার। সে দুর্ঘটনায় ওই এলাকার অধিকাংশ দোকানই পুড়ে ছাই হয়ে যায়। পরে তৎকালীন ঢাকা সিটি করপোরেশন সেখানে নিজস্ব তত্ত্বাবধানে গড়ে তোলে টিনকাঠ দিয়ে নির্মিত দুই ও তিন তলাবিশিষ্ট চার ইউনিটের ‘বঙ্গবাজার কমপ্লেক্স’ নামে কাপড়ের পাইকারি মার্কেট।
বঙ্গবাজার হকার্স মার্কেটের তথ্যমতে, ১৯৯৫ সালে মার্কেটটিতে দুবার আগুন লাগে। প্রথমবার প্রায় ২ হাজার ২০০ দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। দ্বিতীয়বারের আগুনে আংশিক দোকান পুড়ে যায়। আগুনে পুড়ে যাওয়া মার্কেটে ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা দাঁড়ায়। সে সময় সরকার থেকে ১ কোটি টাকা, ডিসিসি থেকে ৪০ লাখ টাকা এবং টিন ১১ বানসহ দোকানদারদের কাছ থেকে ৫ হাজার করে টাকা নিয়ে মার্কেটটি পুনর্নির্মাণ করা হয়। সে সময় সরকার থেকে শুরু করে সব ধরনের ক্রেতার একটি সহানুভূতি ছিল মার্কেটের ওপর।

সর্বশেষ ২০১৮ সালের ২৪ জুলাই আগুন লেগে বঙ্গবাজার কমপ্লেক্সের (গুলিস্তান ইউনিট) কয়েকটি দোকান পুড়ে যায়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন বঙ্গবাজার চারটি ইউনিটে বিভক্ত। বঙ্গবাজার কমপ্লেক্স, গুলিস্তান ইউনিট, মহানগর ইউনিট ও আদর্শ ইউনিট মিলিয়ে মোট দোকানের সংখ্যা ২ হাজার ৩৭০টি। ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক কমিটি ২০১৭ সালে বঙ্গবাজারের এ চারটি ইউনিটকে ‘খুবই ঝুঁকিপূর্ণ’ চিহ্নিত করে বাজার কর্তৃপক্ষকে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ ও নির্দেশনা দেয়।
ফায়ার সার্ভিসের তালিকা অনুযায়ী রাজধানীর ১ হাজার ৩০৫টি শপিং মল/মার্কেট ও বিপণিবিতানের মধ্যে ৬২২টি ‘খুবই ঝুঁকিপূর্ণ’ এবং ৬৭৮টি ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত। মাত্র পাঁচটিকে ‘সন্তোষজনক’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি।
স্বাধীনতার আগে রেলের জায়গায় এই বঙ্গবাজার মার্কেটের গোড়াপত্তন। শুরুতে ছোট ছোট ব্যবসায়ী ও হকাররা বসতেন। ফুলবাড়িয়ায় তখন ঢাকার প্রধান রেলস্টেশন ছিল। স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সালে ঢাকা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ টিনশেড দোকানগুলো ভেঙে পাকা করার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে রেল কর্তৃপক্ষ মালিকানা ছাড়তে রাজি না হওয়ায় দোকানিরা ইজারা নিয়ে দোকান বসানোর অনুমতি পান। ১৯৮৫ সালে সিটি করপোরেশন জায়গাটির মালিকানা পায় এবং ১৯৮৯ সালে সেখানে মার্কেট নির্মিত হয়। তখন থেকেই এটির নাম হয় বঙ্গবাজার। ২১ হাজার ২৫০ বর্গফুট আয়তনের এ বঙ্গবাজার ১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যে তৈরি পোশাকের বড় বাজার হিসেবে পরিচিতি পায়।