× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল

বিশেষ অগ্রাধিকার পাবে রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানগুলো

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৬ ১৮:০৫ পিএম

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২৬ ১৮:২০ পিএম

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতা ধরে রাখতে উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সংকটে থাকা বৃহৎ উৎপাদন ও সেবা খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন বৃহৎ শিল্প এখন আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান তীব্র মূলধন সংকটে ভুগছে। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী খাত বেশি সমস্যায় পড়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় সচল করতে ২০ হাজার কোটি টাকার একটি প্রাক-অর্থায়ন স্কিম গঠন করা হয়েছে।

এই তহবিলটি তিন বছর মেয়াদি এবং আবর্তনশীল হবে। তফসিলি ব্যাংকগুলোর অলস বা উদ্বৃত্ত তারল্য দিয়ে এই তহবিল চালানো হবে। এই তহবিলের ঋণ বিতরণ ও বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। 

বাংলাদেশ ব্যাংক মঙ্গলবার এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-৩ থেকে এই নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

নতুন এই নীতিমালার মূল লক্ষ্য বন্ধ কারখানাগুলোকে পূর্ণ ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা। এটি জাতীয় শিল্পনীতির সঙ্গে সংগতি রেখে করা হয়েছে। প্রাক-অর্থায়ন স্কিমের আওতায় রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষ অগ্রাধিকার পাবে। প্রচ্ছন্ন রপ্তানিকারকরাও এই সুবিধা পাবেন।

তবে ঋণখেলাপিরা এই বিশেষ স্কিম থেকে কোনো ঋণ পাবেন না। নীতিমালায় এটি স্পষ্ট করা হয়েছে। একই সঙ্গে একটি একক গ্রাহক বা শিল্প গ্রুপ সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবে।

এই স্কিমের আওতায় সুদের হার সহনীয় রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে মাত্র ৪ শতাংশ সুদে এই তহবিল দেবে। অন্যদিকে, ব্যাংকগুলো গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে এই ঋণ বিতরণ করতে পারবে। এটি মূলত একটি চলতি মূলধন বা ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঋণ। এই ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ এক বছর। তবে গ্রাহকের লেনদেন সন্তোষজনক হলে ব্যাংক এই ঋণ নবায়ন করতে পারবে।

তহবিলের অপব্যবহার রোধে নীতিমালায় কঠোর শর্ত দেওয়া হয়েছে। এই ঋণের টাকা দিয়ে গ্রাহকের পুরোনো কোনো ঋণ শোধ করা যাবে না। উদ্যোক্তারা এই অর্থ নির্দিষ্ট কিছু খাতে খরচ করতে পারবেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সর্বোচ্চ চার মাসের বেতন-ভাতা দেওয়া যাবে। বিদ্যুৎ বা গ্যাস বিলের মতো ইউটিলিটি বিল দেওয়া যাবে। এছাড়া কারখানার কাঁচামাল ক্রয় এবং উৎপাদন খরচ মেটানো যাবে।

শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার ক্ষেত্রে নগদ টাকা লেনদেন করা যাবে না। এই অর্থ সরাসরি কর্মচারীদের ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে দিতে হবে। সব ধরনের লেনদেনের জন্য একটি নির্দিষ্ট এসক্রো বা রেভিনিউ অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে হবে। ঋণ প্রাপ্তির প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ করার জন্য ব্যাংকগুলোর ওপর কিছু বাধ্যবাধকতা রয়েছে। প্রাক-অর্থায়ন সুবিধা নিতে ব্যাংকগুলোকে প্রথমে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি করতে হবে।

এরপর ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে ঋণ মঞ্জুর করতে হবে। আবেদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য সংগঠনের প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে। এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ বা বিকেএমইএর প্রত্যয়নপত্র নেওয়া যাবে। বাণিজ্য সংগঠনের প্রত্যয়ন না থাকলে ব্যাংককে নিজস্ব উদ্যোগে বিষয়টি যাচাই করতে হবে। উদ্যোক্তা অতীতে অর্থপাচার বা জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না মর্মে ব্যাংককে নিশ্চয়তা দিতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক এই স্কিমটির নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করবে। অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোকে প্রতি তিন মাস পরপর বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। প্রান্তিক শেষ হওয়ার পরবর্তী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে এই প্রতিবেদন দিতে হবে। এছাড়া ব্যাংক কর্মকর্তাদের সশরীরে কারখানা পরিদর্শন করতে হবে। পরিদর্শন শেষে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা