শেরপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:৩০ পিএম
আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:৩৮ পিএম
‘এসো আলো ছড়াই শেরপুরে’ এ প্রতিপাদ্যে শেরপুরের সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ি এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল শেরপুর হাফ ম্যারাথন-২০২৫।
শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) সকালে শেরপুর রানার্স কমিউনিটির উদ্যোগে ঝিনাইগাতী উপজেলার রাংটিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে এই প্রতিযোগিতা শুরু হয়। বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় স্থানীয়রাসহ এতে অংশ নেন দেশি-বিদেশি প্রায় আটশতাধিক রানার। দেশের সীমান্তবর্তী অপরূপ সৌন্দর্যমণ্ডিত এ জেলার গারো পাহাড়ি ট্র্যাকে দেশি-বিদেশি রানার্সদের এক মেলা বসেছিল।
আয়োজক কমিটির নেতারা জানান, এ দিন গারো পাহাড়ের প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে শেরপুর রানার্স কমিউনিটির উদ্যোগে আয়োজন করা হয় শেরপুর হাফ ম্যারাথন প্রতিযোগিতা। শুক্রবার ভোরে ঝিনাইগাতীর রাংটিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সারাদেশ থেকে রানার্সরা এসে জড়ো হন। এতে ২১.১ কিলোমিটার, ১০ কিলোমিটার, ৫ কিলোমিটার ও এক কিলোমিটারÑ এ চারটি ক্যাটাগরিতে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের প্রায় আটশো প্রতিযোগী অংশ নেন। সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এ জেলার সবুজ প্রকৃতি, নির্মল বাতাস ও শান্ত পরিবেশে ঘেরা আঁকাবাকায় রাস্তায় দৌড়ানোর অভিজ্ঞতায় এমন আয়োজনে খুশী রানাররা।
অংশগ্রহণকারী রানার্স এভারেস্ট ও বিশ্বের চতুর্থ শীর্ষ শৃঙ্গ লোৎস জয়ী ডা. বাবর আলী বলেন, গারো পাহাড়ি ট্র্যাকে অত্যন্ত চমৎকার আয়োজন হয়েছে। এখানকার পরিবেশ প্রকৃতি আমাদের মুগ্ধ করেছে। দেহ, মন সুস্থ রাখতে শরীর চর্চার কোনো বিকল্প নেই।
বাংলাদেশের প্রথম বেল্টপ্রাপ্ত পেশাদার বক্সার সুর কৃষ্ণ চাকমা বলেন, গারো পাহাড়ের পরিবেশ, প্রকৃতি আর পাহাড়ের মধ্য দিয়ে চমৎকার যে সড়কে রান করলাম, তা আমাকে খুবই আকৃষ্ট করেছে। আগামীতে গারো পাহাড়ে ম্যারাথন হলে অংশগ্রহণ করার চেষ্টা করব। আয়োজনটি সারাদেশে সাড়া জাগাবে। এ হাফ ম্যারাথন জেলার পর্যটনের উন্নয়নে ও জনসচেতনতা বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
প্রতিযোগিতায় শিশু, শারীরিক প্রতিবন্ধী, বেদে পল্লী, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষসহ সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের অংশগ্রহণ আলাদা নজর কাড়ে। ৩য় শ্রেণিতে পড়া ইব্রাহিম বলেন, আমার খুব ভালো লেগেছে। আমার কয়েকজন বন্ধুও অংশ নিয়েছিল ম্যারাথনে। আমরা ১ কিলোমিটার রান করেছি। লোকজনের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখে উচ্ছ্বসিত স্থানীয় দায়িত্বশীল ও প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা।
শেরপুর হাফ ম্যারাথনের প্রধান সমন্বয়ক রাজিয়া সামাদ ডালিয়া বলেন, শেরপুরে রানার্স কমিউনিটি গড়ে তোলার পাশাপাশি গারো পাহাড় এবং বন্যপ্রাণী রক্ষায় সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রতি বছর এমন ইভেন্ট আয়োজন করা হবে।
জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান বলেন, যুব সমাজকে মাদক ও অন্যান্য অন্যায় কাজ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা খুবই প্রয়োজন। আর আজকের ম্যারাথনে চমৎকার ও শান্তিশৃঙ্খলাভাবে শেষ হয়েছে। প্রতি বছর এমন আয়োজনে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারীদের মাঝে পুরস্কার হিসেবে মেডেল, ক্রেস্ট ও প্রাইজমানি তুলে দেন আয়োজক নেতারা এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা।