প্রতিদিনের বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ জুন ২০২২ ২০:১২ পিএম
ব্ল্যাক রাইস বা কালো ধান
শেরপুরে প্রথমবারের মতো কালো রঙের ধান (ব্ল্যাক রাইস) চাষ করেছেন চার তরুণ। বিদেশ থেকে বীজ সংগ্রহ করে তিন একর জমিতে চাষ করেন কালো ধান। সাধারণ ধানের চেয়ে দাম এবং পুষ্টিগুণ অনেক বেশি হওয়ায় এ ধানের বীজ জেলায় ছড়িয়ে দেয়ার আশ্বাস কৃষি বিভাগের।
শেরপুরের শ্রীবরদীর চক কাউরিয়া গ্রামের চার তরুণ চীন প্রবাসী এক বন্ধুর কাছে ব্ল্যাক রাইস বা কালো ধানের ধারণা পান। এরপর সেখান থেকে তিন হাজার টাকা কেজি দরে ১০ কেজি বীজ সংগ্রহ করে তিন একর জমিতে চাষ করেন এই ধান। প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ফলন হওয়াতে প্রায় দেড়'শ মণ ধান উৎপাদন করেন তারা। সাধারণ চালের চেয়ে দাম ও পুষ্টি কয়েক গুণ বেশি হওয়ায় সারা জেলায় এ ধানের বীজ ছড়িয়ে দিতে চান এই তরুণরা।
এই চালে অ্যান্থসায়ানিন বেশি থাকাতে ক্যান্সার প্রতিরোধী এবং অনেক বেশি ফাইবার থাকায় গ্লুকোজ তৈরি করে খুব ধীর গতিতে। তাই শরীরে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রিত রাখে যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুবই উপকারী। উদ্যোক্তারা বলেন, আমরা এই পর্যন্ত ১ লাখ টাকা খরচ করেছি। ৮ থেকে ১০ লাখ উঠবে বলে মনে করছি। এছাড়া কৃষকের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার জন্যে আমরা কাজ করছি।
ফলন ভালো তাই অনেক কৃষক এই ধানের চাষ করতে আগ্রহী। এলাকাবাসীরা বলেন, যদি সুযোগ সুবিধা ভাল হয় আগামীতে আমরা আবাদ করবো। উদ্যোক্তা তরুণদের কাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করে ছড়িয়ে দিতে পারলে কৃষকরা অধিক লাভবান হবেন বলে মনে করেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মুহিত কুমার দে বলেন, তাদের কাছ থেকে বীজ নিয়ে আমরা ৫টি জেলায় সম্প্রসারিত করার চিন্তা করছি। কৃষকরা এই ধানের আবাদ করে আর্থিক ভাবে লাভবান হবেন। এক লাখ টাকা খরচ করে প্রায় ১০ লাখ টাকার ধান বিক্রি করার প্রত্যাশা করছেন তরুণ উদ্যোক্তারা।