× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জলবায়ু সহনশীল উন্নয়নে সমন্বিত নীতি ও অর্থায়নের ওপর গুরুত্বারোপ

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ১ ঘণ্টা আগে

পরিবেশ অধিদপ্তরে বৃহস্পতিবার আয়োজিত অনুষ্ঠানে জলবায়ু অর্থায়ন এবং টেকসই উন্নয়নের ভবিষ্যৎ কর্মপথ নির্ধারণের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

পরিবেশ অধিদপ্তরে বৃহস্পতিবার আয়োজিত অনুষ্ঠানে জলবায়ু অর্থায়ন এবং টেকসই উন্নয়নের ভবিষ্যৎ কর্মপথ নির্ধারণের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

উচ্চপর্যায়ের একটি জাতীয় গোলটেবিল বৈঠকে দেশের জলবায়ু সহনশীলতা, পানি নিরাপত্তা, জলবায়ু অর্থায়ন এবং টেকসই উন্নয়নের ভবিষ্যৎ কর্মপথ নির্ধারণের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

‘বাংলাদেশে জলবায়ু সহনশীলতা, পানি নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়ন: নীতিগত অগ্রাধিকার, জলবায়ু অর্থায়ন ও ভবিষ্যৎ রোডম্যাপ’ শীর্ষক এ সংলাপের আয়োজন করে যুব নেতৃত্বাধীন সংগঠন ইয়াং ক্লাইমেট অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (ইউক্যান)।

পরিবেশ অধিদপ্তরের সহযোগিতা ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সমর্থনে ঢাকার আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে বৃহস্পতিবার আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের অংশীদার ছিল নিরাপদ অ্যালায়েন্স।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। 

সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক শওকত আলী এবং আলোচনা পরিচালনা করেন ইউক্যানের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক যুধিষ্ঠির চন্দ্র বিশ্বাস।

এতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, জাতিসংঘের সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, গবেষক, শিক্ষাবিদ, নাগরিক সমাজ প্রতিনিধি, আইনজীবী, গণমাধ্যমকর্মী এবং তরুণ জলবায়ু নেতারা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন নিরাপদ অ্যালায়েন্সের প্রতিনিধি ফাতিন সাদাফ লিয়ান।

তিনি জলবায়ু ও পানি নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় বহুপক্ষীয় সহযোগিতা, স্থানীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তথ্যভিত্তিক নীতিনির্ধারণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, “বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বৈশ্বিক পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে। 

“তবে সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। পানি নিরাপত্তা, নদী ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু অভিযোজন এবং দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে।”

তিনি জানান, সরকার এরই মধ্যে নদী পুনরুদ্ধার, খাল খনন ও পুনঃখনন, নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু-সহনশীল পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার মতো দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে। 

একই সঙ্গে তিনি জলবায়ু আন্দোলন, গবেষণা, উদ্ভাবন ও নীতি-সংলাপে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করেন।

সভাপতির বক্তব্যে শওকত আলী বলেন, “বাংলাদেশ ইতোমধ্যে জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (ন্যাপ) এবং হালনাগাদ জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) বাস্তবায়নের পথে অগ্রসর হচ্ছে। 

“এখন প্রয়োজন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, মন্ত্রণালয় এবং অংশীজনের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা, যাতে নীতিগুলো মাঠপর্যায়ে বাস্তব ফলাফল সৃষ্টি করতে পারে।”

তিনি বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা, তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

ইউক্যানের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক যুধিষ্ঠির চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, “বাংলাদেশের জলবায়ু ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তরুণদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। 

“জলবায়ু সহনশীলতা, পানি নিরাপত্তা এবং টেকসই উন্নয়নের প্রশ্নে সকল অংশীজনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”

গোলটেবিল আলোচনায় জলবায়ু ঝুঁকি, পানি সংকট, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হ্রাস, উপকূলীয় লবণাক্ততা, জলবায়ু অর্থায়ন, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা, জলবায়ু ন্যায়বিচার, জেন্ডার সমতা এবং ন্যাপ ২০২৩–২০৫০, এনডিসি ৩.০, বাংলাদেশ ডেল্টা পরিকল্পনা ২১০০ ও জাতীয় বাজেটের মধ্যে সমন্বয় নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।

বক্তারা বলেন, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান কম হলেও দেশটি জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম বড় ভুক্তভোগী। 

তাই জলবায়ু অর্থায়নের প্রবাহ বৃদ্ধি, স্থানীয় অভিযোজন উদ্যোগ শক্তিশালী করা এবং পানি সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি বলেও উল্লেখ করেন তারা।

বৈঠক শেষে অংশগ্রহণকারীরা জলবায়ু সহনশীলতা ও পানি নিরাপত্তা জোরদারে সমন্বিত নীতিগত অবস্থান গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছান। 

পাশাপাশি আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় বৃদ্ধি, বাস্তবায়নগত প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ এবং জলবায়ু অর্থায়নের কার্যকারিতা বাড়াতে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন তারা। 

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আলোচনার ভিত্তিতে একটি নীতিগত ঐকমত্য বিবৃতি প্রণয়ন করে সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক ও উন্নয়ন অংশীজনদের কাছে উপস্থাপন করা হবে।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা