× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আবহাওয়া অধিদপ্তর

সতর্ক সংকেতের প্রহরীরা সংকটে

ফারুক আহমাদ আরিফ

প্রকাশ : ১ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ১ ঘণ্টা আগে

আবহাওয়া অধিদপ্তর। ছবি: সংগৃহীত

আবহাওয়া অধিদপ্তর। ছবি: সংগৃহীত

চলতি মৌসুমে বজ্রপাতে প্রাণ গেছে দেড় শতাধিক মানুষের। তাপপ্রবাহ, খরা, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও কালবৈশাখীর মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে বজ্রপাত অন্যতম প্রাণঘাতী ঝুঁকি। এসব দুর্যোগের পূর্বাভাস ও পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর বর্তমানে তীব্র জনবল সংকটে রয়েছে।

জানা গেছে, ২০১৭ সাল থেকে প্রায় ৯ বছর ধরে অধিদপ্তরে জনবল নিয়োগ কার্যত বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতিও হয়নি। ফলে দেশের বিভিন্ন আবহাওয়া স্টেশন অর্ধেক জনবল নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। নিয়োগ সংক্রান্ত ফাইল মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকায় সংকট আরও প্রকট হয়েছে। কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, শিল্প-কারখানা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং যোগাযোগসহ প্রায় সব খাতেই আবহাওয়ার তথ্য ও পূর্বাভাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে অধিদপ্তরকে সীমিত সক্ষমতা নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

কী বলছেন কর্মকর্তারা

অধিদপ্তরের জনবল নিয়োগবিধির অগ্রগতি সম্পর্কে গত ১১ জুন জানতে চাইলে প্রতিরক্ষা সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, আমরা কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছিলাম। একটি রিট আবেদনের কারণে প্রক্রিয়াটি আটকে গেছে। আশা করি, এটি বড় কোনো বাধা সৃষ্টি করতে পারবে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ বিষয়ে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে নিয়োগবিধি বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতির আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, আমাদের নিয়োগবিধির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন সিএসআর নম্বর সংযুক্ত হওয়ার অপেক্ষা। এরপর বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত বলা যাবে।

তিনি বলেন, সীমিত জনবল সত্ত্বেও আমাদের কাজের সক্ষমতা ও দক্ষতা বেড়েছে। আমরা সেমিনার-সিম্পোজিয়াম এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আবহাওয়ার পূর্বাভাসও যথাসম্ভব নির্ভুলভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে। 

মহাপরিচালক পদে বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তাদের নিয়োগের পক্ষে মত দিয়ে তিনি বলেন, আবহাওয়া অধিদপ্তর একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান। এর নেতৃত্বে আবহাওয়াবিজ্ঞানে দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের থাকা প্রয়োজন। মেটিওরোলজি সংক্রান্ত জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিকেই এ দায়িত্ব দেওয়া উচিত।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক ড. ছায়েদুল আলম বলেন, একজন পূর্ণাঙ্গ আবহাওয়াবিদ হতে অন্তত ১০ বছরের প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। দেশ-বিদেশে প্রশিক্ষণ নিয়ে অর্জিত জ্ঞান বিশ্লেষণের মাধ্যমে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিতে হয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আবহাওয়া আইন এবং বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) নীতিমালা অনুযায়ী নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের থাকা প্রয়োজন। ডব্লিউএমওর নিয়ম অনুযায়ী আবহাওয়া সংক্রান্ত অন্তত ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকা দরকার।

ড. ছায়েদুল আলমের মতে, আবহাওয়া, মৃত্তিকা, চিকিৎসা ও স্পারসোর মতো বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের পেশাজীবীদের হাতে থাকা উচিত।

জনবল সংকট

দেশে আটটি বিভাগীয় অফিসের আওতায় ৬১টি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি কেন্দ্র পরিচালনার জন্য প্রহরীসহ ন্যূনতম ১১ জন জনবল প্রয়োজন। কিন্তু কোথাও কোথাও মাত্র ১ থেকে ৩ জন কর্মী দায়িত্ব পালন করছেন। কিছু কেন্দ্রে রয়েছে ৪ থেকে ৫ জন জনবল। আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম ২৪ ঘণ্টা চালু রাখতে একাধিক শিফটে কাজ করতে হয়। একটি কেন্দ্রের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতিদিন বিভিন্ন শিফটে প্রয়োজনীয় জনবল দরকার হলেও অধিকাংশ কেন্দ্রেই তা নেই। এমনকি বেশ কয়েকটি প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে মাত্র একজন কর্মী দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমান অর্গানোগ্রামে অনুমোদিত প্রায় ৯৫০ পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র সাড়ে ৫০০ জন।

জলবায়ু মহাশাখা, ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রসহ বিভিন্ন ইউনিটে বহু কর্মকর্তা চলতি দায়িত্বে রয়েছেন। 

সূত্র মতে, দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের ৫২টি পদে এবং ২১ জন বিজ্ঞানী চলতি দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমান পরিচালকও চলতি দায়িত্বে রয়েছেন। এ ছাড়া প্রকৌশলীদের ১৫টি পদের মধ্যে ৯টি পদ চলতি দায়িত্বে পরিচালিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট আবহাওয়াবিদদের মতে, পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব না থাকায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও জবাবদিহি ব্যবস্থায় প্রভাব পড়ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা ও আবহাওয়াবিদ বলেন, দীর্ঘদিন নিয়োগ ও পদোন্নতি বন্ধ থাকায় কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। অনেক কর্মকর্তা ও আবহাওয়াবিদ প্রত্যাশিত পদে উন্নীত হতে পারেননি। এর ফলে কর্মোদ্যম ও পেশাগত সন্তুষ্টি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছো।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা