ভ্রমণ ডেস্ক
প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২২ ১৫:২৪ পিএম
আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২২ ১৫:৫২ পিএম
বাংলাদেশের উত্তরের জেলা পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের বিভিন্ন স্থান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ মেলে। পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা।
বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে মাত্র ১৩৫ কিলোমিটার দূরত্বে থাকা হিমালয় পর্বতমালার কাঞ্চনজঙ্ঘার মোহনীয় রূপ আপনাকে মোহিত করতে বাধ্য। এর রূপ দিনের একেক সময় একেক রকমের হয়। আবার একেক স্থান থেকে এর রূপ একেক রকমের হয়। ভারতের দার্জিলিং, সিকিম থেকে এর সৌন্দর্য আর বাংলাদেশের সমতল ভূমি থেকে দেখা এর সৌন্দর্য অপার্থিব এক অনুভূতির জন্ম দেয়।
সকালে সূর্যোদয়ের সঙ্গে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার অনুভূতি স্বর্গীয়। সূর্যের প্রথম আলো যখন চূড়া স্পর্শ করে তখন এর বর্ণ হয় টুকটুকে লাল। দেখতে দেখতেই সেই আলো অন্যান্য পর্বতচূড়া স্পর্শ করে। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর রঙ এবং রূপ পরিবর্তন হতে থাকে।

উত্তরের জেলাগুলোর বিভিন্ন জায়গা থেকে এর রূপ ভিন্ন হয়। তেঁতুলিয়া থেকে এর রূপ একরকম আবার বাংলাবান্ধায় গেলে কাঞ্চনজঙ্ঘা আর দেখাই যায় না, কারণ সামনের পাহাড় দিয়ে ঢেকে যায়। ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখলে মনে হবে এর সামনে কোনো পাহাড় পর্বত নেই, আবার যতই পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার দিকে যাবেন ততই কাঞ্চনজঙ্ঘা স্পষ্ট হতে থাকবে।
কাঞ্চনজঙ্ঘা মাউন্টেন রেঞ্জ দেখতে অনেকটা গৌতম বুদ্ধ শুয়ে থাকার আকৃতির মতো দেখায় বলে একে ‘ঘুমন্ত বুদ্ধ’ বলা হয়।
সাধারণত বাংলাদেশের উত্তরের জেলা পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা অক্টোবরের শেষ থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত দেখা যায়। কারণ এ সময়ে আকাশ একদম পরিষ্কার থাকে এবং সূর্য দক্ষিণ দিকে হেলে পড়ে। দক্ষিণ দিক থেকে সূর্যের আলো উত্তরের হিমালয়ের গায়ে প্রতিফলিত হলে আমাদের উত্তরাঞ্চল থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা স্পষ্ট দেখা যায়।
১৮৫২ সালের আগে পৃথিবীতে কাঞ্চনজঙ্ঘাকে সর্বোচ্চ শৃঙ্গ বলেই ধারণা করা হতো। বর্তমানে বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতচূড়া হিসেবে স্থান করে নিয়েছে কাঞ্চনজঙ্ঘা। এর উচ্চতা ৮ হাজার মিটার বা ২৬ হাজার ফুট।
তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার দূরত্ব ১৬৫ কিলোমিটার। এ সময়ে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার দিকে যতই যাবেন ততই কাঞ্চনজঙ্ঘা স্পষ্ট হতে থাকবে। কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে হলে তাই এখনই নেমে পড়ুন।
প্রবা/জিকে/এমজে