× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

গোলাপি পদ্ম মন কেড়েছে পর্যটকের

সাইফুল হক মোল্লা দুলু, মধ্যাঞ্চল

প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১০:২৪ এএম

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২৩:২৪ পিএম

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার কাইনছা বিলে শোভা ছড়াচ্ছে পদ্ম ফুল। প্রবা ফটো

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার কাইনছা বিলে শোভা ছড়াচ্ছে পদ্ম ফুল। প্রবা ফটো

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলা সদরের অদূরে ছায়া সুনিবিড় ছবির মতো গ্রাম দাঁড়ি জাহাঙ্গীরপুর। আকাশে সূর্য উঁকি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রান্তিক গ্রামটিতে আনাগোনা বেড়ে যায় পর্যটকদের। গ্রাম-সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে থাকা কাইনহা বিলের বুকজুড়ে ভাসমান পদ্মফুলের নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন শত শত পর্যটক। নৌকায় ঘুরে ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সৌন্দর্য উপভোগ করেন তারা। 

বর্ষাকালে এ বিলের অধিকাংশ জমিতেই প্রাকৃতিকভাবে পদ্মফুল জন্মে। শরৎ আসতেই দিগন্তজোড়া শুভ্রতা নিয়ে বিলটি ধরা দেয় প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে। বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে গোলাপি রঙের পদ্ম দেখলে নিমেষেই জুড়িয়ে যায় মন। এ যেন এক চোখ ধাঁধানো রূপ।

কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল সরকারি কলেজের ছাত্রী ইভা আক্তার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাড়াইলের পদ্মবিলের ছবি দেখেছি। তাই বিলে এসে অপরূপ সৌন্দর্য কাছ থেকে দেখে অনেক ভালো লাগছে। স্ত্রী নিয়ে পদ্মবিলে ঘুরতে যাওয়া রাজীব সরকার বলেন, অনেক দিন পর স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে পদ্মবিলে এসেছি। এখানে পদ্মফুলের সৌন্দর্য দেখে মনটা ভরে গেছে।

জেলার করিমগঞ্জের গুজাদিয়া এলাকা থেকে পদ্মবিলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা মো. রাজন বলেন, ভালো লাগার পাশাপাশি একটু খারাপও লাগছে। অনেক দর্শনার্থী বিলে নেমে ফুল তুলে আনছেন। যদি পদ্মফুল ফোটার সময় বিল সংরক্ষণ করা যেত, তাহলে দর্শনার্থীরা ফুলের সৌন্দর্য আরও বেশি উপভোগ করতে পারতেন।

সম্প্রতি পদ্মবিলে গিয়ে দেখা যায়, বিলপাড়ে রয়েছে কয়েকটি ছোট ডিঙিনৌকা। এগুলো দিয়ে ফুলপ্রেমীদের বিলে ঘুরিয়ে আনা হয়। এক নৌকায় ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় আধা ঘণ্টা ঘুরে বেড়ানো যায়। স্থানীয় অনেকেই নৌকা চালিয়ে অর্থ উপার্জন করতে পারছেন। পাশাপাশি অনেকে হেঁটে যতদূর সম্ভব বিলপাড়ে গিয়ে ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করে ফিরে যান। ডিঙি নৌকার মাঝি খাইরুল ইসলাম বলেন, দিনে চার-পাঁচবার করে একেকজন মাঝি নৌকায় লোকজন নিয়ে বিলে যায়। নৌকায় বিল দেখিয়ে বেশ ভালো আয় হচ্ছে। 

এদিকে, সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে পুরো এলাকাটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে উঠতে পারে মনে করেন স্থানীয়রা। স্থানীয় বাসিন্দা রিমন মিয়া জানান, প্রতিদিনই অসংখ্য পর্যটক বিলে পদ্মফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসছেন। কিন্তু এখানে থাকার বা বসার কোনো ব্যবস্থা নেই। স্থানীয় প্রশাসন এটিকে পর্যটন হিসেবে গড়ে তুললে রাজস্ব আয়ের পাশাপাশি গ্রামবাসীদেরও উপকার হতো।

তাড়াইল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রকৌশলী মো. আবু রিয়াদ জানান, বর্ষা মৌসুমে এ বিলে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেওয়া পদ্মফুল শরৎকালে বিলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করছে। এ ছাড়া পদ্মবিলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা দর্শনার্থীদের নৌকায় বিলে ঘুরিয়ে লাভবান হচ্ছেন স্থানীয়রা।

তাড়াইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জহিরুল ইসলাম ভূঁঞা বলেন, বিল-জলাশয় ভরাট করে ফেলার কারণে পদ্মফুল বিলুপ্তির পথে। তবে এই বিলে কয়েক বছর ধরে পদ্মফুল ফুটছে। এই পদ্মবিল সংরক্ষণের বিষয়ে আমাদের পরিকল্পনা আছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের যাতে বিলপাড়ে যেতে কষ্ট না হয়, সেজন্য সকল উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা