প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২৩ ১৭:১২ পিএম
সাগরকন্যা নামে পরিচিত কুয়াকাটায় পরিবেশ দূষণ রোধ ও দায়িত্বশীল পরিবেশবান্ধব পর্যটন বিষয়ে প্রচার চালানোর উদ্দেশ্য নিয়ে গত ৫ মে থেকে ১৭ জুলাই একটি ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লাল সবুজ সোসাইটির ব্যানারে 'ইয়ুথ ইন একশন: ইকো ফ্রেন্ডলি ট্যুরিজম-কুয়াকাটা' ক্যাম্পেইনে বিভিন্ন সেশন অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় কুয়াকাটা বঙ্গবন্ধু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে সেশন আয়োজন করা হয়েছে। এতে ওয়ান টাইম প্লাস্টিকের ক্ষতি সম্পর্কে তাদের জানানো হয়। তাদের নিজেদের এবং আগত টুরিস্টদের যেখানে সেখানে প্লাস্টিক ফেলার ক্ষতি সম্পর্কে জানানো হয়। সেশনে ২০০ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এছাড়া পরিবেশ সুরক্ষা বিষয়ে কুইজ, উপস্থিত বক্তৃতা ও ছবি আঁকা প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হয়। এছাড়াও কুয়াকাটার স্থানীয় ৩০ তরুণকে ইকো ফ্রেন্ডলি ট্যুরিজম বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। যাতে তারা এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে আরো বেশী সচেতনতা ছড়াতে পারে। বিচের পাশের ৫০ ভ্রাম্যমান ব্যবসায়ী যাদের থেকে সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক আসে, তাদের নিয়ে রাউন্ডটেবিল বৈঠক করা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন এখন থেকে তারা ক্রেতাদের সতর্ক করবেন পরিবেশ দূষণ বিষয়ে।
সংগঠনের সদস্যরা সমুদ্র সৈকতের ধারে ৫০টি ঝাউগাছ রোপন করেছেন। সংগঠনের তরুণরা মিলে বিচে ৫ দিন প্লাস্টিক পরিচ্ছন্নতা ক্যাম্পেইন করে ও পুরো কুয়াকাটায় মাইকিং করে টুরিস্টদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করে। উল্লেখযোগ্য আরো কার্যক্রমের মাঝে রয়েছে- কুয়াকাটার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ১০০ টি সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড লাগানো, কুয়াকাটার ১০০ টি হোটেলে প্লাস্টিক ব্যবহারে সচেতনতা ও দায়িত্বশীল ট্যুরিজম বিষয়ক পোস্টার লাগানো।

লাল সবুজ সোসাইটির প্রজেক্ট সমন্বয়ক আসিফ ইকবাল বলেন, দেশের পর্যটন স্পটগুলো প্রতিনিয়ত আমাদের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা জেনে বা না জেনে এসব স্থানগুলোর ক্ষতি করছি। বিশেষ করে ওয়ান টাইম প্লাস্টিক যেখানে সেখানে ফেলে পরিবেশের ক্ষতি করছি। এই বিষয়ে পর্যটক ও স্থানীয়দের মধ্যে তেমন সচেতনতাও নেই। আমরা তাই এই প্রকল্পটি হাতে নেই। এ ধরনের প্রচারনা আরো বেশী দরকার।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সিইও আবু তাহের মো. জাবের বলেন, ট্যুরিজম বোর্ড সবসময় চায় দেশের ট্যুরিজম সেক্টরের উন্নতিতে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়াতে। লাল সবুজ সোসাইটির তরুণরা যে স্বপ্রনোদিত হয়ে কুয়াকাটায় এমন সচেতনতামূলক কার্যক্রম করেছে তা আমাদের মুগ্ধ করেছে। আমরাও তাদের পাশে ছিলাম, তাদের আয়োজনে উপস্থিত ছিলাম। এভাবে অন্যান্য তরুণদেরও এগিয়ে আসতে হবে।
কুয়াকাটায় আগত টুরিস্ট সানোয়ার হোসেন (৩০) বলেন, আমি ভ্রমণপ্রিয় মানুষ। দিনাজপুর থেকে কুয়াকাটা ঘুড়তে এসেছি। বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করেছি। আমাদের মতো ভ্রমণপ্রিয়রাই বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যেয়ে অসচেতনভাবে সেই স্থানে প্লাস্টিক ফেলে। প্রকৃতির নানান ক্ষতি করে আসে। কুয়াকাটায় এসে দেখলাম তরুণরা এ নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করছে এবং তাদের সঙ্গে আবার কাজ করছে স্থানীয় কিশোররা। এটি খুবই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। আমার খুবই ভালো লেগেছে। আমার মতে এ কাজটি বাংলাদেশের প্রত্যেক ট্যুরিস্ট স্পটে করা উচিত।
কুয়াকাটা বঙ্গবন্ধু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান বলেন, আমার শিক্ষার্থীদের পরিবেশের প্রতি আরো দায়িত্বশীল আচরণ শেখানো ও সামাজিক কাজে অংশ নেবার সুযোগ করে দিয়েছে লাল সবুজ সোসাইটি। তাদেরকে ধন্যবাদ।
উদ্যোগটির অর্থায়নে ছিল মিউচুয়্যাল ট্রাস্ট ব্যাংক, সহযোগী হিসেবে ছিল বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ও স্থানীয় সহযোগী সংগঠন হিসেবে ছিল ‘আমরা কলাপাড়াবাসী’।