মুহাম্মদ জভেদ হাকিম
প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২২ ১২:২১ পিএম
আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২২ ১২:৪৮ পিএম
কাশফুলের ‘সাদা ডালি’ সাজিয়ে বসে আছে শরৎ ছবি : কাজী সাজ্জাদ, মডেল : মাহিয়া
ঋতুর রানি শরৎ মানেই কাশফুল আর নীলাকাশের চিরায়ত বাংলা। শরৎ সৌন্দর্য কাশফুলের রাজ্যে যাব না, তা কি হয়। শরৎকালের সার্থকতাই নয়নাভিরাম কাশফুলে অবগাহন। আমি আর জসিম ছুটলাম সাভারের জাহাঙ্গীরনগর সোসাইটি লাগোয়া বালুর মাঠে। মোটরবাইকে ছুটলাম। ধারেকাছে ঘোরাঘুরির জন্য আমার অ্যাভেঞ্জারই হলো প্রিয় বাহন। বাইক চলছে, চলতে চলতে পৌঁছে যাই গন্তব্যে। চারদিকে কাশফুল আর কাশফুল। এ যেন কাশফুলেরই রাজ্য। কাশফুলের মাঝ দিয়ে যাওয়া পথে মোটরবাইক এগিয়ে যায়। একটা সময় হারিয়ে যাই কাশফুলের ভিড়ে। বাতাসের দোলে কাশফুল নড়েচড়ে। বেশি বাতাসে কাশফুলে ঢেউ খেলে। এ এক অন্য জগৎ। যে জগতে শুধু প্রকৃতিই সব। ঘুরতে ঘুরতে দেখি, তেজোদীপ্ত সূর্যটা সেদিনের মতো তার আপন পথ খুঁজছে। সূর্যরশ্মি কমার সঙ্গে সঙ্গে কাশফুলের রাজ্যেও যেন এবার মায়াবী ছন্দের ভালোলাগা ভর করে। প্রকৃতির সেই ছন্দের তালে হেঁটে বেড়াই। সাদা কাশফুল আরও নতুন রূপে চোখে ধরা দেয়। বেড়ে যায় ভালোলাগার মাত্রা। কাশফুলের জগৎ যেন সাদা চাদরে ঢাকা। মাথার ওপর শুভ্র শরতের মেঘের ভেলা। দেখতে দেখতে ভরসন্ধ্যা। বাইক স্টার্ট। কাশফুলের রাজ্য পেছনে ফেলে বাইক ছুটে যায় শহুরে যান্ত্রিকতায় মিশে যেতে।
ছবি : জভেদ হাকিমযাবেন কীভাবে : গুলিস্তান, গাবতলী, মতিঝিল, যাত্রাবাড়ীসহ ঢাকার বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড থেকে সাভারমুখী বাস ছেড়ে যায়। নামতে হবে সাভার বাজার বা রেডিও কলোনি বাসস্ট্যান্ড। সেখান থেকে অটো বা রিকশায় বাড্ডা ভাটপাড়া জাহাঙ্গীরনগর সোসাইটির বালুর মাঠ।
ভ্রমণ তথ্য : কাশফুলের রাজ্যে ঘোরাঘুরির ভালো সময় খুব ভোরে কিংবা পড়ন্ত বিকালে। একাকী, দলবেঁধে বা পুরো পরিবার নিয়েও ঘুরে আসা যাবে।
ছবি : কাজী সাজ্জাদ, মডেল : মাহিয়া ঢাকার কাছে যত কাশফুলের রাজ্য
বসুন্ধরা ৩০০ ফিট সড়ক : কুড়িল বিশ্বরোড থেকে পূর্বাচল যেতে হয় ৩০০ ফিট রাস্তা ধরে। এ রাস্তার দুই ধারেই রয়েছে অসংখ্য কাশবন। চাইলে হেঁটে হেঁটেই ঘুরে দেখা যায়। রিকশায়ও ঘুরতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ঘণ্টাপ্রতি ভাড়া গুনতে হবে ১৫০ টাকা বা তারও বেশি। কালো কুচকুচে পিচঢালা রাস্তার দুই পাশে শুভ্রতার সমারোহ মনকে ভাসিয়ে নিয়ে যায় কল্পনার রাজ্যে।
আফতাবনগর : রাজধানীর আফতাবনগরের ফাঁকা জমিতে শরতের সৌন্দর্যের ডালি সাজিয়ে বসে আছে কাশফুল। পরিবার নিয়ে এ ঋতুতে ঘুরে আসতে পারেন আপনিও। তবে বিকালে যাওয়াই ভালো।
দিয়াবাড়ি : উত্তরা দিয়াবাড়িতে কাশবন রয়েছে। কাশবনের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি ফটোসেশনের জন্য দিয়াবাড়ি একটি আদর্শ জায়গা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এখানে বিনোদনপ্রেমীদের আনাগোনা বাড়তে থাকে। আর কাশবনের পাশে নদীর তীরের হিমেল বাতাস আলোড়িত করে দর্শনার্থীদের।
সারিঘাট : ঢাকার যাত্রাবাড়ী বা তার আশপাশে যারা আছেন, তারা ঘুরে আসতে পারেন সারিঘাট। নগরের যান্ত্রিক দিক থেকে সরে কিছুটা প্রাকৃতিক ছোঁয়ার জন্য জায়গাটা মন্দ নয়। সবুজে ঘেরা পরিবেশ আর সঙ্গে নৌকা ভ্রমণ আপনার মন ভালো করে দেবে। এখানে এলে হারিয়ে যাবেন গ্রাম বাংলার চিরচেনা প্রকৃতির মাঝে।
কেরানীগঞ্জ : বাবুবাজার বুড়িগঙ্গা সেতু অতিক্রম করে ঢাকা-মাওয়া হাইওয়ে ধরে যেতে থাকলে দেখা পাওয়া যাবে কাশবন। এখানে কাশবনের পরিমাণ এতই বেশি যে পুরো এলাকা কাশফুলে সাদা হয়ে থাকে।
মায়াদ্বীপ : মেঘনার বুকে কাশফুলের মায়া ছড়িয়ে আছে মায়াদ্বীপ। এ দ্বীপে শুধু কাশফুলের সৌন্দর্য উপভোগই নয়, বোনাস হিসেবে এখানকার মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গেও পরিচিত হতে পারবেন। ঢাকার গুলিস্তান থেকে বাসে বৈদ্যের বাজার এসে সেখান থেকে মেঘনার ঘাট হয়ে ইঞ্জিন নৌকা ভাড়া করে মায়াদ্বীপ যাওয়া যায়।
মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ : নদীর তীরবর্তী বালুময় প্রান্তরে শরতে কাশফুলের মেলা বসে। আর বুড়িগঙ্গা তীরের মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ কাশফুলের তেমনি এক রাজ্য। এ ছাড়া বসিলা সড়ক ধরে এগিয়ে ওয়াশপুরের বিভিন্ন ফাঁকা জমিতে কাশফুলের সমারোহ দেখা যায়।
প্রবা/জিকে/জেও/