গোলাম কিবরিয়া
প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২২ ১৪:২৬ পিএম
আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২২ ১৪:৩১ পিএম
চন্দ্রনাথ পাহাড় ছবি: আমার বাংলাদেশ ট্রাভেল গ্ৰুপ
চন্দ্রনাথ পাহাড় ছবি: আমার বাংলাদেশ ট্রাভেল গ্ৰুপ
'একটুখানি সবুজ খুঁজি/ কই সে সবুজ বন/কে আমাকে ফিরিয়ে দেবে/সেই সে সবুজ মন' সঞ্জীব দা'র গানের অনুভূতি নিয়েই যেন আমরা ১২ জন টিম যাত্রা শুরু সীতাকুণ্ডের উদ্দেশে। এনা পরিবহনে মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে সীতাকুণ্ড বাজার এর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করি আমরা রাত ১২.০০ টায়।
এনার দুরন্ত গতিতে ছুটে চলা বাসের সাথে আমাদের মনটাও যেন ছুটে চলছিল অজানায়। সেই সাথে বাসে টিমের বেশ কয়েকজনের অসাধারণ সব গান এক দারুন অনুভূতি তৈরী করেছিল সবার মনে। ভাবছিলাম এইতো জীবন, অসাধারণ জীবন। ভোর ৬.০০ টায় সীতাকুণ্ড বাজার স্টপেজে আমরা নামলাম। বেশি সকাল থাকায় তখন আর নাস্তা করা হয়নি। অটোতে করে চললাম পাহাড়ের উদ্দেশে। ১২ জন দুই অটোতে ছুটতে থাকলাম সবুজ ছোয়ার গন্তব্যে। যথারীতি গন্তব্যে পৌঁছে বাশ ভাড়া নিয়ে হালকা নাস্তা সেরে শুরু হলো আমাদের চন্দ্রনাথ পাহাড় অভিযান। শুরুতেই চন্দ্রনাথ নিয়ে কিছু বলে নিই। চন্দ্রনাথ সবার কাছে এখন অতিপরিচিত নাম হলেও এর কিছু ঐতিহাসিক এবং ধর্মীয় গুরুত্ব রয়েছে।যা সবার জেনে রাখা উচিত।
চন্দ্রনাথ পাহাড়
সীতাকুণ্ড পাহাড় হিমালয় হতে বিচ্ছিন্ন হিমালয়ের পূর্বাঞ্চলীয় অংশ। এই পাহাড়টি হিমালয়ের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক ঘুরে ভারতের আসাম এবং ত্রিপুরা রাজ্যের মধ্য দিয়ে ফেনী নদী পার হয়ে চট্টগ্রামের সঙ্গে মিশেছে। চট্টগ্রাম অংশে ফেনী নদী থেকে চট্টগ্রাম শহর পর্যন্ত এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৭০ কিলোমিটার। এই পাহাড়ের পাদদেশে নির্মিত হয়েছে সীতাকুণ্ড ইকো পার্ক। বাংলাদেশের সীতাকুন্ডের নিকটে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের উপরে অবস্থিত চন্দ্রনাথ মন্দির অন্যতম বিখ্যাত শক্তিপীঠ। সীতাকুণ্ড অপরূপ প্রাকৃতিক সৌর্ন্দয্যের লীলাভূমি । এ এলাকাকে হিন্দুদের বড় তীর্থস্থান বলাই ভালো । এখানের সর্বোচ্চ পাহাড় চুড়ায় অবস্থিত চন্দ্রনাথ মন্দির । আর অন্যান্য আরো রয়েছে বড়বাজার পূজা মন্ডপ, ক্রমধেশ্বরী কালী মন্দির, ভোলানন্দ গিরি সেবাশ্রম, কাছারী বাড়ী, শনি ঠাকুর বাড়ী, প্রেমতলা, শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রাহ্মচারী সেবাশ্রম, শ্রী রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম, গিরিশ ধর্মশালা, দোল চত্বর, এন,জি,সাহা তীর্থযাত্রী নিবাস, তীর্থ গুরু মোহন্ত আস্তানা, বিবেকানন্দ স্মৃতি পঞ্চবটি, জগন্নাথ আশ্রম, শ্রীকৃষ্ণ মন্দির, মহাশ্মশানভবানী মন্দির, স্বয়ম্ভুনাথ মন্দিগয়াক্ষেত্, জগন্নাথ মন্দির, বিরুপাক্ষ মন্দির, পাতালপুরী, অন্নপূর্ণা মন্দির ইত্যাদি। এখানে হিন্দু পবিত্র গ্রন্থসমূহ অনুসারে সতী দেবীর দক্ষিণ হস্ত পতিত হয়েছিল। সীতাকুন্ডের চন্দ্রনাথ মন্দির তীর্থযাত্রীদের জন্য এক পবিত্র স্থান। এর পুরনো নাম ছিলো "সীতার কুন্ড মন্দির"।
শুরু হলো যাত্রা
৬.৩০ টায় আমরা ১২ জন শুরু করলাম ট্রেকিং। টিমের আমাদের বেশিরভাগেরই ট্রেকিং করার খুব একটা অভিজ্ঞতা নেই। তাই কিছুদূর এগিয়েই সবাই বুঝতে পারলো ট্রেকিংটা খুব একটা সহজ হবেনা। আরো বেশ কিছু টিম আসায় আমরা একসাথে প্রায় ৩০ জনের মত ছিলাম। উঁচু নিচু বাঁকা পথ বেয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। ক্লান্ত হয়ে কখনো দাঁড়িয়ে আবার কখনোবা বসে আমরা বিশ্রাম নিয়েছি। চারিদিকে সবুজের সমারোহ। দূর পাহাড়ে যেন মেঘের আনাগোনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পাহাড়ের কোনো কোনো অংশে আবার মন্দিরও দেখা যাচ্ছে। আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। মাঝে এক পর্যায়ে বন্ধু হাসান বেশ ক্লান্ত হয়ে রণে ভঙ্গ দেবার জো হয়েছিল। পানি আর খেজুর দেবার পর আবার গা ঝাড়া দিয়ে উঠে হাসান। আমরা এগিয়ে যাচ্ছিতো যাচ্ছি। এভাবে প্রায় ১ ঘন্টা ১৫ মিনিট বা ১ ঘন্টা ২৫ মিনিট পরে আমরা পৌঁছে যাই চন্দ্রনাথ এর চূড়ায়। চূড়ায় রয়েছে মন্দির। চূড়া থেকে চারিদিকে দেখা যায় শুধু সবুজ পাহাড়। কোন পাশে আবার মেঘের খেলা চলছে। কি অসাধারণ দৃশ্য ভাষায় লিখে বোঝানোর মত না।

শরীরে যত ক্লান্তি ভর করেছিল তা যেন এক নিমিষেই নাই হয়ে গেলো। সবাই বেশ কিছুক্ষন এই সৌন্দর্য উপভোগ করলাম। ছবি তোলা হলো দলবেঁধে। পাহাড়ি কলা, ডাব আর পানি খেয়ে বিশ্রাম নিয়ে নামার জন্য প্রস্তুতি শুরু হলো। উঠার সময় যে কষ্টটা হয়েছিল নামতে গিয়ে তা না হলেও যথেষ্ট সাবধানে পা ফেলতে হয়েছে। কারণ অনেকটা পথ উপরে উঠায় পায়ে একধরণের ঝিম ভাব চলে আসে। শরীরের ভারসাম্য ঠিক রাখতে সমস্যা হয়। নামার এই সময়টায় খুব মনোযোগ দিয়ে আমরা নামলাম। সবুজের অবগাহন করে এগিয়ে যেতে থাকলো ১২ তরুণ। মনে তখন চন্দ্রনাথ বিজয়ের উৎফুল্ল অনুভূতি।
প্রবা/জিকে