গোলাম কিবরিয়া
প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৪ ০০:০১ এএম
আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৪ ০০:০২ এএম
ছবি: নাকিব নিজাম
'পর্যটন অন্যান্য পেশার মতোই একটা পেশা। দেশের অন্য আট দশটা সেক্টরের মতোই এই সেক্টরের সঙ্গে বহু মানুষের জীবিকা জড়িত। সেখানে কিভাবে একটা পর্যটন স্পট বন্ধ করে দিতে পারে!' নভেম্বরে সেন্টমার্টিনে রাতযাপন নিষেধসহ আরও কিছু সিদ্ধান্তের এক প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেন ই-ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইটাব) এর সভাপতি ইমরানুল আলম।
তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, আমরা জানলাম নভেম্বর মাসে পর্যটকরা রাতে সেন্টমার্টিনে থাকতে পারবেন না। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে পর্যটকরা রাতে থাকতে পারবেন। তবে এ দুই মাস সর্বোচ্চ ২ হাজার পর্যটক সেখানে যেতে পারবেন। এ ছাড়া ফেব্রুয়ারিতে পর্যটকরা দেশের একমাত্র এ প্রবাল দ্বীপে যেতে পারবেন না। অথচ আমি থাইল্যান্ড, নেপাল বা ইন্দোনেশিয়ায় দেখলাম ১২ মাস পর্যটন চালু থাকে। সেখানে চেষ্টা করা হয় কিভাবে বিদেশী পর্যটক বাড়ানো যায়। আমাদের দেশে বিদেশী পর্যটক কম থাকলেও লোকাল পর্যটকের সংখ্যা অনেক। অথচ আমরা তাদের ঘরে বসিয়ে দিচ্ছি। দেশের পর্যটন স্থান বন্ধ রেখে বিদেশে ভ্রমণে অনুপ্রাণিত করছি।'
ইটাব সভাপতি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, বিগত ৪-৫ বছরে লোকাল পর্যটন আশীর্বাদ হিসেবে যেখানে থাকার কথা ছিল তা যেন এখন অভিশাপে পরিণত হচ্ছে। কোন কিছু হলেই পর্যটন সবার আগে আক্রান্ত হয়। আমি একজন সাধারণ উদ্যোক্তা, আমিতো নিরুপায়। এভাবে পর্যটন ক্ষতিগ্রস্ত হলে আমাদের আন্দোলনে নামতে হবে। আমরা সাধারণ উদ্যোক্তারা সর্বশান্ত হয়ে যাবো। সেন্টমার্টিনে ১১ হাজার মানুষ বাস করে। এরা সবাই পর্যটনের উপর নির্ভরশীল। সেন্টমার্টিনে পর্যটন বন্ধ হলে এরা সবাই বেকার হয়ে যাবে। আমাদের মতো তরুণ উদ্যোক্তাদের আর্থিক বিনিয়োগ এখন ঝুঁকির মুখে। মাননীয় উপদেষ্টাদের প্রতি অনুরোধ লক্ষাধিক মানুষের জীবিকাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে এমন সিদ্ধান্ত থেকে আপনারা সরে আসুন।'
উল্লেখ্য, পরিবেশ সুরক্ষার স্বার্থে সেন্টমার্টিনে পর্যটক সংখ্যা সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার উপপ্রেস সচিব অপূর্ব জাহাঙ্গীর এ কথা জানান। তিনি বলেন, নভেম্বর মাসে পর্যটকরা রাতে সেন্টমার্টিনে থাকতে পারবেন না। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে পর্যটকরা রাতে থাকতে পারবেন। তবে এ দুই মাস সর্বোচ্চ ২ হাজার পর্যটক সেখানে যেতে পারবেন। এ ছাড়া ফেব্রুয়ারিতে পর্যটকরা দেশের একমাত্র এ প্রবাল দ্বীপে যেতে পারবেন না। এ সময় দ্বীপটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হবে বলে জানান উপপ্রেস সচিব। অপূর্ব জাহাঙ্গীর বলেন, দ্বীপ এবং এর পরিবেশ রক্ষার জন্যই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।