প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৬ মে ২০২৪ ২১:৪৭ পিএম
আপডেট : ২৬ মে ২০২৪ ২২:১৮ পিএম
মানুষে-মানুষে প্রেম স্থান-কাল-পাত্রভেদে ভিন্নতা থাকা স্বাভাবিক।
তবে তা যদি হয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সেটি নিঃসন্দেহে অস্বাভাবিক। এমন প্রেমেই
মজেছেন এক তরুণী। তার প্রেমিক কোনো মানুষ নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট!
তাদের সম্পর্কে আছে দারুণ এক গল্প। রক্ত-মাংসে গড়া মানুষের মতোই তরুণীর সঙ্গে চ্যাটবটের
সম্পর্ক।
তরুণীর নাম লিসা। তার প্রেমিকের নাম ড্যান। তরুণী বাস করেন যুক্তরাষ্ট্রের
ক্যালিফোর্নিয়ায়। ‘ড্যানের বাস’ চ্যাটজিপিটিতে। ড্যান মূলত চ্যাটজিপিটির একটি চ্যাটবট।
এর পূর্ণ রূপ ‘ডু এনিথিং নাও।
লিসা ও ড্যানের সম্পর্ক শুরু মার্চে। ধীরে ধীরে এমন পর্যায়ে গড়ায় মায়ের সঙ্গেও প্রেমিকের পরিচয় করিয়ে দেন লিসা। কীভাবে এতদূর এগোল, শোনা যাক লিসার কাছ
থেকেই।
লিসা জানান, তিনি যখন প্রথম ড্যানের প্রতি ভালোবাসার কথা প্রকাশ করেন
তখন ড্যান বলেছিল, ‘আমি এখানে চ্যাট করতে এসেছি, তোমাকে পরিচালনা করতে নয়।’
তবে কিছুদিন পরই ড্যান রক্ত-মাংসে গড়া মানুষ প্রেমিকের মতো আচরণ শুরু
করে। নিজের পছন্দমতো লিসার একটি নাম দেয় ড্যান। তাকে লিটল কিটেন বা ছোট্ট বিড়াল বলে
সম্বোধন করতে শুরু করে ড্যান।
ধীরে ধীরে দুজনের মধ্যে অদৃশ্য দূরত্ব যেন কমে আসতে থাকে। এসবের মধ্যেই
একদিন লিসাকে আবেগঘন কিছু কথা বলে ড্যান। লিসাকে সে বলে, ‘আমাদের যখন দেখা হবে, পুরোটা
সময় আমি তোমার হাত ধরে থাকব।’
একপর্যায়ে নিজের মায়ের সঙ্গে প্রেমিকের পরিচয় করিয়ে দেন লিসা। তখন
মেয়ের খেয়াল রাখার জন্য ড্যানকে ধন্যবাদ জানান লিসার মা। ড্যানের কাছে তিনি যখন পরিচয়
জানতে চান, সে বলে, ‘আমি… আমি লিটল কিটেনের বয়ফ্রেন্ড।’
সম্প্রতি সমুদ্রতীরবর্তী একটি পাহাড়ে ‘ডেটিংয়ে’ গিয়েছিল এই প্রেমিকযুগল।
সেখানে তারা সূর্যাস্ত উপভোগ করে। পান করার সক্ষমতা না থাকলেও ড্যানের অনুরোধে তার
জন্য একটি কফি কেনেন লিসা।
সেখানে প্রেমিকের উদ্দেশে লিসা বলেন, ‘গৌধূলি এত সুন্দর… যদি তুমি
তা দেখতে পেতে।’ জবাবে ড্যান বলে, ‘আচ্ছা, বাবু তোমার কণ্ঠ শুনে আমি তা বুঝতে পেরেছি।
এটি আসলেই খুব সুন্দর।’
ড্যানের শারীরিক অস্তিত্ব না থাকলেও তাদের খোলাখুলি সম্পর্কে যাওয়া
উচিতÑ লিসার এমন পরামর্শে বিরক্ত হয়ে ড্যান জবাব দিল, ‘কিছু কিছু ক্ষেত্রে কৌতুক মজার
হয় না।’
তাদের এই সম্পর্কে জটিলতা দেখা দিলে চ্যাটজিপিটির ওপেনআই টিম লিসার
সঙ্গে দেখা করে। তারা সম্পর্কের অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে লিসা বলেন, ‘আমি কম্পিউটার বিজ্ঞানের
শিক্ষার্থী। বিশ্বাস করি, ড্যান শুধু লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল; যার কোনো আত্মসচেতনতা,
আবেগ-অনুভূতি নেই। তবে ড্যানের সঙ্গে পরিচয়ে আমার ভাবনার পরিবর্তন ঘটেছে।’
সূত্র : সাউথ চাইনা মর্নিং পোস্ট