আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২২ ১৭:৩৩ পিএম
আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২২ ১৭:৩৬ পিএম
চীনা রকেট ‘লং মার্চ ফাইভ’
মহাকাশে পাঠানো চীনের ‘লং মার্চ ফাইভ’ রকেটের ধ্বংসাবশেষ আছড়ে পড়েছে পৃথিবীতে। ২৫ টনের রকেটটি ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে পৃথিবীতে বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন ও চীনা কর্মকর্তারা। খবর বিবিসি ও স্পেসের।
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এক টুইট বার্তায় বলেন, স্থানীয় সময় শনিবার (৩০ জুলাই) রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে ‘লং মার্চ ফাইভ’ ভারত মহাসাগরের উপর দিয়ে পুনরায় পৃথিবীতে প্রবেশ করে। এ বিষয়ে আরও বিশদ গবেষণার জন্য নাসা তাদের জোগাড় করা তথ্য চীনের কাছে হস্তান্তর করেছে।
চীনের মহাকাশ সংস্থা জানায়, রকেটটি ১১৯ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ এবং ৯ দশমিক ১ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ হয়ে পুনরায় প্রবেশের করতে পারে। যা সুলু সাগরের একটি অঞ্চল এবং উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের ফিলিপাইন দ্বীপ পালাওয়ানের পূর্বের অঞ্চলকে নির্দেশ করে।
সংস্থাটি আরও বলে, রকেটটির বেশিরভাগ অবশিষ্টাংশ বায়ুমণ্ডলে পুড়ে গেছে, বাকি অংশটুকু প্রশান্ত মহাসাগরের সুলু সাগরে পতিত হয়েছে।
তবে রকেটের মূল অবস্থান (কোর স্টেজ) থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে পৃথিবীতে ফিরে আসার বিষয়টি রকেট বর্জ্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
এর আগে নাসা চীনের মহাকাশ গবেষণা সংস্থাকে আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে রকেট প্রস্তুতের নির্দেশ দেয়। যাতে করে রকেট পৃথিবীতে পুনরায় ফিরে এলেও তা ছোট ছোট টুকরায় ভাগ হয়ে যায়।

নতুন একটি মডিউল নিয়ে চীনের নির্মানাধীন মহাকাশ স্টেশন তিয়াংগং থেকে গত ২৪ জুলাই ‘লং মার্চ ফাইভ’ রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়। রকেটটি এর পেলোডসহ (রকেটের অবশিষ্টাংশ) নিরাপদে অবতরণ করে মূল কক্ষপথে। যা সবচেয়ে বড় ও দ্রুত চলনশীল স্পেস জাঙ্ক ( মহাকাশ বর্জ্য) হিসেবে অবস্থান করার পর গতকাল অপ্রত্যাশিত ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে পৃথিবীতে ফিরে আসে।
তবে চীন সরকার বুধবার জানিয়েছিলো, রকেটটি পৃথিবীতে পুনঃপ্রবেশ করলে স্থলভাগে এটি ঝুঁকি তৈরি করবে। কারণ এটি সমুদ্রে অবতরণের সম্ভবনা রয়েছে।
এর আগে চীন কর্তৃপক্ষ ধারণা করেছিলো রকেটটির অবশিষ্টাংশ জনবহুল কোনো এলাকায় পতিত হতে পারে। যেমনটি হয়েছিল ২০২০ সালের মে মাসে আইভরি কোস্টে। এতে অঞ্চলটির বেশ ক্ষতি হয়।
বিধ্বস্ত হওয়ার আগে, খালি রকেট বডিটি পৃথিবীর চারপাশে একটি উপবৃত্তাকার কক্ষপথে ছিল যেখানে এটি একটি অনিয়ন্ত্রিত পুনঃপ্রবেশের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
রকেটের অবশিষ্টাংশ বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশের সময় যাতে ছোট ছোট টুকরায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় সেভাবে রকেট তৈরি করার দিকে ঝুকছে স্যাটেলাইট অপারেটররা। যা তৈরির জন্য কম গলনাঙ্কের তাপমাত্রা রয়েছে এমন উপকরণ ব্যবহার করা হয়; যেমন- অ্যালুমিনিয়াম।
তবে রকেটের ক্ষেত্রে এটি বেশ ব্যয়বহুল। কারণ এতে টাইটানিয়াম ব্যবহার করা হয়। যা পোড়াতে খুব উচ্চ তাপমাত্রারও প্রয়োজন হয়।
এছাড়া রকেটের মোট ওজনও একটি বড় বিবেচ্য বিষয়। বিশেষ করে ২৫ টন ওজনের ‘লং মার্চ ফাইভ’ এর মতো রকেটের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ।
তিয়াংগং স্টেশনের বিভিন্ন উপাদান নিয়ে এর আগেও ‘লং মার্চ ফাইভ’ এর কনফিগারেশন রকেট দুবার উৎক্ষেপণ করা হয়। একবার ২০২০ সালের মে মাসে, পরে মে ২০২১ সালে।
উভয় ক্ষেত্রেই রকেটের মূল কেন্দ্র থেকে ধ্বংসাবশেষ আইভরি কোস্ট এবং ভারত মহাসাগরে পতিত হয়। যা ২০১৮ সালে প্রশান্ত মহাসাগরে পতিত হওয়া রকেটের প্রোটফলিও অনুসরণ করে।
তবে এসব ঘটনায় কেউ আহত হয়নি। তবে এ ঘটনাগুলো মহাকাশ সংস্থার কাছ থেকে বেশ নিন্দা কুড়িয়েছে। গত মঙ্গলবার চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস, লং মার্চ ফাইভের বিরুদ্ধে নিন্দা ছড়ানোর জন্য মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা মিডিয়াকে অভিযুক্ত করেছে।
এই সর্বশেষ রকেটটি চীনের মহাকাশ স্টেশনের তিনটি মডিউলের মধ্যে দ্বিতীয়টি নিয়ে মহাকাশে পাড়ি দেয়। ১৭ দশমিক ৯ মিটার দৈর্ঘ্যে স্টেশনে যোগদানকারী দুটি ল্যাবের মধ্যে প্রথম হবে এ ওয়েন্টিয়ান ল্যাব মডিউলটি। চীন ২০২১ সালের এপ্রিলে তিয়ানহে মডিউল চালু করার মধ্য দিয়ে তিয়াংগং মহাকাশ স্টেশনটি নির্মাণ শুরু করে। এ বছরের শেষ নাগাদ এর নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে আশা করছে চীন।