মো. ইমরানুর রহমান
প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০২২ ১৩:৫৭ পিএম
আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২২ ১৬:৩২ পিএম
জেফ বেজোসের সুপার ইয়ট ফ্লাইং ফক্স। ছবি : সংগৃহীত
ব্লকচেইন প্রযুক্তির প্রথম মুদ্রা হিসেবে ২০০৯ সালে যাত্রা শুরু করে বিটকয়েন। সাতোশি নাকামোতোর (ছদ্মনাম, আসল পরিচয় নিয়ে বিতর্ক আছে) বানানো এই মুদ্রা আপনি একেবারে শুরুর দিকে যদি ১০০ ডলারের কিনে রাখতেন তাহলে আজ বিলাসবহুল ইয়টের মালিকও হতে পারতেন।
ফোর্বসের প্রতিবেদন বলছে, ২০০৯ সালে ফিনল্যান্ডের কম্পিউটার বিজ্ঞানের ছাত্র সিরিয়স, পেপ্যালের মাধ্যমে প্রথম বিটকয়েন বিক্রি করেছিলেন। ০.০০০৯ ডলারে তিনি ৫ হাজার ৫০টি বিটকয়েন বিক্রি করেছিলেন।
১০০ ডলারে এই দামে বিটকয়েন কিনে রাখা সম্ভব হলে ২০০৯ সালে বিটকয়েন পাওয়া যেত ১ লাখ ১১ হাজার ১১১টিরও বেশি বিটকয়েন।
কয়েন মার্কেট ক্যাপের তথ্য বলছে, বর্তমানে প্রত্যেকটি বিটকয়েনের মূল্য ২০ হাজার ৩৩৭ ডলার। সেই হিসেবে ১ লাখ ১১ হাজার ১১১টি বিটকয়েনের মূল্য দাঁড়াবে ২২৫ কোটি ডলারেরও বেশি।

জেফ বেজোসের ইয়ট ফ্লাইং ফক্সের মূল্য ৫০ কোটি ডলার। সেই হিসাবে ২০০৯ সালে ১০০ ডলারের কেনা বিটকয়েন দিয়ে ২০২২ সালে এসে ‘ফ্লাইং ফক্সের’ মতো ৪টি ইয়ট কেনার পরেও অনেক টাকাই হাতে থেকে যেত।
এ ছাড়া সিরিয়সের বিক্রি করা দামে কেনা ১০০ ডলারের বিটকয়েন ২০২১ সালের নভেম্বরে বিটকয়েনের সর্বোচ্চ দাম ৬৮ হাজার ৯৯১ ডলারে থাকা অবস্থায় বিক্রি করলে পাওয়া যেত ৭৬৬ কোটি ডলারেরও বেশি। বিশ্বের শীর্ষধনীর তালিকায় নাম থাকার জন্য যথেষ্ট।
ঠিক এমন সুযোগ কি কেউ কাজে লাগিয়েছেন?
বিটকয়েনকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়েছেন অনেকেই। এর মধ্যে রয়েছে ভারতের ক্রিপ্টো বিলিয়নিয়ার ভিনেস সুন্দরসেন। ক্রিপ্টো জগতে যিনি মেটাকোভেন হিসেবে পরিচিত। শুরুতে ৫ হাজার ডলারের বিটকয়েন কেনেন তিনি। তবে ঠিক কবে নাগাদ তা কিনেছিলেন, তা স্পষ্ট করেননি তিনি।

মেটাকোভেন পরিচিতি পান যখন গত বছর তিনি ক্রিস্টির নিলামে অংশগ্রহণ করে ৬৯ মিলিয়ন ডলারে ‘দ্য ফার্স্ট ফাইভ থাউজেন্ড ডেজ’ শিরোনামে ডিজিটাল আর্টিস্ট মাইক উইঙ্কল ম্যানের একটি এনএফটি প্রকল্প কিনে নেন। যিনি অনলাইনে বিপল নামে পরিচিত।
আবার এর উলটো ঘটনাও ঘটেছে। ২০১০ সালের ২২ মে ল্যাইজলো হ্যানিসেজ নামের এক ব্যক্তি ১০ হাজার বিটকয়েন দিয়ে একটি পিজ্জা কেনেন। এটি ছিল বিটকয়েন মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে প্রথম কিছু কেনার ঘটনা। বিটকয়েন প্রেমীরা দিনটিকে পিজ্জা ডে হিসেবে উদযাপন করে।

ল্যাইজলো যদি পরিবার নিয়ে পিজা না খেয়ে বিটকয়েনগুলো রেখে দিতেন, তিনি এখন ২০ কোটি ডলারের মালিক থাকতেন।
বিটকয়েন কী?
বিটকয়েন হলো এক ধরনের ডিজিটাল কারেন্সি বা মুদ্রা। অনলাইন জগতে ব্লকচেইন-নির্ভর এই ধরনের মুদ্রাকে ক্রিপ্টোকারেন্সি বলা হয়। সরকার বা রাষ্ট্র এটি উৎপাদন করে না বা জোগান দেয় না। ব্লকচেন প্রযুক্তিতে মাইনিংয়ের মাধ্যমে এটি উৎপাদিত হয়। শা২৫৬ ক্রিপ্টো দ্বারা প্রতিটি ব্লক একটি অপরটির সঙ্গে যুক্ত থাকায় এই মুদ্রা জাল করা প্রায় অসম্ভব। বিটকয়েনের মতো ইথারিয়াম, লাইটকয়েনসহ বহু ক্রিপ্টোকারেন্সি এখন বাজারে রয়েছে।