আলোচনায় বিশেষজ্ঞ মত
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ মে ২০২৩ ১৯:৪৭ পিএম
আপডেট : ২০ মে ২০২৩ ২০:৩২ পিএম
ব্র্যাক সেন্টার ইনে শুক্রবার ‘মোবাইল টাওয়ার রেডিয়েশনের কাল্পনিক ঝুঁকি’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। প্রবা ফটো
আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বাংলাদেশে মোবাইল টাওয়ার বিকিরণ ক্ষতিকর মাত্রার চেয়ে অনেক কম। স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই, বরং এর চেয়ে সূর্যরশ্মির বিকিরণ মাত্রা বেশি। তা ছাড়া মোবাইল টাওয়ারের বিকিরণ মাইক্রোওয়েভ ওভেন, এক্সরে মেশিন, নিম্নমানের মোবাইল ও রাউটারের চেয়েও কম। তবে মোবাইল টাওয়ার বিকিরণ নিয়ে মানুষের মধ্যে ভয় রয়েছে। এটি স্থাপনেও বাধার সম্মুখীন হতে হয়। ফলে প্রয়োজনীয়-সংখ্যক টাওয়ার না থাকায় নেটওয়ার্ক দুর্বল হচ্ছে। মানসম্মত সেবা পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। বর্তমানে শুধু ঢাকাতেই প্রয়োজনের চেয়ে টাওয়ারের সংখ্যা প্রায় অর্ধেক।
শনিবার (২০ মে) ‘মোবাইল টাওয়ার রেডিয়েশনের কাল্পনিক ঝুঁকি’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এসব জানান বিশেষজ্ঞরা। রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে এটির আয়োজন করে টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সাংবাদিকদের সংগঠন টিআরএনবি- টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক, বাংলাদেশ।
আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন টিআরএনবি সভাপতি রাশেদ মেহেদী। প্রধান অতিথি ছিলেন টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন-বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার। এতে আরও বক্তব্য দেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মাহবুব-উল-আলম, বিটিআরসির মহাপরিচালক (ই অ্যান্ড ও) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এহসানুল কবীর, এরিকসন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আব্দুস সালাম, নকিয়া বাংলাদেশের কান্ট্রি হেড মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান, রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম, গ্রামীণ ফোনের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স বিভাগের সিনিয়র ডিরেক্টর হোসেন সাদাত, এমটবের মহাসচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এসএম ফরহাদ, টাওয়ার কোম্পানি ইডটকোর হেড অব রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স মাসুদা হোসেন ও হুয়াওয়ে লিমিটেড বাংলাদেশের প্রিন্সিপাল মার্কেটিং ম্যানেজার এসএম নাজমুল হাসান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি, রেডিয়েশন বিশেষজ্ঞ ও বিটিআরসির উপপরিচালক ড. শামসুজ্জোহা।
বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার বলেন, ‘মোবাইল টাওয়ার রেডিয়েশন নিয়ে ভীতি চরমে। বিভিন্ন স্থান থেকে টাওয়ার সরানোর আবেদন আসছে। সরকারি সংস্থাও মাইক্রোওয়েভ অ্যান্টেনা স্থাপনে বাধা দিচ্ছে। এমনকি আগারগাঁওয়ে বিটিআরসির নতুন ভবনে এটি স্থাপনে বাধা দেওয়া হয়। অথচ বিটিআরসির পরীক্ষায় বারবার দেখা গেছে, বাংলাদেশে মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশন আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের অনেক নিচে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনেও বলা হয়, মোবাইল টাওয়ারের নন-আয়োনাইজিং রেডিয়েশন প্রাণী বা উদ্ভিদের জন্য মোটেও ক্ষতিকর নয়।’
অতিরিক্ত সচিব মাহবুব উল আলম আলম বলেন, ‘দপ্তরগুলোর সমন্বয়ের মাধ্যমে সরকারি ভবনে টাওয়ার স্থাপন জটিলতা দূর করতে হবে। এটির জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ উদ্যোগ নেবে।’
বিটিআরসির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এহসানুল কবীর বলেন, ‘আগের চেয়ে মানুষের ধারণায় পরিবর্তন আসছে। সুপ্রিম কোর্ট ও জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় টাওয়ার স্থাপনের কাজ চলছে।’
মূল প্রবন্ধে ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অন নন-আয়োনাইজিং রেডিয়েশন প্রোটেকশনের (আইসিএনআইআরপি) মানদণ্ড উপস্থাপন করেন ড. শামসুজ্জোহা। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ব্যবহৃত টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তির ২ দশমিক ১০৬ এমডব্লিউ/এম২ (২ দশমিক ১০৬ মিলিওয়াট) মাত্রার রেডিয়েশন গ্রহণযোগ্য। সেখানে বিটিআরসির পরীক্ষায় পাওয়া গেছে গড়ে ০ দশমিক ৫ এমডব্লিউ/এম২ (শূন্য দশমিক ৫ মিলিওয়াট) -এর কম রেডিয়েশন। এতে ভয়ের কিছু নেই। বরং সূর্যরশ্মির বিকিরণ এর চেয়ে বেশি (৫-৭ ওয়াট)। তা ছাড়া স্বাস্থ্য পরীক্ষার এক্সরে মেশিনের আয়োনাইজিং রেডিয়েশন মোবাইল টাওয়ারের বিকিরণের চেয়ে কয়েক লাখ গুণ বেশি।’
তিনি জানান, যত মোবাইল টাওয়ার স্থাপন করা যাবে তত ঝুঁকি কমবে। টাওয়ার কম থাকায় বেশি দূরত্বে সিগন্যাল পৌঁছতে অ্যান্টেনার সক্ষমতা বাড়াতে হয়। এজন্য যে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, এতে বিকিরণ মাত্রা বেড়ে যায়।