প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০২৩ ১৫:০৩ পিএম
আপডেট : ১১ মার্চ ২০২৩ ১৬:০৯ পিএম
ভারতের ইউপিএসসি পরীক্ষায় ফেল করলেও বিসিএসের প্রিলি পরীক্ষায় পাশ করে গেছে চ্যাটজিপিটি। ছবি : সায়েন্স বি
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের এমবিএ পরীক্ষা, যুক্তরাষ্ট্রের মেডিক্যাল
লাইসেন্সিং এক্সাম ও আইনস্কুলগুলোর পরীক্ষায় বেশ ভাল ফলাফলের পর এবার বাংলাদেশ সিভিল
সার্ভিসের (বিসিএস) প্রিলি পরীক্ষাতেও উৎরে যাওয়ার থেকে বেশি নম্বর পেয়েছে চ্যাটজিপিটি।
আর এই পুরো পরীক্ষাটি নিয়েছে বাংলাদেশের বিজ্ঞানভিত্তিক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘সায়েন্স বি’।
৪৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারি প্রশ্নপত্রের আলোকে চ্যাটজিপিটির পরীক্ষা
নেওয়া হয়। এই বিসিএসের পাশ মার্ক ছিল ১২৫-এর মতো। চ্যাটজিপিটি সেখানে ১৩০ পেয়ে উৎরে
গেছে। তবে পরীক্ষা প্রক্রিয়াটি খুব একটা সহজ ছিল না। কারণ চ্যাটজিপিটির বাংলা ভাষায়
দুর্বলতা রয়েছে। ফলে বিসিএসের প্রশ্নগুলো চ্যাটজিপিটির উপযোগী করতে ইংরেজিতে অনুবাদ
করে নেওয়া হয়।
সায়েন্স বি’র প্রতিষ্ঠাতা এস. এম. মবিন শিকদার
প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানিয়েছেন, মোট ২২টি প্রশ্ন ইংরেজিতে অনুবাদ করা সম্ভব ছিল না।
যেহেতু বাংলা ভাষায় দক্ষতা কম থাকা চ্যাটজিপিটিরই দুর্বলতা। তাই ধরে
নেওয়া হয়, প্রশ্নগুলোর উত্তর চ্যাটজিপিটি দিতে অক্ষম। তাই এগুলো বাদ দেওয়া হয়। এর মানে,
চ্যাটজিপিটি এই প্রশ্নের উত্তরগুলো দেয়নি। সেক্ষেত্রে মোট ১৭৮টি প্রশ্নের উত্তর দেয়
ওপেনএআইয়ের বানানো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাটি। একই সঙ্গে বিসিএস পরীক্ষার নিয়মানুযায়ী ভুল
উত্তরের জন্য নেগেটিভ মার্কিংও যুক্ত ছিল।
বাংলাদেশ বিষয়াবলিতে চ্যাটজিপিটি ৩০-এর মধ্যে মোট নম্বর পেয়েছে ২০।
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতে ২০-এর মধ্যে পেয়েছে ১৭.৫। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে ৩৫ নাম্বারের
মধ্যে কোনো মার্ক না পেয়ে উল্টো -১ পেয়েছে চ্যাটজিপিটি। ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে ৩৫
এর মধ্যে পেয়েছে ৩৩.৫। মানসিক দক্ষতায় ১৫-এর মধ্যে পেয়েছে ৬। কম্পিউটারে ১৫ নাম্বারের
মধ্যে পেয়েছে ১৩। গাণিতিক যুক্তিতে ১৫-তে পেয়েছে ১২। সাধারণ বিজ্ঞানে পেয়েছে পুর্ণ
নম্বর ১৫ তে ১৫। নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন বিভাগে এটি পেয়েছে ১০ নম্বরের মধ্যে ৭
এবং ভূগোলে ১০ এর মধ্যে পেয়েছে ৭ নম্বর। সব মিলিয়ে ১৩০ নম্বর পেয়েছে চ্যাটজিপিটি।
প্রশ্ন অনুবাদের কাজ করেছেন মিথিলা ফারজানা মেলোডি ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে
ছিলেন অন্বয় দেবনাথ।
৪৪তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ৩ লাখ
৫০ হাজার ৭১৬ জন। এর মধ্যে ২ লাখ ৭৬ হাজার পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে
পাশ করেছিলেন মোট ১৫ হাজার ৭০৮ জন।
গতবছরের ৩০ নভেম্বর চ্যাটজিপিটি নামের নতুন একটি চ্যাটবট সার্বজনীন
পরীক্ষার জন্য উন্মুক্ত করে এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই। চ্যাটবট হলো এমন এক
সফটওয়্যার, যা একজন ব্যবহারকারীর সঙ্গে মানুষের মতো কথোপকথন চালিয়ে যেতে ডিজাইন করা
হয়েছে।
চ্যাটজিপিটি মেশিন লার্নিং পদ্ধতিতে কাজ করে মানুষের সংলাপ অনুকরণ
করতে পারে, কোনো কিছুর ফলোআপ উত্তর দিতে পারে, ভুল স্বীকার করে শুধরে নিতেও সক্ষম।
ডিজিটাল মার্কেটিং, অনলাইন বিষয়বস্তু তৈরি ও গ্রাহকসেবায় ব্যবহার
করা যেতে পারে চ্যাটজিপিটিকে। কারণ এটি একজন গ্রাহকের আগের কথোপকথন মনে রাখতে সক্ষম।
ভবিষ্যতে এর ব্যবহারের নতুন ক্ষেত্রও সৃষ্টি হতে পারে।