প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০২৩ ১৯:৩৫ পিএম
পলিসি ডায়ালগ অন রোডম্যাপ ফর স্মার্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় উপস্থিতরা। ছবি: সংগৃহীত
সঠিক পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা ও দক্ষ জনবল তৈরি করতে পারলে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টার খাত থেকেই ২০০ থেকে ৩০০ কোটি ডলার আয় করতে পারবে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।
সোমবার (৬ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ভবনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ‘পলিসি ডায়ালগ অন রোডম্যাপ ফর স্মার্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন।
এ সময় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ প্রযুক্তি খাতের সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
বর্তমান বিশ্বে অন্যতম একটা খাত সেমিকন্ডাক্টার। বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে এই শিল্পের ওপর নির্ভরতা বাড়তে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, তাইওয়ান, ভিয়েতনামসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ সেমিকন্ডাক্টার খাত থেকে বছরে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করে। বিশ্বব্যাপী এই বাজার ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি। ফলে বাংলাদেশেও খাতটির সম্ভাবনা রয়েছে বলে তুলে ধরেন সালমান এফ রহমান।
তিনি বলেন, ‘দেশে সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রির বড় সুযোগ আছে। এরইমধ্যে দেশে অনেক বড় বড় কোম্পানি এটা নিয়ে এখন কাজ শুরু করেছে। সেখানেও আইসিটি মন্ত্রণালয় থেকে রোডম্যাপ করা হয়েছে। সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইনার ইঞ্জিনিয়ারিং-এর কাজটা শুরু হয়ে গেছে। ধাপে ধাপে বাকিগুলো হবে। গ্লোবালি এটা ট্রিলিয়ন ডলারের উপরে বাজার আছে। আগামী ৫ বছরের মধ্যে আমরা সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রিতে অন্তত ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করতে পারব।’
তিনি আরও বলেন, ‘সভা থেকে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে কীভাবে আগাবে দেশ তা নিয়ে আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে খোলামেলা আলাপ হয়েছে। আমরা কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি। স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে আরও বৈঠক হবে। আমরা কোথায় আছি, কী কী সিদ্ধান্ত নিয়েছি ভবিষ্যতের জন্য, আরও কী করবো সেটা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আমাদের একটা মাস্টারপ্ল্যান আছে। সেটা বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, তা নিয়ে কথা হয়েছে। আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দক্ষ কর্মী তৈরি। সেখানে আমাদের অনেক অগ্রগতি আছে।’
এ সময় দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির ভবিষ্যতও অনেক ভালো বলে জানান এই ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ। সালমান এফ রহমান বলেন, বাজেটে সরকার এ খাতের জন্য সহায়তা অব্যাহত রেখেছে। তবে দেশে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ওপর বেশি জোর দিতে হবে বলে জানান তিনি।
বৈঠকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘আমাদের এখন মোবাইল নেটওয়ার্ক, ই-সেবা, স্মার্ট কার্ডের মতো মৌলিক অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হয়েছে। এর ভিত্তিতে একটি সার্ভিস ইকোসিস্টেম দাঁড়িয়ে গেছে। এটি ভার্টিকালি আমরা আরও উপরে উঠাতে পারি। কেননা আমাদের মডেলগুলো সারা বিশ্বে প্রশংসিত হচ্ছে। সব ক্ষেত্রেই আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি হয়েছে। ফলে আমরা অবশ্যই ২০৪১ সাল নাগাদ আমাদের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে পারব।’