বার্সেলোনায় মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসের সমাপনী
রাশেদ মেহেদী, স্পেনের বার্সেলোনা থেকে
প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০২৩ ১৯:৪৫ পিএম
আপডেট : ০২ মার্চ ২০২৩ ২০:৩০ পিএম
স্পেনের বার্সেলোনায় শেষ হয়েছে এ বছরের মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস। ছবি : সংগৃহীত
‘ফাইভজি এবং ডাটা পরিচালিত অর্থনীতির অগ্রযাত্রায় যুক্ত হোন’- এই আহ্বানের মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) স্পেনের বার্সেলোনায় শেষ হয়েছে এ বছরের মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস। শেষ দিনে বিশ্বের টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈশ্বিক সংগঠন এবং মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসের আয়োজক জিএসএমএর রিপোর্টে বলা হয়েছে, ফাইভজি এবং ডাটা পরিচালিত অর্থনীতির যাত্রায় বিশ্ব অর্থনীতিতে ২০৩০ সালের মধ্যে মোবাইল টেলিযোগাযোগ খাতের অবদান ৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।
সমাপনী বক্তব্যে জিএসএমএর চেয়ারম্যান হোসে মারিয়া আলভারেজ প্যালেট লোপেজ বলেন, ’বিশ্বের প্রতিটি দেশেরই উচিত এখন ফাইভজি এবং ডাটানির্ভর সমাজ ও অর্থনীতির উপযোগী হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করা। কারণ এ যাত্রায় কারও পিছিয়ে পড়ার অর্থ হবে নিজেদের অর্থনীতির অগ্রগতির উজ্জ্বল সম্ভাবনাকে আটকে রাখা।’
শেষ দিনেও মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস সেন্টারে বিপুল ভিড় ছিল বিভিন্ন দেশ থেকে আসা টেলিযোগাযোগ খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এবং প্রযুক্তিপ্রেমীদের। সকালের প্রচণ্ড ভিড়ের মাত্রা বিকালে বেশ কমে যায়। শেষ বিকালে মিলনমেলা ভাঙার বেদনার সুর। এই সুরের মধ্যেই জিএসএমএ চেয়ারম্যান হোসে মারিয়া আলভারেজ প্যালেট লোপেজ নতুন এবং বিস্ময়কর সম্ভাবনার ঘোষণা দেন।
এবারের মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে উল্লেখ করেন জিএসএমএ চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ’এই কংগ্রেস থেকেই ফাইভজি এবং ডাটানির্ভর আগামী অর্থনীতির গতিময় যাত্রা শুরু হলো। আগামী এক বছরের মধ্যেই সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় লক্ষ্যনীয় পরিবর্তন আনবে ফাইভজি এবং ডাটা প্রযুক্তি। কারণ চলতি বছরের শেষেই কমপক্ষে ১০০ কোটি মানুষ ফাইভজিতে যুক্ত হবে। হয়তো এখন যা প্রত্যাশা করা হচ্ছে, বছর শেষে সেই সংখ্যা আরও বেশি কিংবা দ্বিগুণও হতে পারে। কারণ ফাইভজি এবং ডাটা প্রযুক্তির অগ্রগতির গতি আগের প্রযুক্তির চেয়ে অকল্পনীয় বেশি হবে।’
হোসে মারিয়া আলভারেজ প্যালেট লোপেজ বলেন, ’জিএসএমএর রিপোর্ট অনুযায়ী ফাইভজি ২০২৯ সালের মধ্যেই বিশ্বের প্রভাবশালী প্রযুক্তিতে পরিণত হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের ৮৫ শতাংশ মানুষ ফাইভজিতে যুক্ত হয়ে যাবে। ২০২৩ সালের মধ্যেই বিশ্বব্যাপী ফাইভজি সংযোগ ১৫০ কোটিতে পৌঁছাবে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এই সংযোগের পরিমাণ কমপক্ষে ৫০০ কোটি হবে। ফাইভজি ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতিতে আরও ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার (এক হাজার বিলিয়ন) যোগ করবে এবং প্রতিটি সেক্টরকে যুক্ত করবে। বিশেষ করে নাগরিক পরিষেবা এবং শিল্প উৎপাদন খাতে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখবে ফাইভজি। সার্বিকভাবে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতিতে টেলিযোগাযোগ খাতের অবদান ৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।’
ফাইভজি এবং ডাটানির্ভর প্রযুক্তির অর্থনীতিতে যুক্ত হতে ছোট-বড় সব দেশকে এ বছরের মধ্যেই প্রস্তুতি নিতে হবে বলে জানান জিএসএমএর চেয়ারম্যান। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ’ফাইভজি প্রযুক্তির বিকাশের গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য প্রস্তুতি না থাকলে ডাটানির্ভর স্মার্ট অর্থনীতির বিপুল সম্ভাবনা থেকে বঞ্চিত হতে হবে। আর সেটা কোনো দেশের ক্ষেত্রে ঘটলে তা পুরো বৈশ্বিক অর্থনীতির অগ্রযাত্রার ওপরই নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এ কারণে ডাটানির্ভর সমাজ এবং অর্থনীতিতে কারও পিছিয়ে পড়ার কিংবা রাখার সুযোগ নেই।’ জিএমএমএর চেয়ারম্যান ছোট অর্থনীতির দেশগুলোকে ফাইভজি এবং ডাটানির্ভর সমাজ এবং অর্থনীতির জন্য প্রস্তুত করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
সমাপনী ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে আগামী বছরের মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসের তারিখ এবং সময়সূচি ডিজিটাল স্ক্রিনে ভেসে ওঠে। ২০২৪ সালে বার্সেলোনায় মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হবে ২৬ থেকে ২৯ ফেব্রুয়ারি।