প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৯:১০ পিএম
আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৯:২০ পিএম
ভারতে গত বছর সর্বাধিক ৮৪ বার ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়। সরকারের জোরপূর্বক ইন্টারনেট বন্ধের একটি বিজ্ঞপ্তি। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর। ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বের ৩৫টি দেশের সরকার ২০২২ সালে ১৮৭ বার ইন্টারনেট বন্ধ করেছে, যা ২০১৬ সালের পর সর্বোচ্চ। গত বছর সর্বাধিক ৮৪ বার ইন্টারনেট বন্ধ করেছে ভারত। তারপরেই রয়েছে ইরান ও মিয়ানমার।
ইন্টারনেট অধিকারবিষয়ক গ্রুপ অ্যাক্সেস নাউ ও কিপইটঅনের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনের বরাতে গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৬ সাল থেকে গ্রুপ দুটি বিশ্বের সরকারগুলোর ইন্টারনেট বন্ধ, ইন্টানেটে হয়রানি ইত্যাদির পরিসংখ্যান রাখছে। তখন থেকে আর কখনও এক বছরে ৩৫ দেশে ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনা ঘটেনি।
তার আগে ২০১৯ সালে ৩৩টি দেশে ২১৩ বার ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনা ঘটে। ২০২০ সালে একইসংখ্যক দেশে ইন্টারনেট বন্ধ করা হয় ১৫৯ বার।
গত বছর ভারতে বেশিসংখ্যক ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনা ঘটেছে জন্মু-কাশ্মিরে। ২০১৯ সালে অঞ্চলটির স্বায়ত্তশাসনের অধিকার কেড়ে নেওয়ার পর থেকে সেখানে দফায় দফায় ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়।
ভারতের পর সর্বোচ্চ ১৮ বার ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনা ঘটেছে ইরানে। মিয়ানমারে ঘটেছে সাতবার। তবে গত বছর ইউক্রেনে ২২ বার ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনা ঘটেছে। রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলায় এমনটি হওয়ায় তা সরকারের জনবিরোধী কার্যক্রম হিসেবে ধরা হয়নি।
এদিকে ২০২২ সালে একটা ইতিবাচক বিষয় ঘটেছে। ২০২১ সালে নির্বাচন উপলক্ষে বিশ্বের অন্তত ১২টি দেশে ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছিল। ২০২২ সালে তা ঘটেছে মাত্র পাঁচটিতে।
তবে চলতি বছর পাকিস্তান, গণপ্রজাতান্ত্রিক কঙ্গো, গুয়াতেমালা, জিম্বাবুয়েতে জাতীয় নির্বাচনের কথা রয়েছে। অ্যাক্সেস নাউ ও কিপইটঅনের শঙ্কা নির্বাচন উপলক্ষে এসব দেশ ইন্টারনেট সাময়িকভাবে বন্ধ করতে পারে।
গত বছরের নভেম্বরের আগ পর্যন্ত টানা দুই বছরের বেশি সময় ইন্টারনেট বন্ধ রেখে রেকর্ড গড়ে ছিল পূর্ব আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়া। দেশটির যুদ্ধকবলিত টাইগ্রে অঞ্চলে ওই সময় ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল।
অ্যাক্সেস নাউয়ের কর্মকর্তা ফেলিসিয়া অ্যান্থোনিও বলেন, ’ইন্টারনেট ব্যবহার মানুষের মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে। এটা তথ্য জানার ও যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বিরোধীদের দমন করতে সরকার ইন্টারনেট বন্ধের মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এর মধ্য দিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়। এটা নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে।’
সূত্র : গার্ডিয়ান