প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২২ ১৭:৪৯ পিএম
আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২২ ০১:১২ এএম
ছবি: বিবিসি।
যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা তাদের নতুন চন্দ্রযান স্পেস লঞ্চ সিস্টেমের (এসএলএস) যাত্রা স্থগিত করেছে।
বিবিসি জানিয়েছে ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের কেনেডি স্পেস সেন্টার ছাড়ার দুই ঘণ্টা আগে এই ত্রুটি ধরা পড়ে। কিন্তু ইঞ্জিনের ত্রুটি মেরামতে ব্যর্থ হন বিশেষজ্ঞরা।
এর আগে জানানো হয় রকেটটি কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ৮টা ৩৩ মিনিটে উৎক্ষেপণ করা হবে।
এটি নাসার তৈরি করা অন্যতম শক্তিশালী একটি যান। আর্টেমিস প্রকল্পের ভিত্তি হবে এটি, যার লক্ষ্য হলো মানুষকে চন্দ্রপৃষ্ঠে ফিরিয়ে নেওয়া। এ চন্দ্রযাত্রা ২০৪০ সাল নাগাদ মঙ্গলগ্রহে যাত্রার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
এসএলএসের মূল কাজ পৃথিবী থেকে দূরে ওরিয়ন নামক একটি টেস্ট ক্যাপসুলকে চালানো। ছয় সপ্তাহ ধরে চাঁদের চারপাশ প্রদক্ষিণ করবে ওরিয়ন। এরপর মহাকাশযানটি পৃথিবীতে ফিরে আসবে।
ওরিয়ন এই প্রদর্শনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত না থাকলেও এর সব হার্ডওয়্যার ঠিকঠাক কাজ করবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এ যাত্রা সফল হলে মহাকাশচারীরা ২০২৪ সালে আরও জটিল মিশনের জন্য প্রস্তুতি নেবে।
নাসার মহাকাশচারী রেন্ডি ব্রেসনিক বলেন, এই আর্টেমিস ১ যানের প্রদর্শন ও ফলাফল আর্টেমিস ২-এর মিশনের ঝুঁকি কমিয়ে দেবে।
চলতি বছরের এই সময়ে ফ্লোরিডার আবহাওয়া খুব পরিবর্তনশীল হয়ে গেছে। এর মধ্যে মহাকাশযান উৎক্ষেপণকেন্দ্রে বেশ কয়েকবার বৈদ্যুতিক ঝড় হয়েছে।
তাই আগামী সপ্তাহে ওরিয়ন উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা থাকলেও তা এগিয়ে আনা হয়েছে।
সকালের দিকে আবহাওয়া শান্ত থাকে বলে এ সময়কে উৎক্ষেপণের জন্য বাছাই করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ৮টার পরে মহাকাশযান উৎক্ষেপণে অনুকূল আবহাওয়ার সম্ভাবনা থাকে ৮০ শতাংশ।
১৯৬৯ সালে নিল আর্মস্ট্রং ও বাজ অলড্রিন চাঁদে প্রথম যাত্রার মধ্য দিয়ে মহাকাশ গবেষণার একটি স্বর্ণযুগের সূচনা করেছিলেন। তাদের অ্যাপোলো প্রোগ্রামটি আমাদের গ্রহ এবং গ্রহের বাসিন্দাদের কীভাবে দেখি, সে ধারণায় পরিবর্তন এনেছে। পঞ্চাশ বছর আগে যারা অ্যাপোলো প্রোগ্রাম দেখেননি, তারা আর্মেটিসের মাধ্যমে নতুন এ যাত্রার সাক্ষী হয়ে থাকতে পারবেন।
স্পেস লঞ্চ সিস্টেমের যাত্রা শুধু নাসা নয়, বরং পুরো ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার জন্য একটি বড় মুহূর্ত বলে উল্লেখ করা হয়।
প্রবা/এনএস/এমআই