স্মার্ট কানেকটিভিটি ফর স্মার্ট বাংলাদেশ সেমিনার
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২৩:১৪ পিএম
‘স্মার্ট কানেকটিভি ফর স্মার্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে আলোচকরা। প্রবা ফটো
অবৈধদের দাপটে অসহায় অবস্থায় রয়েছেন বৈধ আইএসপি (ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান) ব্যবসায়ীরা। দেশে চারটি ক্যাটাগরিতে বৈধ আইএসপির সংখ্যা ২ হাজার ৮৪৯। অথচ লাইসেন্সবিহীন বা অবৈধ ইন্টারনেট ব্যবসায়ীর সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার। অবৈধরা শুধু সংখ্যায় বেশি নয়, তাদের রাজনৈতিক ক্ষমতা ও পেশিশক্তিও বেশি। ফলে বৈধ ব্যবসায়ীরা সরকারকে নিয়মিত কর দিয়েও ব্যবসার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন। আর অবৈধরা সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়েও রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ‘স্মার্ট কানেকটিভি ফর স্মার্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে বৈধ ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবির নেতারা এ তথ্য জানিয়েছেন। সেমিনারে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, অবৈধ ব্যবসায়ীরা বৈধ কোনো আইএসপির কাছ থেকেই ব্যান্ডউইথ কিনছে। কারা বৈধ লাইসেন্স নিয়ে লাইসেন্সবিহীন ব্যবসায়ীদের কাছে ব্যান্ডউইথ বিক্রি করছে, তা খুঁজে বের করা দরকার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক আগামী দিনের প্রযুক্তির বিপদ সম্পর্কে এখন থেকেই সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবস্থা এবং ডিজিটাল প্লাটফর্ম নিশ্চিত না করা গেলে স্মার্ট বাংলাদেশ বুমেরাং হবে।
টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) এ সেমিনার আয়োজন করে। টিআরএনবি সভাপতি রাশেদ মেহেদীর সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যামসুন্দর সিকদার ও মহাপরিচালক (সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিল্যান্স) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসিম পারভেজ, পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (অপারেশন্স) হায়দার আলী খান, ইন্টারনেট সেবাদাতাদের সংগঠন আইএসপিএবির সভাপতি ইমদাদুল হক, মহাসচিব নাজমুল করিম ভুঁইয়া, মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটবের মহাসচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এস এম ফরহাদ, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির, টিআরএনবির সাবেক সভাপতি ও নগদের হেড অব কমিউনিকেশন জাহিদুল ইসলাম সজল এবং বৈধ লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করতে গিয়ে হয়রানির শিকার ভুক্তভোগী তিন ব্যবসায়ী। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অ্যামটবের সাবেক মহাসচিব ও ফরেন চেম্বার্স অ্যান্ড কমার্সের নির্বাহী পরিচালক টি আই এম নুরুল কবির। স্বাগত বক্তব্য দেন টিআরএনবির সাধারণ সম্পাদক মাসুদুজ্জামান রবিন।
সেমিনারে আগত তিন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী অবৈধদের হাতে নানান হয়রানির শিকার হওয়ার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। অনুষ্ঠানে আইএসপিএবির মহাসচিব জানান, চার ক্যাটাগরিতে বৈধ লাইসেন্সধারীর সংখ্যা ২ হাজার ৮৪৯। কিন্তু লাইসেন্সবিহীন অবৈধ ব্যবসায়ীর সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার। তাদের অনেকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ও পেশিশক্তির অধিকারী। তাদের দাপটে বৈধ ব্যবসায়ীরা এখন অসহায়। আইএসপিএবির সভাপতি বলেন, বৈধ ব্যবসায়ীরা সরকারকে নিয়মিত কর দেন, লাইসেন্স নবায়ন ফি দেন। কিন্তু অবৈধরা কিছুই দেন না। তাদের দাপটের কারণে শুধু বৈধ ব্যবসায়ীদের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়ছে না, বরং সরকারও কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। তিনি জানান, কেবল টিভির সংযোগের ব্যবসার সঙ্গে যুক্তরাই মূলত অবৈধভাবে ইন্টারনেট সংযোগ দিচ্ছে। তিনি বৈধ আইএসপি ব্যবসায়ীদের মধ্যে অ্যাকটিভ শেয়ারিং ব্যবস্থা চালুর জন্য বিটিআরসির প্রতি আহ্বান জানান।
ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী এ বিষয়ে বলেন, অবৈধভাবে যারা ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার ব্যবসা করছে তারা লাইসেন্সপ্রাপ্ত কোনো বৈধ প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেই ব্যান্ডউইথ পাচ্ছে। কারা অবৈধ ব্যবসায়ীদের ব্যান্ডউইথ দিচ্ছে তা চিহ্নিত করা জরুরি। এক্ষেত্রে আইএসপিএবি নেতাদেরও দায়িত্ব আছে।
শক্তিশালী ইন্টারনেট সেবাব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি আগামী দিনের স্মার্ট প্রযুক্তির বিপদের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশের বড় চ্যালেঞ্জ হবে নিরাপত্তা। এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে স্মার্ট বাংলাদেশ বুমেরাং হয়ে মাথার ওপর ভেঙে পড়বে। সুতরাং, সবাইকে এখন থেকেই সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে।
বিটিআরসির চেয়ারম্যান বলেন, বিটিআরসি থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত সবগুলো সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শর্ত হচ্ছে কোয়ালিটি অব সার্ভিস নিশ্চিত করা। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান সেটা না করে তাহলে আইন ও বিধি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। স্মার্ট কানেকটিভিটির জন্য কোয়লিটি অব সার্ভিস সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বিটিআরসির মহাপরিচালক (এস এস) বলেন, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবসার ক্ষেত্রে বাধাগুলো দূর করে স্মার্ট ও নিরাপদ কানেকটিভিটি গড়ে তুলতে হবে। কারণ, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার মূল ভিত্তিই হবে স্মার্ট কানেকটিভিটি।
পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (অপারেশন্স) হায়দার আলী খান বলেন, ‘ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবটিক্স প্রযুক্তি এলে তার সঙ্গে বড় বিপদও আসতে পারে। রোবট আপনার ঘরের জানালা ভেঙে মাথার কাছে পিস্তল ঠেকিয়ে সর্বস্ব লুটে নিতে পারবে। ড্রোন রোবট উপর থেকে আপনার ওপর গুলি চালানোর মতো হামলা করতে পারে। অনলাইনে আপনার ছবি বিকৃত করে আপনাকে ব্ল্যাকমেল করতে পারে ভার্চুয়াল রোবট। অতএব ভবিষ্যতে তথ্যপ্রযুক্তির স্মার্ট উদ্ভাবনের পাশাপাশি স্মার্ট বিপদ সম্পর্কেও সচেতন হতে হবে।’