প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৩ ১০:৩৫ এএম
আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২৩ ১৮:০১ পিএম
যেমন হতে পারে অ্যাপল হেডসেট। ছবি : ইয়ান জেলবো
অগমেন্টেড রিয়েলিটি ও ভার্চুয়াল রিয়েলিটিকে বলা হচ্ছে প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ।
বিশ্বব্যাপী ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা, মাইক্রোসফট ও গুগলের মতো বড় বড় প্রযুক্তি
প্রতিষ্ঠানগুলো এরই মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রযুক্তি নিয়ে কাজ শুরু করেছে। অ্যাপলও এর ব্যতিক্রম
নয়। গত পাঁচ বছর ধরে এআর/ভিআর প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রযুক্তি জগতে গুঞ্জন রয়েছে, এ বছরই মেটাভার্সে জোর কদমে চলতে শুরু করবে
অ্যাপল ইনকর্পোরেটেড। অনলাইনে ফাঁস হওয়া তথ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রে বেশ কিছু পেটেন্টের
আবেদনের প্রেক্ষিতে বোঝা যাচ্ছে, চলতি বছরই এআর/ভিআর হেডসেট আনতে যাচ্ছে তারা। অ্যাপলের
হেডসেট কেমন হতে পারে সে সংক্রান্ত কিছু ধারণাও পাওয়া গেছে।
ডিজিটাল ট্রেন্ডসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভবত
অ্যাপলের হেডসেটটির কাঠামোর উপাদান হবে অ্যালুমিনিয়াম, কার্বন ফাইবার ও গ্লাস। এটি
১২০ ডিগ্রি পর্যন্ত ডিসপ্লে সাপোর্ট করবে। এখন পর্যন্ত বাজারে যতগুলো হেডসেট আছে, এর
মধ্যে অ্যাপলের ভিআর হেডসেটের ভিজ্যুয়াল হতে যাচ্ছে সবচেয়ে চওড়া। অথচ একই সঙ্গে হেডসেটটি
হবে খুবই হালকা।
এতে সরাসরি সংযুক্ত করা যাবে এয়ারপডস প্রো ২। এইচ২ চিপ শব্দের ক্ষেত্রে
এয়ারপডসে লো লেটেন্সি নিশ্চিত করবে।
অ্যাপলের এআর/ভিআর হেডসেটের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয়টি হলো এতে আইওএস অ্যাপ্লিকেশনগুলো
দ্বিমাত্রিক পর্দার মতো চালানো যাবে। যদি এমনটি হয়, তবে অন্যান্য হেডসেটের তুলনায় অ্যাপল
এগিয়ে যাবে। ফেসবুকের সবশেষ ওকুলাস
কোয়েস্ট থ্রি বা বাজারে থাকা অন্য কোনো হেডসেটে এমন ফিচার নেই। এআর/ভিআর অ্যাপ নিয়ে
সদ্য ডেভেলপাররা কাজ শুরু করায় এ ধরনের বিশেষায়িত অ্যাপ অত্যন্ত কম। হেডসেটের অ্যাপগুলো
হবে অ্যাপল রিয়েলিটি কিট সফটওয়্যার দিয়ে তৈরি করা তবে ব্যাপক জনপ্রিয় ইউনিটি ডেভেলপার
কিটের অ্যাপও অ্যাপলের হেডসেটে চলতে পারে। তবে নিশ্চিত করে এ বিষয়ে এখনও কিছু বলা যাচ্ছে
না।
এ ছাড়া অ্যাপলের হেডসেটের জন্য বানানো ভিআর অ্যাপগুলো মুখের নড়াচড়া শনাক্ত
করে অ্যাভাটারে তা ফুটিয়ে তুলতে পারবে এবং এর ব্যবহারকারীকে অগমেন্টেড রিয়েলিটির একেবারে
বাস্তব অভিজ্ঞতা দেওয়ার জন্য এতে ৮টি ক্যামেরা যুক্ত থাকবে। ফলে এটি খুব ভালোভাবেই
আমাদের সত্যিকার জগতের মানচিত্র অঙ্কন করতে পারবে।
৮টি ক্যামেরা কাজে লাগিয়ে বাস্তব বস্তু বা অবকাঠামোর সঙ্গে সুনির্দিষ্ট
দূরত্ব বজায় রেখে ভার্চুয়াল বস্তু স্থাপন করতে পারবে। এ ছাড়া আইফোনের হোম বাটনের মতো
একটি পাওয়ার বাটন থাকতে পারে, যা টাচ আইডিরও কাজ করবে।
কোম্পানিটি এ বছরই গেমিং, স্ট্রিমিং এবং যোগাযোগের বিষয়গুলো মাথায় রেখে
হেডসেটের জন্য আলাদা স্টোর খুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে অন্যান্য এআর/ভিআর হেডসেটের তুলনায় অ্যাপলের ভিআরের দাম বেশি হবে বলে
ধারণা করা হচ্ছে। সম্ভবত এআর/ভিআর হেডসেটপ্রেমীদের এটি পেতে ২ থেকে ৩ হাজার ডলার ব্যয়
করতে হতে পারে।