প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
মো. উজ্জল মিয়া। প্রবা ফটো
ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের এ সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বিশ্বজুড়ে কাজের ধরণ বদলে দিচ্ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন প্রজন্মকে দক্ষ করে তুলতে কাজ করে যাচ্ছেন দেশের এক তরুণ ফ্রিল্যান্সার ও প্রশিক্ষক, নাম মো. উজ্জল মিয়া। দীর্ঘদিনের বাস্তব অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি বর্তমানে AI-ভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
তার ফ্রিল্যান্সিং যাত্রা শুরু হয় ২০১৬ সালে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে। শুরু থেকেই অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করার পাশাপাশি নিজের দক্ষতা বাড়ানোর প্রতি ছিল বিশেষ আগ্রহ। সেই ধারাবাহিকতায় ভারতের একটি অনলাইন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ও গ্রাফিক ডিজাইনের ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। অর্জিত জ্ঞান বাস্তব কাজে প্রয়োগ করে ধীরে ধীরে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ক্লায়েন্টের সঙ্গে কাজের সুযোগ তৈরি হয়।
প্রযুক্তির পরিবর্তনের সাথে নিজেকেও নিয়মিত যুগোপযোগী রাখার লক্ষ্যে ২০২৪ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে Video Editing, VFX এবং Artificial Intelligence (AI) বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এরপর থেকে AI-ভিত্তিক কনটেন্ট তৈরি, ভিডিও প্রোডাকশন এবং ডিজিটাল মিডিয়ার বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের কয়েকটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ পান।
বর্তমানে তিনি AI-ভিত্তিক একটি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, যেখানে অংশগ্রহণকারীদের আধুনিক প্রযুক্তির বাস্তব ব্যবহার শেখানো হয়। তার কোর্সে AI-কে কীভাবে দৈনন্দিন কাজের কার্যকর সহযোগী হিসেবে ব্যবহার করা যায়, কীভাবে AI-এর সাহায্যে প্রফেশনাল মানের ছবি ও ভিডিও তৈরি করা যায় এবং সেই ভিডিও CapCut-এর মাধ্যমে সম্পাদনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য আকর্ষণীয় কনটেন্ট তৈরি ও প্রকাশ করা যায়—এসব বিষয় হাতে-কলমে শেখানো হয়।
তবে এই উদ্যোগের লক্ষ্য কেবল প্রযুক্তি শেখানো নয়। তার মতে, দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি বাস্তব কর্মপরিবেশে কাজ করার মানসিকতা ও সক্ষমতা তৈরি করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই প্রশিক্ষণ শেষে যোগ্য অংশগ্রহণকারীদের নিজের টিমে যুক্ত করে বাস্তব প্রজেক্টে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে তাদের নিজস্ব ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার গড়ে তুলতেও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
তিনি বিশ্বাস করেন, আগামী দিনের কর্মক্ষেত্রে AI একটি অপরিহার্য দক্ষতায় পরিণত হবে। তাই এখন থেকেই এই প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং এর সঠিক ব্যবহার শেখা সময়ের দাবি। বিশেষ করে যারা এখনো AI নিয়ে কাজ শুরু করেননি বা বিষয়টি সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা নেই, তাদের জন্য সহজ ভাষায় ও ব্যবহারিক উপায়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
তার ভাষায়, প্রযুক্তি মানুষের বিকল্প নয়; বরং সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে এটি মানুষের কাজকে আরও দ্রুত, সহজ ও কার্যকর করে তোলে। সেই লক্ষ্য নিয়েই তিনি এমন একটি দক্ষ জনবল তৈরি করতে চান, যারা ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর কর্মবাজারে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কাজ করতে পারবেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের তরুণ-তরুণীদের AI ও ডিজিটাল দক্ষতায় প্রশিক্ষিত করে একটি শক্তিশালী পেশাদার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলাই তার মূল লক্ষ্য। দক্ষ জনশক্তি তৈরি, বাস্তব কাজের সুযোগ সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক মানের ফ্রিল্যান্সার তৈরির মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখার প্রত্যয় নিয়েই তিনি এগিয়ে যেতে চান। তার বিশ্বাস, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সঠিক দিকনির্দেশনার মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।