মুহিন তপু
প্রকাশ : ১০ নভেম্বর ২০২৫ ১৭:০১ পিএম
আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২৫ ১৭:২৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বর্তমান সময়ে অফিসের কাজ থেকে শিক্ষা, স্টুডেন্ট প্রজেক্ট, ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং কিংবা সাধারণ বিনোদন- সব ক্ষেত্রেই ল্যাপটপ এমন এক যন্ত্র, যা প্রায় প্রতিদিন ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু নতুন ল্যাপটপের দাম অনেকের সামর্থ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে। বিশেষ করে ডলারের দামের ওঠানামা, প্রযুক্তিজনিত বাড়তি কর ও ব্র্যান্ডভেদে অতিরিক্ত মূল্য- সব মিলিয়ে উন্নত কনফিগারেশনের একটি নতুন ল্যাপটপ কেনা সব সময় সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাই অনেকেই ঝুঁকছেন পুরনো বা সেকেন্ডহ্যান্ড ল্যাপটপ কেনার দিকে, যেখানে তুলনামূলক কম দামে মানসম্মত পারফরম্যান্স পাওয়া যায়।
তবে পুরনো ডিভাইস কেনা মানেই যে সাশ্রয়ী সিদ্ধান্তÑ তা সব সময় সত্য হয় না। সচেতনতা ছাড়া কেনার ফলে লুকিয়ে থাকা হার্ডওয়্যার সমস্যা, ব্যাটারির দুর্বলতা, অতিরিক্ত গরম হওয়া, ডিসপ্লের ত্রুটি বা নকল/রিফার্বিশড অংশ ব্যবহার করা হয়েছেÑ এসব সমস্যায় বিপাকে পড়তে হয় ব্যবহারকারীকে।
তাই কেনার আগে কিছু বিষয় জানা এবং হাতে-কলমে যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।
ল্যাপটপের বাহ্যিক অবস্থা
প্রথমেই ল্যাপটপের বাহ্যিক অবস্থা দেখে নেওয়া উচিত। বডিতে ফাটল, স্ক্র্যাচ, ডেন্ট বা পড়ে যাওয়ার চিহ্ন আছে কি নাÑ তা খেয়াল করতে হবে। বিশেষ করে ল্যাপটপের হিঞ্জ বা ঢাকনা খোলার জোড়াটি যদি ঢিলা থাকে, তাহলে এটি ভবিষ্যতে ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। কিবোর্ডের প্রত্যেকটি কী চাপ দিয়ে দেখা উচিত, কারণ কিবোর্ড রিপ্লেস করা ব্যয়সাপেক্ষ। টাচপ্যাডের স্ক্রলিং, ক্লিক ও সেন্সিটিভিটি ঠিক আছে কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
প্রসেসর ও জেনারেশন
এরপর গুরুত্ব আসে প্রসেসর ও জেনারেশনের। ল্যাপটপ যত শক্তিশালী কাজের জন্য ব্যবহার করা হবেÑ প্রসেসরের ক্ষমতা তত গুরুত্বপূর্ণ। ইন্টেল প্রসেসর হলে i5 বা i7, আর AMD হলে Ryzen 5 বা Ryzen 7 বেছে নেওয়া ভালো। একই প্রসেসরের বিভিন্ন জেনারেশনের মধ্যে পারফরম্যান্সের পার্থক্য অনেক বেশি। তাই ৮ম জেনারেশনের চেয়ে ১০ম বা ১১তম জেনারেশন নেওয়া শ্রেয়।
র্যাম ও স্টোরেজ
র্যাম ও স্টোরেজ ল্যাপটপের গতি নির্ধারণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। বর্তমানে ন্যূনতম ৮ জিবি র্যাম থাকা প্রয়োজনীয়। আর স্টোরেজের ক্ষেত্রে HDD-এর চেয়ে SSD অনেক দ্রুত কাজ করে। বিশেষ করে NVMe SSD ব্যবহৃত হলে ল্যাপটপ কয়েক সেকেন্ডেই চালু হয় এবং সফটওয়্যার দ্রুত লোড নেয়। তাই পুরনো ল্যাপটপ হলেও SSD থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যাটারি
পুরনো ল্যাপটপগুলোর সবচেয়ে বড় সমস্যা দেখা যায় ব্যাটারিতে। দীর্ঘ ব্যবহারে ব্যাটারির চার্জ ধারণক্ষমতা কমে যায়। Windows-এ Battery Report এবং macOS-এ Battery Cycle Count দেখে ব্যাটারি স্বাস্থ্য যাচাই করা সম্ভব। যদি ব্যাকআপ এক-দেড় ঘণ্টার বেশি না থাকে, তাহলে ব্যাটারি পরিবর্তনের খরচ বিবেচনায় রাখতে হবে।
স্ক্রিন ও ডিসপ্লে
স্ক্রিন বা ডিসপ্লে পরীক্ষা করাও অপরিহার্য। ল্যাপটপ চালু করে সাদা, কালো ও বিভিন্ন রঙের ব্যাকগ্রাউন্ডে স্ক্রিনে ডেড পিক্সেল বা রঙের অমিল আছে কি না দেখা উচিত। IPS ডিসপ্লে চোখের জন্য আরামদায়ক এবং রঙ স্বাভাবিক দেখায়, যা কাজের অভিজ্ঞতা উন্নত করে।
তাপমাত্রা ও ফ্যানের কর্মক্ষমতা
এ ছাড়া ল্যাপটপ ১০-১৫ মিনিট ব্যবহার করে তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যাবে ডিভাইসটি অতিরিক্ত গরম হচ্ছে কি না। দীর্ঘ ব্যবহারে প্রসেসর থ্রটলিং বা ফ্যানের অতিরিক্ত শব্দ দেখা দিলে কুলিং সিস্টেমে সমস্যা থাকার সম্ভাবনা থাকে।
সবশেষে আসল চার্জার আছে কি না, বিক্রেতা কোনো রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি দিচ্ছে কি নাÑ এসব নিশ্চিত হওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, কমপক্ষে ৭ থেকে ১৫ দিনের রিপ্লেসমেন্ট সুবিধা থাকলে কেনা নিরাপদ।
পুরনো ল্যাপটপ কেনা সাশ্রয়ী সিদ্ধান্ত হতে পারেÑ কিন্তু তাড়াহুড়ো করলে ঝুঁকি রয়েছে। তাই প্রয়োজন, ধৈর্য, পর্যবেক্ষণ ও সচেতনতা। সঠিকভাবে যাচাই করে কেনা হলে তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামে ভালো মানের পারফরম্যান্স পাওয়া যায়।