প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৫ ১৮:৩৯ পিএম
ভিডিও দেখার আসক্তি নিয়ন্ত্রণে নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছে ইউটিউব। শর্টস ভিডিওর অবিরাম স্ক্রলিং ঠেকাতে এবার অ্যাপে যুক্ত হচ্ছে সময় নির্ধারণের (টাইমার) একটি নতুন ফিচার।
অনেক সময়ই ব্যবহারকারীরা একটি ছোট ভিডিও দেখতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ইউটিউবে কাটিয়ে ফেলেন। এই আচরণ নিয়ন্ত্রণে আনতেই প্ল্যাটফর্মটি নতুন ‘শর্টস টাইমার’ চালু করছে বলে জানিয়েছে ইউটিউব।
ব্যবহারকারীরা চাইলে অ্যাপের সেটিংস থেকে প্রতিদিন শর্টস দেখার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা ঠিক করে দিতে পারবেন। সময়সীমা পূর্ণ হলে একটি পপ-আপ বার্তা দেখা যাবে, যেখানে জানানো হবে— আজকের মতো শর্টস দেখা বন্ধ। তবে এই বার্তাটি আপাতত ব্যবহারকারীরা ইচ্ছা করলে ডিসমিস (বন্ধ) করতে পারবেন।
এই বছরের শুরুতে অ্যান্ড্রয়েড অথরিটি ইউটিউবের একটি অ্যাপ ফাইল (এপিকে) বিশ্লেষণ করে ফিচারটির প্রাথমিক সংস্করণ খুঁজে পায়। পরে ইউটিউব আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে যে তারা শর্টসের জন্য সময়সীমা নির্ধারণের ফিচার নিয়ে কাজ করছে।
তবে কোম্পানিটি জানিয়েছে, ফিচারটি এখনো প্যারেন্টাল কন্ট্রোল বা অভিভাবকীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়নি। ফলে বাবা–মায়েরা এখনই তাদের সন্তানদের জন্য শর্টস দেখার নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দিতে পারবেন না। ইউটিউব বলছে, ২০২৬ সালে এই সুবিধা চালু হলে শিশু ব্যবহারকারীরা সতর্কবার্তাটি উপেক্ষা করতে পারবে না।
এর আগেও ইউটিউব ব্যবহারকারীদের অনলাইন আসক্তি নিয়ন্ত্রণে ‘টেক আ ব্রেক’ এবং ‘বেডটাইম রিমাইন্ডার’ নামের দুটি ফিচার চালু করেছিল।
‘টেক আ ব্রেক’ ফিচারে ব্যবহারকারী চাইলে প্রতি ১৫, ৩০, ৬০, ৯০ বা ১৮০ মিনিট পর পর একটি বিরতি নেওয়ার রিমাইন্ডার পেতে পারেন। সেই সময় ভিডিও থেমে যায় এবং ব্যবহারকারী চাইলে আবার চালু করতে পারেন বা অ্যাপ বন্ধ করতে পারেন।
অন্যদিকে, ‘বেডটাইম রিমাইন্ডার’ ফিচারে নির্দিষ্ট ঘুমানোর সময় ঠিক করে দিলে সেই সময় পৌঁছালে ইউটিউব জানিয়ে দেয়— এখন বিশ্রামের সময়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ফিচার ইউটিউবের ‘ডিজিটাল ওয়েলবিইং’ নীতির অংশ হিসেবে দায়িত্বশীল উদ্যোগ হলেও, এগুলো যেহেতু ঐচ্ছিক, তাই ব্যবহারকারীদের প্রকৃত সময় ব্যয় কমাতে তেমন প্রভাব ফেলতে পারে না।
এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় দুই হাজার মামলা চলছে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানির বিরুদ্ধে। অভিযোগ— প্ল্যাটফর্মগুলো সচেতনভাবেই আসক্তিকর ডিজাইন তৈরি করছে, যা শিশু ও কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।