ইয়াসিরের স্মার্ট পিল
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৫ ১৮:৫৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
মানবদেহে অন্ত্র বা গাটকে দ্বিতীয় মস্তিষ্ক বলা হয়; কারণ এটি শুধু হজমেই নয়, আমাদের আবেগ ও মানসিক স্বাস্থ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। এবার এমন একটি স্মার্ট পিল উদ্ভাবন করেছেন চট্টগ্রামের সন্তান ড. ইয়াসির খান, যা গাট ও ব্রেনের সংযোগ Gut-Brain Axis ট্র্যাক করতে পারে সম্পূর্ণ non-invasive পদ্ধতিতে।
ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার (USC) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ড. ইয়াসিরের উদ্ভাবিত এ ingestible smart pill চালের দানার মতো ছোট। গিলে খাওয়ার পর এটি গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ট্র্যাক্টে চলার সময় শরীরের ভেতর গ্যাস, কেমিক্যাল এবং নিউরাল অ্যাকটিভিটি পরিমাপ করে।
পিলটিতে এমন সেন্সর রয়েছে যা গ্যাস্ট্রাইটিস মার্কার, আবেগ-সম্পর্কিত নিউরোকেমিক্যালস ও এমনকি নিউরোডিজেনারেটিভ ডিজঅর্ডার পর্যন্ত শনাক্ত করতে পারে। এর তথ্য রিয়েল টাইমে পাঠানো হয় শরীরে পরিধেয় একটি ওয়্যারেবল কয়েলের মাধ্যমে, যা একটি মোবাইল অ্যাপের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে।
এ প্রযুক্তির সফল পরীক্ষা ইতোমধ্যে ইঁদুরের ওপর সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে মানবদেহে পরীক্ষার আশা করছেন ড. ইয়াসির। তার মতে এ পিলের মাধ্যমে গ্যাস্ট্রিক, ক্যানসার শনাক্তকরণ, মানসিক স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ, এমনকি targeted drug deliveryও সম্ভব হবে। গ্যাস্ট্রাইটিস ট্র্যাক করার একটি ব্যাসিক সংস্করণ কয়েক হাজার টাকায় বাজারে আসতে পারে।
চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা ইয়াসির টেক্সাস, কিং আবদুল্লাহ ইউনিভার্সিটি, ইউসি বার্কলে এবং স্ট্যানফোর্ডের মতো প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা ও গবেষণা করেছেন। তার নেতৃত্বে USC-এর খান ল্যাবে কাজ হচ্ছে স্মার্ট পিল ছাড়াও ঘামের রাসায়নিক বিশ্লেষণ করে মানসিক অবস্থা ট্র্যাক করার ওয়্যারেবল সেন্সরের ওপর, যা ডিপ্রেশন ও বাইপোলার ডিজঅর্ডার চিহ্নিত করতে পারবে।
তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ এবং এয়ার ফোর্স অফিস অব সায়েন্টিফিক রিসার্চের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছেন। ২০২৪ সালে পেয়েছেন প্রতিষ্ঠিত প্যাকার্ড ফেলোশিপ, ২০২৩ সালে গুগল রিসার্চ অ্যাওয়ার্ডসহ আরও একাধিক সম্মাননা। ইতোমধ্যে প্রকাশ করেছেন ৬০টির বেশি গবেষণাপত্র।
ড. ইয়াসিরের লক্ষ্য এ অত্যাধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোয় সহজলভ্য করা।