× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ব্লকচেইন নিয়ে দু'চার কথা

দেবাশীষ বিশ্বাস

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২২ ১৬:৪৭ পিএম

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২২ ১৭:৪৭ পিএম

ছবি: অনলাইন

ছবি: অনলাইন

টেকদুনিয়ায় ব্লকচেইন পুরনো প্রযুক্তি হলেও বর্তমানে এটি আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। আমরা অনেকেই বিটকয়েনের নাম নিশ্চয়ই শুনেছি। বিটকয়েন একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি যার কোন বাস্তবিক রূপ নেই। এই বিটকয়েন ক্রিপ্টোকারেন্সি আসলে ব্লকচেইন প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করেই তৈরি। আজকের আমরা ব্লকচেইন টেকনোলজি নিয়ে আলোচনা করব।

ব্লকচেইন কি? 

ডাটা ব্লকের একটি দীর্ঘ শৃঙ্খলকে ব্লকচেইন নাম দেওয়া হয়েছে। এই ক্রিপ্টোগ্রাফি প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডেটা এনকোড করা হয়। যা একে অপরের সাথে সংযুক্ত হয়ে একটি দীর্ঘ চেইন তৈরি করে। প্রতিটি ব্লকে রয়েছে তার ঠিক আগের ব্লকের একটি ক্রিপ্টোগ্রাফিক হ্যাশ, একটি টাইমস্ট্যাম্প এবং লেনদেনের তথ্য। এবং এভাবে প্রতিটি ব্লকের সাথে সম্পর্কিত ডেটা তার পাশের ব্লকে সংরক্ষিত থাকে। সুতরাং একবার ব্লকে ডেটা রেকর্ড হয়ে গেলে এই ডেটা আর মুছে ফেলা যায় না।

ব্লকচেইনের পিছনে প্রধানত তিনটি প্রযুক্তি কাজ করে-

১. ব্যাক্তিগত কী ক্রিপ্টোগ্রাফি

২. পিটুপি নেটওয়ার্ক 

৩. প্রোগ্রাম (ব্লকচেইন প্রোটোকল) 

১৯৯১ সালে স্টুয়ার্ট হ্যাবার এবং ডব্লিউ স্কট স্টর্নেটা নামের দুই ব্যাক্তি ক্রিপ্টোগ্রাফিক টেকনোলজি ব্যবহার করে ব্লকচেইন ব্যখ্যা করেছিলেন সর্বপ্রথম। তাদের প্রযুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল টাইমস্ট্যাম্প ডিজিটাল ডকুমেন্টস তৈরি করা। যার মাধ্যমে তথ্যের ধরণ [টেম্পার] পরিবর্তন করা না। তাদের এই কাজের সাফল্য না আসার কারণে এর ব্যবহারও বিস্তার লাভ করেনি।

পরে ২০০৮ সালে সাতোশি নাকামোতো নামে এক পরিচয়বিহীন ব্যক্তি  ক্রিপ্টোকারেন্সি তথা বিটকয়েনের লেনদেনের জন্য ব্লকচেইন টেকনোলজির ব্যবহার শুরু করেন। তারপর থেকে বিশ্বব্যাপি ব্লকচেইন প্রযুক্তি অনেক বেশী আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

বিটকয়েন এবং ব্লকচেইনের মধ্যে পার্থক্য 

ব্লকচেইন এবং বিটকয়েন দুটোই সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। প্রকৃতপক্ষে, ব্লকচেইন এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে ডিজিটাল মুদ্রা থেকে আরম্ভ করে যে কোনো জিনিস ডিজিটালাইজ করা বা তার রেকর্ড রাখা যায়। অর্থাৎ ব্লকচেইন একটি ডিজিটাল খাতা। অন্যদিকে, বিটকয়েন একটি ডিজিটাল মাধ্যম। যা ব্যবহার করে কোন জিনিস বিক্রি ও কেনা যায়।

যদিও এটিকে মুদ্রা বলা ভুল, কারণ বাস্তব জগতে এর আকারের কোন অস্তিত্ব নেই। ক্রিপ্টোকারেন্সি নেটওয়ার্কগুলিও ব্লকচেইন প্রযুক্তি দ্বারা পরিচালিত হয়। 

ব্লকচেইন যেভাবে কাজ করেঃ 

ডেটা স্টোর করে রাখার জন্য সব থেকে নিরাপদ একটি মাধ্যম ব্লকচেইন। ব্যাংকিং ও বিনিয়োগখাত থেকে শুরু করে ক্রিপ্টোকারেন্সি তথা বিটকয়েনের মত বিভিন্ন ডেটা ব্লকচেইনে স্টোর করে রাখা হয়। ব্লকচেইন = ব্লক + চেইন, এই সিস্টেমে প্রতিটি ব্লককে এক একটি একাউন্ট হিসেবে ধরা হয়। যার প্রত্যেকটি ব্লক একে অপরের সঙ্গে চেইনের আকারে বাঁধা থাকে। এই আলাদা আলাদা ব্লকে ডেটা স্টোর থাকে।

সিকিউরিটির জন্য প্রত্যেকটি ব্লকে একটি ইউনিক নাম্বার থাকে, যা হ্যাশ নামে পরিচিত। লেনদেন ব্যবস্থাপনা জন্য হ্যাশিং এর মাধ্যমে উচ্চ মানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়ে থাকে। যার ফলে এখানে হস্তক্ষেপ করা প্রায় অসম্ভব।

ব্লকচেইন প্রযুক্তির সুবিধা

নিরাপত্তা

ব্লকচেইন সিস্টেমে ব্যবহারকারীর পরিচয় গোপন থাকায় এটি নিরাপদ। প্রতিটি লেনদেন ক্রিপ্টোগ্রাফি কৌশল দ্বারা এনক্রিপ্ট করা হয়। হ্যাশিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতিটি ব্লকের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা হয়। প্রতিনিয়ত তথ্যগুলো আপডেট হওয়ার কারণে এখানে তথ্য চুরি বা দূর্নীতির সুযোগ নেই।

স্বচ্ছতা

ব্লকে ডেটা রেকর্ড করার পূর্বে ব্লকচেইনের লেনদেন যাচাই করা হয়। ফলে সিস্টেমে ডেটা মুছে ফেলা যায় না এবং ডেটার স্বচ্ছতা বজায় থাকে।

ঝামেলাহীন

ব্লকচেইন প্রযুক্তিতে লেনদেন এর জন্য কোন তৃতীয় পক্ষের প্রয়োজন হয় না। ফলে বিশ্বের যে কোনো জায়গা থেকে যে কেউ খুব সহজেই লেনদেন করতে পারে। যা বর্তমানে প্রচলিত ব্যাংকিং সিস্টেম থেকে অনেকটাই ঝামেলামুক্ত। ব্লকচেইন প্রযুক্তির ব্যবহার ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। 

তবে ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি নিম্নলিখিত সেক্টরগুলোয় ব্যবহার করা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে-

১. ব্যাংকিং এবং বীমা সেক্টর

২. সাইবার নিরাপত্তা

৩. তথ্যপ্রযুক্তি এবং তথ্য ব্যবস্থাপনা

৪. তথ্য সংরক্ষণ এবং তথ্য আদানপ্রদান

৫. সরকারী কর্মপরিকল্পনা

৬. গোয়েন্দা ব্যুরো

৭. শিক্ষা

৮. স্বাস্থ্য

ব্লকচেইন প্রযুক্তি মধ্যস্থতাকারীদের সরিয়ে সব ধরনের লেনদেনের দক্ষতা উন্নত করবে। একই সঙ্গে স্বচ্ছতাও বাড়াবে এবং লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড থেকে সাধারণ মানুষ মুক্তি পাবে। বিশ্বব্যাপী সাইবার সুরক্ষা, ব্যাংকিং এবং বীমার ক্ষেত্রে ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহারের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। 

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে ব্লকচেইন একটি গেমচেঞ্জার হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে যদি এর গুরুত্ব এবং সম্ভাবনা সঠিক সময়ে স্বীকৃতি পায়।

প্রবা/আশা/ দেবি

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা