প্যারিস এআই সামিট
মুহিন তপু
প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০২৫ ১৫:১৩ পিএম
আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২৫ ১৫:৩১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সম্প্রতি প্যারিসে তৃতীয় এআই অ্যাকশন সামিট অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার ও এর জন্য আন্তর্জাতিক নীতিমালা নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হয়। ফ্রান্সের গ্র্যান্ড প্যালেসে আয়োজিত এ সামিটে ১০০টির বেশি দেশের প্রতিনিধি, প্রযুক্তিবিদ, রাজনৈতিক নেতা এবং ব্যবসায়ী অংশগ্রহণ করেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য এআই নীতিমালার চুক্তিতে সই করতে অস্বীকার করেছে।
সামিটের উদ্দেশ্য
এ সামিটের প্রধান লক্ষ্য ছিল এআই প্রযুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং এর সুরক্ষা ও উন্নয়নের জন্য একটি সুসংহত নীতি তৈরি করা। আলোচনায় মূলত এআইয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন বিশ্বব্যাপী সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ সতর্ক করে বলেন, ইউরোপের জন্য এটি একটি সংকেত, কারণ এআই প্রযুক্তিতে তারা পিছিয়ে পড়ছেন।
ছয়টি চুক্তি
সামিট শেষে ৬০ দেশের প্রতিনিধি একটি ঘোষণা স্বাক্ষর করেন, যার মাধ্যমে তারা এআই প্রযুক্তির নিরাপদ, সুষম ও নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। চুক্তির মূল বিষয়গুলো ছিল-
বিশ্বনেতাদের উপস্থিতি
সামিট ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট উদ্বোধন করেন এবং এআইয়ের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে শক্তিশালী নীতিমালা গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরেন। ইউরোপীয় কমিশনের ডিজিটাল প্রধান হেনা ভার্ক্কুনেনও এতে উপস্থিত ছিলেন এবং ইউরোপের এআই নীতিমালার প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করেন। গুগল, মাইক্রোসফট, সেলসফোর্সসহ প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ প্রতিনিধিরাও তাদের অভিমত ব্যক্ত করেন।
বিশ্বের সম্মিলিত উদ্যোগ
এআই প্রযুক্তির উন্নয়ন ও সঠিক ব্যবহারের জন্য একটি নতুন আন্তর্জাতিক উদ্যোগ শুরু হয়েছে, যার নাম ‘কারেন্ট এআই’। এতে ফ্রান্স, জার্মানি, গুগল, সেলসফোর্সসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। তাদের লক্ষ্য পাঁচ বছরের মধ্যে এআই গবেষণা ও উন্নয়নে ২৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করা। এ ছাড়া ফ্রান্সে এআই শিল্পে ১০৯ বিলিয়ন ইউরো বরাদ্দের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বিরোধ
এ সম্মেলনে একটি যৌথ ঘোষণাপত্র স্বাক্ষরিত হলেও যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য এতে সই করেনি। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে সতর্ক করেন এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, চুক্তিটি জাতীয় নিরাপত্তা ও গ্লোবাল গভর্ন্যান্সের প্রশ্নগুলো যথাযথভাবে সমাধান করেনি।
তৃতীয় প্যারিস এআই অ্যাকশন সামিটটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মিলনমেলা হিসেবে গণ্য হচ্ছে, যা বিশ্বব্যাপী এআই প্রযুক্তির নিরাপদ ও নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।