প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৪:৪২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
হ্যাকাররা সম্প্রতি ১৫০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টোমুদ্রা চুরি করেছে বাইবিট থেকে। যা এখন পর্যন্ত ঘটে যাওয়া সবচেয়ে বড় চুরির ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দুবাইভিত্তিক এই ক্রিপ্টো কোম্পানিটি দাবি করেছে, তাদের ব্যবহারকারীদের ক্রিপ্টোমুদ্রা নিরাপদে রয়েছে এবং এই হ্যাকিংয়ের ফলে ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।
কোম্পানিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হ্যাকাররা তাদের ইথেরিয়াম ওয়ালেট থেকে এই অর্থ চুরি করেছে। ইথেরিয়াম হলো বিটকয়েনের পরে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মূল্যের ক্রিপ্টোমুদ্রা।
কোম্পানিটির প্রতিষ্ঠাতা বেন ঝৌ বলেছেন, ‘এ অর্থ কোম্পানিটির মাধ্যমে বা পার্টনারদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে মেটানো যেতে পারে। বাইবিটের মোট সম্পদের পরিমাণ দুই হাজার কোটি ডলার।এ পরিমাণ অর্থ ফিরিয়ে আনা না গেলেও বাইবিট এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবে। আমরা ব্যবহারকারীদের এ ক্ষতি পূরণ করতে পারবো।’
ক্রিপ্টো কোম্পানিটি বলেছে, তাদের বিভিন্ন নিরাপত্তা ফিচারকে কাজে লাগিয়ে ওই অর্থ কোনো অজ্ঞাত ঠিকানায় পাঠিয়েছে হ্যাকাররা।
এ ঘটনার পর শুক্রবার ইথেরিয়ামের মূল্য কমেছে প্রায় চার শতাংশ। ফলে প্রতি কয়েনের মূল্য দুই হাজার ছয়শ ৪১ ডলারে নেমে এসেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি।
এর আগে, ২০২২ সালে ‘রনিন নেটওয়ার্ক’ থেকে ৬২ কোটি ডলার মূল্যের ‘ইথেরিয়াম’ ও ‘ইউএসডি’ কয়েন চুরির ঘটনা ছিল ক্রিপ্টোমুদ্রা চুরির অন্যতম বড় ঘটনা। তবে ওই রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে বর্তমানে বাইবিটের এই খোয়া যাওয়া অর্থ।
২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বাইবিটের প্রাথমিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সাবেক পেপ্যাল প্রধান পিটার থিল।
বাইবিট বলেছে, গোটা বিশ্বে এটির ব্যবহারকারী রয়েছে ৬ কোটিরও বেশি এবং বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সিতে অ্যাক্সেস সরবরাহ করে তারা।
ইলন মাস্কের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে কোম্পানিটি বলেছে, কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছে তারা। পাশাপাশি হ্যাকারদের খুঁজে বের করতে ‘দ্রুত ও বিস্তৃত পরিসরে’ কাজ করছে বাইবিট।
বিবিসি লিখেছে, বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা বিভিন্ন ক্রিপ্টোমুদ্রা বিভাজনের জন্ম দিয়েছে। কারণ, অনেকে কেবল অনুমানের উপর ভিত্তি করে এগুলোর দাম নির্ধারণ করেছেন। ফলে ক্রিপ্টোমুদ্রার মূল্য সহজেই হেরফের করা সম্ভব।