এস এম ইমদাদুল হক
প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০২৪ ১২:৩৫ পিএম
আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৪ ১৩:১৮ পিএম
বছর তিনেক ধরে বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশের চেষ্টা করছে কৃত্রিম উপগ্রহভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক। এর আগে তারা দুবার বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। বিডা বিষয়টি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) জানালে শুরুর দিকে স্টারলিংকের প্রতি বিটিআরসির অনাগ্রহ ছিল।
২০২৩ সালে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড স্টারলিংকের প্রযুক্তি পরীক্ষার জন্য বিটিআরসির অনুমোদন নেয়। পরীক্ষানিরীক্ষার জন্য ওই বছরের জুলাইয়ে বাংলাদেশে আসে স্টারলিংকের কিছু প্রযুক্তি। পরীক্ষায় স্টারলিংক ইন্টারনেটের ডাউনলোড স্পিড ১৫০ মেগাবিট পার সেকেন্ডের মধ্যে পাওয়া যায়। এ সময় নিজেদের ওয়েবসাইটে নতুন কাভারেজে বাংলাদেশের নাম যুক্ত করে স্টারলিংক। এরপর নজরদারি ও জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে আটকে ছিল বিষয়টি। এরই মধ্যে চলতি বছরের উত্তাল সময়ে সে বিষয়টিও চাপা পড়ে যায়। তবে এ মাসেই আবার আলোচনা শুরু করেছে বিডা।
সূত্রমতে, ২১ অক্টোবর এ বিষয়ে স্টারলিংকের গ্লোবাল লাইসেন্সিং এবং মার্কেট অ্যাকটিভেশন বিভাগের পরিচালক রেবেকা স্লিক হান্টারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। বৈঠক শেষে তিনি জানিয়েছেন, ইন্টারনেট সহজপ্রাপ্যতা এখন যৌক্তিকভাবেই লাইফলাইনে। গত জুলাইয়ে যদি দেশে স্টারলিংক থাকত তবে ইন্টারনেট ব্লকেড কোনো বাধা সৃষ্টি করতে পারত না। ভাবা যায়, গ্রামের স্কুলগুলোয় উচ্চগতির ইন্টারনেট, সুন্দরবন থেকেও ফ্রিল্যান্সিং!
তবে বৈঠকে স্টারলিংকের বাংলাদেশে ব্যবসা শুরু করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি তিনি। একই সঙ্গে বিটিআরসি থেকেও এ বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এর আগে ২০২৩ সালের ২৬ ও ২৭ জুলাই স্টারলিংকের প্রতিনিধি জোয়েল মেরিডিথ ও পার্নিল উর্ধারশির সঙ্গে তৎকালীন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এবং আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে বাংলাদেশে স্টারলিংকের ব্যবসা, প্রযুক্তিগত কার্যকারিতা ও বাংলাদেশের আইনের বিষয়ে আলোচনা হয়। এ নিয়ে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ফাহিম মাশুরুর বলেছেন, এটা হলে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু অনেক এক্সপেনসিভ হবে। তবে দেশের অনেক আন্তর্জাতিক কোম্পানি ও এনজিও এটা ব্যবহার করবে।
প্রসঙ্গত, দেশে স্টারলিংকের ইন্টারনেট সেবা পেতে প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার বাবদ গ্রাহক পর্যায়ে খরচ করতে হবে ৫৯৯ ডলার বা ৬৫ হাজার ৯৫৯ টাকা। প্রতি মাসে ফি দিতে হবে ১২০ ডলার বা ১৩ হাজার ২১৩ টাকা। অন্যদিকে দেশে ৫ এমবিপিএস গতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের জন্য ৫০০ ডলার খরচ করতে হয়। মোবাইলে ৩০ গিগাবাইট ইন্টারনেট কিনতে খচর করতে হয় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। তবে স্টারলিংকের কার্যক্রম শুরু হলে দেশের টেলিকম কোম্পানি ও কেবল ইন্টারনট সরবরাহকারী কোম্পানিগুলো প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশি উদ্যোক্তারা।