প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২৩:১৯ পিএম
আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২৩:২০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শুরু হওয়া বাংলাদেশ ২.০-কে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে এআই ও ব্লক চেইনের মতো প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রতিটি নাগরিকের জন্য ইন্টারনেট ও তথ্যপ্রযুক্তির সহজলভ্যতা এবং দেশে কৃত্রিমবুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক সক্ষমতা বাড়াতে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জন্য ২০টি সুপারিশ দিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। সুপারিশের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য উল্লেখ করে ১১টি অগ্রাধিকার এবং এরমধ্যে ৬টি সুপারিশ এখনই বাস্তবায়ন সম্ভব বলে সুপারিশ করা হয়েছে। সুপারিশে মেধাবী যুবসমাজকে প্রযুক্তি দক্ষ করে পেশাদারিত্ব সংযুক্তির ওপর জোর দেয়া হয়েছে।
বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলামের হাতে লিখিত এই প্রস্তাবনাটি তুলে দেন বিডিজবসের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক বেসিস সাবেক সভাপতি ফাহিম মাশরুর।
এসময় বেসিস ফিনটেক স্ট্যান্ডিং কমিটির কো-চেয়ার এবং সূর্যমুখী লিমিটেড ও আদর্শ প্রাণিসেবা লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ফিদা হক ও ন্যায়ভিত্তিক, অবাক টেকনোলজিস লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও পেমেন্ট গেইটওয়ে বিশেষজ্ঞ ও রাষ্ট্রচিন্তা সদস্য দিদারুল ভূঁইয়া। এছাড়াও এই সুপারিশ তৈরিতে সঙ্গী ছিলেন ফিল্যান্সার হাসিন হায়দার এবং টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক লেখক ও গবেষক ফয়েজ আহমেদ তাইয়্যেব।
এখনই বাস্তবায়ন করা সম্ভব তালিকায়, ডাটার দাম ও কল রেট যৌক্তিকীকরণ/হ্রাস ও ইন্টারনেট পরিকাঠামো পর্যালোচনায় টাস্ক ফোর্স গঠন এবং খুব কম/শূন্য ডাউনপেমেন্টে সবার জন্য স্মার্টফোন কেনা ও ব্যবহারে সুযোগ নিশ্চিত করতে টেলিকম কোম্পানিগুলি ও অর্থায়ন প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ে একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি ও তার বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়াও ফ্রিল্যান্সারদের সমস্যা সমাধানে বহুল চর্চিত পেপ্যাল এবং স্ট্রাইপ দেশে চালু করে রেমিট্যান্স প্রণোদন সহজ করতে টাস্কফোর্স গঠনের কথা বলা হয়েছে। একইসঙ্গে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া অনলাইন জুয়ার প্রসার ঠেকাতে বাংলাদেশ ব্যাংক, বিআইএফইউ, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস, সিআইডি, বিটিআরসি ও সরকারের অন্যান্য সংস্থার সাথে সমন্বয় করে একটি কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ ও তার দ্রুত বাস্তবায়ন এবং অন্যান্য সাইবার ক্রাইমের প্রকৃতি ও উৎস নির্ধারণ এবং তার ব্যাপারে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্কতামূলক তথ্য, প্রযুক্তিগত পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করতে এখনই একটি কমিটি করতে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেশীয় সফটওয়্যার খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে আগামী দুই বছরের জন্য এখনই সরকারি ও বেসরকারি সব ধরনের প্রতিষ্ঠানে বিদেশি সফটওয়্যার কেনা বন্ধ/কমাতে অনুরোধ করা হয়েছে। একইভাবে পেমেন্ট ইকোসিস্টেম অপারেটরদের (পিএসপি, পিএসও ইত্যাদি) জন্য অবৈষম্যমূলক নীতি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতায় কিউআর কোড ভিত্তিক পেমেন্টের ব্যাপক প্রচলনের উদ্যোগ এখনই গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।
এর বাইরে মাঝারি ক্যাটাগরিতে জাতীয় আইওটি (ইন্টারনেট অফ থিংস) কৌশল এবং রোডম্যাপ প্রণয়ন, অ্যাপ মনিটাইজেশন সহজিকরণ, সরকারি যেকোনো তথ্যপ্রযুক্তি হার্ডওয়্যার ক্রয়ের ক্ষেত্রে আগামী ৩ বছরের মধ্যে অন্তত ৪০% হার্ডওয়্যার দেশীয় কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে কেনার বাধ্যতামূলক করার নীতি প্রণয়ন, সরকারি ও অতি জরুরি সেবায় টোল-ফ্রি (অ্যাপের ক্ষেত্রে বিনা ডাটা খরচে) অ্যাক্সেস দেয়া, সঠিক টেকনিক্যাল অডিটের মাধ্যমে সারাদেশে ইন্টারনেটের লভ্যতা এবং মান নিশ্চিতকরণ, রাষ্ট্রীয় ডাটা অবকাঠামোগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বেশ কিছু হ্যাকিং ও ডাটা চুরি ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধান করতে সিকিউরিটি এক্সপার্টদের নিয়ে একটি এক্সপার্ট কমিটি গঠন, আই অপব্যবহার রোধ করার কৌশল নির্ধারণে একটি কর্ম পরিকল্পনা (রোডম্যাপ) ও স্ট্রাটেজি তৈরি করার জন্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে টাস্কফোর্স গঠন, স্টার্টআপ খাতে দেশের পুজিঁবাজারের মাধ্যমে বিনিয়োগ সুযোগ তৈরি করতে পুজিঁবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা (SEC) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়নের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।