× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ফাইভজিতে প্রবেশে বড় চ্যালেঞ্জ দুটি

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ১৬ নভেম্বর ২০২২ ০৮:০২ এএম

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০২২ ০৮:০৩ এএম

ফাইভজি। ফাইল ফটো

ফাইভজি। ফাইল ফটো

ফাইভজি চালুর জন্য বাংলাদেশ অবকাঠামোগতভাবে প্রস্তুত বলে দাবি করে সরকার ২০২৩ সালের মধ্যে এ প্রযুক্তির বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরু করতে চায়। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফাইভজির জন্য অনেক বেশি বিটিএস (বেজ ট্রান্সিভার স্টেশন) টাওয়ার বসানো প্রয়োজন। আর বিটিএস টাওয়ার নির্মাণের জন্য জায়গা পাওয়া নিয়ে সমস্যা রয়েছে। জায়গা সমস্যার কারণে যে অবস্থানে টাওয়ার বসালে একটি টাওয়ার থেকে বেশি সুবিধা পাওয়া যাবে, সেই স্থান নির্ধারণও জটিল হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশে ফাইভজি কোথায় এবং কোন কোন খাতে ব্যবহার করা হবে- সে বিষয়টি নিয়ে আরও গবেষণা এবং অনুসন্ধানের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তি খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। 

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ২০২৩ সালেই বাংলাদেশ ফাইভজি প্রযুক্তির বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরু করতে চায়। টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যামসুন্দর সিকদার জানিয়েছেন, ফাইভজি সেবার জন্য প্রয়োজনীয় এবং উপযুক্ত ব্যান্ডের বেতার তরঙ্গ বরাদ্দ দিতেও প্রস্তুত রয়েছে বিটিআরসি। এরই মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটক ঢাকায় এবং গ্রাহক সংখ্যায় শীর্ষে থাকা গ্রামীণফোন ঢাকাসহ আটটি বিভাগে পরীক্ষামূলকভাবে ফাইভজি চালু করেছে। ফাইভজির অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা চালিয়েছে অপর দুই মোবাইল ফোন অপারেটর রবি এবং বাংলালিংক। 

তবে ফাইভজি চালুর ক্ষেত্রে বড় অবকাঠোমোগত চ্যালেঞ্জ হতে পারে ঢাকায় এবং ঢাকার বাইরে বিটিএস স্থাপন। এ চ্যালেঞ্জের কথা বলেছেন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় টাওয়ার কোম্পানি ইডটকোর প্রধান নির্বাহী।

সম্প্রতি ঢাকায় কর্মরত টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সাংবাদিকদের সংগঠন টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) এবং মোবাইল অপারেটর রবি যৌথভাবে একটি সেমিনারের আয়োজন করে। ওই সেমিনারের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘ফাইভজি : সম্ভাবনা ও করণীয়’। সেমিনারে বাংলাদেশে ফাইভজি চালুর পুরো রূপরেখা তুলে ধরেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। সেমিনারে বিটিআরসির চেয়ারম্যান ও মহাপরিচালক (সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিলেন্স) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসিম পারভেজ এবং সবগুলো মোবাইল অপারেটর, ভেন্ডর, ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক কোম্পানি এবং টাওয়ার কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন। 

সেমিনারে মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ফাইভজি চালুর ক্ষেত্রে প্রথমেই ভাবতে হবে এই প্রযুক্তি এখন শুধু চতুর্থ শিল্পবিপ্লব নয়, বরং পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের মূল প্রযুক্তি হবে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের মধ্য দিয়ে আমরা যাচ্ছি। কিন্তু মনে রাখতে হবে, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব মানবসভ্যতাকে যন্ত্রসভ্যতায় বদলে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। এই ঝুঁকি মাথায় রেখেই পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের রূপরেখা তৈরি হয়ে গেছে। এই বিপ্লব হবে প্রযুক্তির মানবিকীকরণের বিপ্লব। তিনি বলেন, ফাইভজির ক্ষেত্রে প্রধান গুরুত্ব দিতে হবে হোমনেটওয়ার্ক তৈরি, শিল্প-বাণিজ্যে ফাইভজি প্রয়োগ এবং কৃষি ও মাছ চাষে এর প্রয়োগ। এ বিষয়গুলো নিয়ে এখন থেকেই সক্রিয়ভাবে ভাবতে হবে। 

মোস্তাফা জব্বার ফাইভজির জন্য প্রস্তুতির বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, ফাইভজির জন্য প্রস্তুতি আরও আগেই শুরু করা হয়েছে। গত মার্চে যে তরঙ্গ নিলাম করা হয়েছে, তার শুধু দামই কমানো হয়নি, বরং প্রযুক্তিনিরপেক্ষ নীতির মাধ্যমে একই সঙ্গে ফোরজি ও ফাইভজি প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। সারা দেশে ফাইবার অপটিক ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করা হয়েছে। দৃঢ়ভাবে আশা করা যায় যে ২০২৩ সালের মধ্যেই বাংলাদেশে ফাইভজির বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরু হবে। এখন প্রয়োজন হচ্ছে ফাইভজির জন্য ব্যবসায়িক ও সেবা খাতকে প্রস্তুত করা। পোশাকসহ অন্যান্য শিল্প ক্ষেত্রে ফাইভজি ব্যবহারে ব্যবসায়ীদের আগ্রহী করে তুলতে হবে। 

অনুষ্ঠানে টাওয়ার কোম্পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, টাওয়ার কোম্পানির কাছে ফাইভজি উপযোগী প্রযুক্তি রয়েছে। কিন্তু বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে পর্যাপ্ত বিটিএসের জন্য টাওয়ার নির্মাণের জায়গা পাওয়া নিয়ে। বিকিরণের ভয়ে অনেকে টাওয়ার বসাতে দিচ্ছে না। যে অবস্থানে টাওয়ার বসালে একটি টাওয়ার থেকে বেশি সুবিধা পাওয়া যাবে, সে ধরনের স্থান নির্ধারণ জটিল হয়ে যাচ্ছে। ফাইভজি প্রযুক্তির জন্য অনেক বেশি টাওয়ার প্রয়োজন। 

অন্য আলোচকরাও বাংলাদেশে ফাইভজি ব্যবহারের বড় সম্ভাবনা হিসেবে পোশাক শিল্পের কথা উল্লেখ করেন। তারা বলেন, ফাইভজি পোশাক শিল্পে উৎপাদন সহজ করবে এবং খরচ কমাবে। একই সঙ্গে ইলেকট্রনিকসহ অনান্য শিল্প ক্ষেত্রেও ফাইভজি হবে দারুণ সহায়ক প্রযুক্তি। এ ছাড়া বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, নদীবন্দর পরিচালনায় ফাইভজি অত্যন্ত কার্যকর প্রযুক্তি। এর বাইরে নিরাপদ সড়ক পরিবহন নেটওয়ার্ক তৈরি, টেলিমেডিসিন, টেলি এডুকেশন কার্যক্রমকে আরও বেশি সক্ষম ও গতিশীল করবে ফাইভজি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা