প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ মে ২০২৪ ২১:১১ পিএম
জিম্বাবুয়ে সিরিজে টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক তানজিদ হাসান তামিমের। ঘরের মাঠে পাঁচ ম্যাচের ওই সিরিজে বাঁহাতি এই ওপেনার হাঁকান জোড়া ফিফটি। এরপর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর ম্যাচে পেয়েছেন অপরাজিত ফিফটির দেখা। বাঁহাতি এই ওপেনারের ব্যাটে লজ্জা এড়িয়ে ১০ উইকেটের দাপুটে জয়ে ধবলধোলাই এড়িয়েছে বাংলাদেশ। দলের জয়ে অবদান রাখতে পেরে সন্তুষ্ট ২৩ বছর বয়সি তানজিদ।
হিউস্টনের প্রেইরি ভিউ ক্রিকেট কমপ্লেক্সে গত শনিবার ম্যাচ শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হন ছোট তামিম। এ সময় ২০২০ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে বিশ্বকাপজয়ী এই ওপেনার বলেন, ‘সব সময় চেষ্টা থাকে দলের জন্য ভালো খেলা। দলের জন্য অবদান রাখা। আমি ম্যাচ বাই ম্যাচ এটাই চেষ্টা করে যাই। কোনো সময় আমি আসলে দূরবর্তী চিন্তা করি না। আমি সব সময় বর্তমানে থাকার চেষ্টা করি। আমার ফোকাস থাকবে পরের ম্যাচে।’
টানা দুই ম্যাচ হেরে সিরিজ আগেই হাতছাড়া করেছিল বাংলাদেশ। তবে হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর ম্যাচে ১১.২ ওভারেই কোনো উইকেট না হারিয়েই দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে টাইগাররা। এই জয়ে ইতিবাচক দিক খুঁজে পেয়েছেন ম্যাচে ৪২ বলে ৫৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলা তানজিদ, ‘আসলে সব জয়ই সব দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রকে কৃতিত্ব দিতে হবে, তারা দারুণ খেলেছে এবং সিরিজ জিতেছে। আমরা শেষ ম্যাচে ভালো করেছি এটা আমাদের জন্য ইতিবাচক।’
এদিন বল হাতে বিধ্বংসী ছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। ৪ ওভারে মাত্র ৯ রানের খরচায় ৬ উইকেট নিয়ে হন ম্যাচসেরা। এমনকি ৩ ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়ে বাঁহাতি এই পেসার হয়েছেন সিরিজসেরাও। হিউস্টনের পিচের সঙ্গে খাপ খাইয়ে বোলিং করা মুস্তাফিজকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন তানজিদ, ‘তিনি (মুস্তাফিজ) বিশ্বমানের বোলার। আইপিএল ও ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলেন। তিনি টপক্লাস বোলার। অনেক ভালো বল করেছেন। উইকেট ভালোভাবে পড়তে পেরেছেন। আমরা সবাই জানি তিনি কাটার মাস্টার।’
সিরিজ হারের পর দলের অবস্থা প্রসঙ্গে বাঁহাতি এই ওপেনারের ভাষ্য, ‘আসলে হতাশ না। প্রত্যেকটা হারই সবার জন্য খারাপ লাগে, সবারই মন খারাপ ছিল। দুই ম্যাচে হারার পর আমরা সবাই মিলে বসেছি, আলোচনা করেছি। কেন প্ল্যানটা কাজে লাগাতে পারছি না। আমরা সবাই মিলে শান্ত থাকার চেষ্টা করছি। আজকে এটাই চেষ্টা করেছি আমরা সবাই এসব পরিস্থিতিতে কীভাবে শান্ত থেকে নিজেদের পরিকল্পনা কাজে লাগাতে পারি। আল্লাহর রহমতে সবাই আজকে সেটা করতে পেরেছি।’
গত ওয়ানডে বিশ্বকাপের দলে ছিলেন তানজিদ। সেখান থেকে শেখার কথা জানান তিনি, ‘আসলে আগের বিশ্বকাপে উপভোগ্য কিছু ছিল না। ভালো খারাপ দুটাই ছিল। আমি হয়তো আরও ভালো করতে পারতাম, দেশকে আরও বেশি কিছু দিতে পারতাম। সেটা করতে পারি নাই। আমি সব সময় একটা জিনিস বিশ্বাস করি, যা আমি অনেক পরে গিয়ে শিখতে পারতাম তা আমি ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর শিখতে পারছি। যা আমার ভবিষ্যতে কাজে দেবে।’
৭ জুন ডালাসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে টাইগাররা। বিশ্বকাপে দলের পরিকল্পনা নিয়ে তামিম আরও বলেন, ‘সবারই তো চেষ্টা থাকে প্রতিদিন উন্নতি করার। আমরা জানি না ডালাসে উইকেট, কন্ডিশন কেমন হবে। আমরা চেষ্টা করব সেখানে আমাদের অনুশীলন সেশন আছে সেগুলো ঠিকমতো করার।’