কাউন্টডাউন : টি-২০ বিশ্বকাপ
রুবেল রেহান
প্রকাশ : ২৬ মে ২০২৪ ১২:৪৮ পিএম
২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে অঘটনের জন্ম দিয়েছিল জিম্বাবুয়ে; ফাইল ছবি
বিশ্বমঞ্চে ছোটরা প্রায়ই জন্ম দেয় বড় ঘটনার। শক্তিশালী দলকে হারিয়ে চমক দেখায় তুলনামূলক খর্বশক্তির দল। বিশ্ব আসরে ছোট দলগুলোর নিজেদেরকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার এই রেওয়াজ ভালোভাবেই মিশে আছে ক্রিকেটের সঙ্গে। বোধ করি, বেশি মিলেমিশে একাকার কুড়ি ওভারের বিশ্বকাপে। ক্রিকেটীয় ভাষায় বলা হয় আপসেট কিংবা অঘটন। সেই অঘটনের ঘটনা নেহাতই কম নয়। এখন পর্যন্ত ঘটে যাওয়া বড় পাঁচটি অঘটনের গল্পই তুলে ধরা হলো।
অস্ট্রেলিয়া বনাম জিম্বাবুয়ে-২০০৭
দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত হয় টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের প্রথম বিশ্বকাপ। যেটিকে অনেকেই আখ্যায়িত করেন বিপর্যয়ের বিশ্বকাপ বলে। ওই আসরেই মহাপরাক্রমশালী অস্ট্রেলিয়াকে লজ্জায় ডোবায় জিম্বাবুয়ে। অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, ম্যাথু হেইডেন, রিকি পন্টিং, মাইকেল হাসি, ব্রাড হজ, ব্রেট লিদের মতো তারকাসমৃদ্ধ দলকে মাটিতে নামিয়ে আনে প্রোসপার উতসেয়ার জিম্বাবুয়ে। আসরের চতুর্থ ম্যাচে ১ বল হাতে রেখে অজিদের ছুড়ে দেওয়া ১৩৯ রানের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ব্রেন্ডন টেইলররা। ৪৫ বলে অপরাজিত ৬০ রান করে ম্যাচসেরা হন উইকেটরক্ষক ব্যাটার টেলর।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম বাংলাদেশ-২০০৭
জিম্বাবুয়ে রূপকথার এক দিন পরই আরেক অঘটনের সাক্ষী হয় ২০০৭ বিশ্বকাপ। এবার অঘটনের শিকার ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ওয়ানডে বিশ্বকাপের জোড়া শিরোপা জেতা দলটিকে বড় ধাক্কা দেয় বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করে সম্মানজনক স্কোরই গড়েছিল রামনরেস সারওয়ানের দল। তখনকার হিসাবে এটিকে বড় লক্ষ্যই বলা যায়। কিন্তু টাইগাররা সেদিন লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ১২ বল আর ৬ উইকেট হাতে রেখেই। জোহানেসবার্গে সাকিব আল হাসান আর আব্দুর রাজ্জাকের বোলিং ঘূর্ণির পর ব্যাটিং তাণ্ডবের প্রদর্শনী দেখান মোহাম্মদ আশরাফুল। ২৭ বলে ৩ ছক্কা আর ৭ বাউন্ডারিতে করেন ৬১ রান। ৪৯ বলে ৬২ রান করে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন আফতাব আহমেদ।
ইংল্যান্ড বনাম নেদারল্যান্ডস-২০০৯
ঘরের মাঠে নেদারল্যান্ডসদের বিপক্ষে হারার দুঃস্বপ্ন ইংল্যান্ডকে বয়ে বেড়াতে হবে, এমন ভাবনা বোধহয় শতবর্ষেও একবার ভাবেনি ইংলিশরা। কিন্তু লর্ডস স্টেডিয়ামে সেই দুঃস্বপ্নই বাস্তব হয়ে নেমে আসে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধনী ম্যাচেই শক্তিশালী ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দেয় নেদারল্যান্ডস। ইংল্যান্ডের বেঁধে দেওয়া ১৬৩ রানের লক্ষ্যে শেষ বলে ২ রানের সমীকরণ মিলিয়ে ফেলেন টম ডি গ্রুথ। ৩০ বলে ৪৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে মহাকাব্যিক জয়ের নায়ক বনে যান এই ডাচ ব্যাটার।
বাংলাদেশ বনাম আয়ারল্যান্ড-২০০৯
আগের বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চমকে দিয়ে এবার অঘটনের স্বীকার টাইগাররা। নিয়মিত বড় দলের বিপক্ষে খেলা বাংলাদেশ দল তখন মোটামুটি পরিপক্বই। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টাইগারদের জয়টা প্রাপ্যই মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু ও’ব্রায়ান ভ্রাতৃদ্বয় সেদিন ভেবেছিলেন অন্য কিছু। ১৩৮ রানের লক্ষ্যে দুই ভাই মিলে করেন ৭৯ রান। খেলেন মোটে ৪২ বল। ১০ বল আর ৬ উইকেট হাতে রেখে জয় তুলে নেয় আইরিশরা।
নেদারল্যান্ডস বনাম ইংল্যান্ড-২০১৪
আরও একবার ইংল্যান্ড প্রমাণ করে যে, এই ফরম্যাটে ডাচরা খুবই বিপজ্জনক দল। ২০০৯ বিশ্বকাপের সেই দুঃস্বপ্ন আবার ফেরায় ইংলিশরা। এবার তো আরও বাজেভাবে। চট্টগ্রামে ডাচদের বিপক্ষে জয়ের জন্য ১৩৪ রানের লক্ষ্য পেয়েও জিততে পারেনি স্টুয়ার্ট ব্রডের দল। অলআউট হয় মাত্র ৮৮ রানে।