কাউন্টডাউন : টি-২০ বিশ্বকাপ
নাজমুল হক তপন
প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৪ ১৮:১৯ পিএম
আপডেট : ২৫ মে ২০২৪ ১৮:৩৮ পিএম
পর পর দুটো ম্যাচ জেতাটা কি কখনও আপসেট হয়—কথাটি বাংলাদেশকে দ্বিতীয় ম্যাচে হারানোর নায়ক পেসার আলি খানের। অ্যামেচার যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নাজমুল হোসেন শান্তদের প্রথম ম্যাচ হারার পর ‘আপসেট’ বিষয়টি চলে আসে সামনে। কিন্তু টাইগারদের টানা দ্বিতীয় ম্যাচ হারার পর এটাকে আদৌ অঘটন বলা যায় কি না, সেটিই এখন ‘টক অব দ্য বাংলাদেশ ক্রিকেট’। আপসেটের সীমানার মধ্যে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছে শান্ত ব্রিগেড। অফ ফর্মে আছে বাংলাদেশ, বড় হয়ে উঠেছে এই সত্যটিই।
যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রথম দুই ম্যাচে কোনো ধরনের ফাইটিং স্পিরিট
দেখাতে পারেনি শান্ত ব্রিগেড। দলের মূল ব্যাটাররা অনেক দিন ধরেই ফর্মে নেই। টি-টোয়েন্টি
ক্রিকেট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাওয়ার হিটিং। আর সেখানে অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটাররা।
দলের টপ অর্ডার ব্যাটারদের স্ট্রাইক রেট ভীষণ কম। এ নিয়ে সমালোচনা চলছে অনেক দিন ধরেই।
সর্বোপরি ‘টিম স্পিরিটের ব্যাপক ঘাটতি দলটার মধ্যে। অল্প চাপেই ভেঙে পড়ছে হুড়মুড়িয়ে।
ফর্মহীনতায় ভোগা শান্ত বাহিনীকে অঘটনের মর্যাদায় আসীন করার কোনো সুযোগই নেই।
আপসেট ঘটে হঠাৎ করেই। বারবার এটা হয় না। সাম্প্রতিক সময়ের পাকিস্তান-আয়ারল্যান্ড তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের কথাই ধরা যাক। সিরিজের প্রথম ম্যাচে আইরিশদের কাছে পাকিস্তান হারল ৫ উইকেটের ব্যবধানে। এটা যে একটা অঘটন ছিল সেটা প্রমাণ করতে বেশি সময় নেয়নি বাবর আজমের পাকিস্তান। পরের ম্যাচে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে জিতে সিরিজে সমতায় ফিরল পাকিস্তান। তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে ৬ উইকেটে জিতে সিরিজ নিজেদের করে নিল বাবর ব্রিগেড। প্রথম ম্যাচটি যে আপসেট ছিল, এ নিয়ে বিতর্ক করার আর সুযোগই থাকল না।
দুটি হার তো বটেই, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটা হারকেই আসলে আপসেট বলার
সুযোগ নেই। মাথায় রাখতে হবে, আয়ারল্যান্ড টেস্ট স্ট্যাটাসের দল। মাঝেমধ্যেই ক্রিকেটের
প্রতিষ্ঠিত দলগুলোকেও তারা হারায়। গুণে-মানে ঐতিহ্যে আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের
কোনো তুলনাই চলে না। বাংলাদেশকে হারিয়ে প্রথম কোনো টেস্ট স্ট্যাটাসসমৃদ্ধ দলের বিপক্ষে
জয়ের কৃতিত্ব দেখিয়েছে তারা। দলটির সবাই পার্টটাইম ক্রিকেটার। সোজা কথায় শৌখিন দল।
এমন একটা দলের সঙ্গেই এঁটে উঠতে পারেনি শান্ত বাহিনী।
এবারের বিশ্বকাপ মিশনের আগে বাংলাদেশ যে অফ ফর্মে আছে, এটা বুঝতে প্রয়োজন পড়ে না বিশেষজ্ঞ হওয়ার। ঘরের মাটিতে জিম্বাবুয়ের মতো সহজ প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও রানে ফিরতে পারেননি ব্যাটাররা। টস জিতে বড় ইনিংস গড়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার সুযোগ নিতে ভয় পেয়েছে শান্ত ব্রিগেড। বোলিংয়ে সর্বোচ্চ শক্তি ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার কৌশল নিয়েছে বাংলাদেশ। আর এটা করতে গিয়ে দলের সেরা পেসার তাসকিন আহমেদকে নিয়ে ঝুঁকিও নিয়েছে ম্যানেজমেন্ট। ক্যারিয়ারজুড়েই ইনজুরির সঙ্গে লড়াই তাসকিনের। তারপরও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টানা চার ম্যাচ খেলানো হয়েছে তাকে। পঞ্চম ম্যাচে ইনজুরির কারণে খেলতে পারেননি তাসকিন। এখন আদৌ বিশ্বকাপে খেলতে পারেন কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা কাটেনি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জিততে কেন টানা তাসকিনকে খেলাতে হলো? এর উত্তর আসলে একটাই—সিরিজ জেতার জন্য বোলিংয়ে সর্বোচ্চ শক্তি ব্যবহার করা।
যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটা অ্যামেচার দলের কাছে সিরিজ হারার পর সব পেশাদারী
যুক্তি দেখিয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। দিচ্ছেন কন্ডিশনের দোহাই। যুক্তরাষ্ট্র
টেস্ট স্ট্যাটাসের বাইরের দল। আর বাংলাদেশের টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা দুই যুগ! হায়রে অভিজ্ঞতা!
বিধাতা নীরবে হাসিয়া গেল!