রুবেল রেহান
প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৪ ১২:৪২ পিএম
আপডেট : ২৫ মে ২০২৪ ১৩:২৮ পিএম
গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। সংগৃহীত ছবি
রবিচন্দ্রন অশ্বিনের করা বলটাতে ডাউন দ্য উইকেটে এগিয়ে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল হাঁকালেন লফটেড শট। প্রথম বলেই ধ্রুব জুরেলের হাতে ধরা পড়লেন লং অনে। এর মধ্য দিয়ে শেষ হলো অজি হার্ডহিটার ব্যাটারের ভুলে যাওয়ার মতো এক আইপিএল মৌসুম। তার দল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু থামল এলিমিনেটর ম্যাচে। শূন্য রানে এবারের আসরে এ নিয়ে চারবার আউট হলেন ম্যাক্সি। দেশে ফিরলেন আইপিএল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে মৌসুম কাটিয়ে। তারপরও অবশ্য তাকে নিয়ে ক্রিকেটভক্তরা আশাবাদীÑ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রানে ফিরবেন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতা এই অলরাউন্ডার।
গেল বুধবার রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে আহমেদাবাদের সেই ম্যাচে ধারাভাষ্য প্যানেলে ছিলেন কেভিন পিটারসেন। ম্যাক্সির আউট দেখে যেন নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না ইংল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটার, ‘ম্যাক্সওয়েলের কাছ থেকে এটা কী ছিল! আমি শঙ্কিত তাকে নিয়ে, এটা মোটেও ভালো ছিল না।’ চলমান আইপিএলে ৯ ম্যাচে ৫২ রান করেন ম্যাক্সওয়েল। সর্বোচ্চ স্কোর ৫২, ব্যাটিং গড় স্রেফ ৫ দশমিক ৭৭। সবশেষ ৯ ইনিংস হিসাব করলে এর আগে ২০২৩ সালে সুনিল নারাইন এবং ২০২২ সালে ড্যানিয়েল শামসের কাছ থেকে এমন লোয়ার অ্যাভারেজ ব্যাটিং দেখেছে আইপিএল। যদিও অধিকাংশ ইনিংসই ওই দুজন খেলেছেন ব্যাটিং অর্ডারের নিচের দিকে। ম্যাক্সিকে নিয়ে তারই সতীর্থ অ্যারন ফিঞ্চ ‘ইএসপিএন অ্যারাউন্ড দ্য উইকেট’ অনুষ্ঠানে বলেন, ‘এই এক শটেই বোধ করি আইপিএলে তার এবারের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করা যায়। বোলিংয়ে সে খারাপ করেনি, তবে ব্যাটিং ছিল নিদারুণ।’

নিজের ফর্ম এতটাই খারাপ ছিল যে, টুর্নামেন্টের মাঝপথে অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসি ও কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের সঙ্গে কথা বলে সরে দাঁড়ান ম্যাক্সওয়েল। তারপরও শেষের দিকে দলে তাকে আবার সুযোগ দেওয়া হয়। যদিও কিছুটা বাধ্য হয়েই এমন সিদ্ধান্ত নেয় আরসিবি ম্যানেজমেন্ট। কেননা জাতীয় দলের খেলার কারণে বেঙ্গালুরু ছাড়েন উইল জ্যাকস।
খেলোয়াড়দের জীবনে এমন সময় আসেই। কখনও ফর্মের চূড়ায়, কখনও ফর্মটা পড়ে যায় খাদের কিনারে। ম্যাক্সওয়েলের ফর্ম অবিশ্বাস্যভাবে তলানিতে। তবুও অনেকেই এটিকে শেষ দেখছেন না। কেবল আইপিএল মৌসুমটাই বাদ দেওয়া যাক, সবার আগে চোখের সামনে ভাসবে ম্যাক্সের ‘ওয়ান ম্যান আর্মি’ শো। যেদিন ভারত বিশ্বকাপে আফগানদের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়াকে একাই জিতিয়েছিলেন ৩৫ বছর বয়সি এই তারকা। আরেকটি বিশ্বকাপ এখন দুয়ারে। খুব স্বাভাবিকভাবেই অজিদের বড় অস্ত্র ভাবা হচ্ছে তাকে। ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকেই তিনি দলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। যে কারণে তার ফেরার ব্যাপারে সন্দেহ নেই কারও। সেটি আরও প্রকট হয় আরসিবির হেড কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের মন্তব্যে, ‘সে এখন বিশ্বকাপে যাচ্ছে এবং আমি ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারি না সে ফর্মে ফিরবে না। বিশ্বকাপে তার দুর্দান্ত ফেরার অপেক্ষায় আমি।’ বিশ্বকাপে ম্যাক্সওয়েলের ফর্মে ফেরা নিয়ে অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ডসহ আরও কয়েকজন কিংবদন্তি নিজেদের মতামত এভাবেই ব্যক্ত করেছেন। ম্যাক্সওয়েলের ফর্ম নিয়ে অজি কোচ বলেন, ‘ইনজুরিতে পড়ার পর তার পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার জন্য আমরা তাকে যথেষ্ট সময় দিয়েছি। আগামী তিন-চার বছর তাকে অন্তত আমি এই দলে দেখতে চাইব। সাদা বলের ক্রিকেটে সে দারুণ একজন ক্রিকেটার। সম্ভব হলে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠেয় ২০২৭ বিশ্বকাপেও তাকে দলে দেখতে চাই। সত্যি বলতে আমরা কখনই তার ফর্ম নিয়ে উদ্বিগ্ন নই।’
ম্যাক্সওয়েলকে নিয়ে কোচ এবং সাবেকদের এই ইতিবাচক মন্তব্যের জোরালো কিছু যুক্তি দাঁড় করা যাক। এই উদাহরণের জন্য অবশ্য খুব বেশি পেছনেও যেতে হবে না। ভারতে ওয়ানডে বিশ্বকাপ চলাকালে গলফ কোর্টে গিয়ে পড়ে যান ম্যাক্সি। কিন্তু তার পরের ম্যাচেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলেন মহাকাব্যিক ২০১ রানের অপরাজিত ইনিংস। সেই অনবদ্য ইনিংসের কল্যাণে হারতে থাকা ম্যাচ জেতে অজিরা। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অ্যাডিলেডে আছে ৫৫ বলে ১০২ রানের ইনিংস। গত নভেম্বরে গুয়াহাটিতে ভারতের বিপক্ষে ৪৮ বলে অপরাজিত ছিলেন ১০৪ রানে। ২০২৩ সালের শুরু থেকে এই আইপিএলের শুরু পর্যন্ত সব টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে ম্যাক্সির গড় ৩০ দশমিক ৭৬। ১৭৭ দশমিক ২৫ স্ট্রাইক রেটে করেন ১২০০ রান। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ব্যাটার কালাম ফার্গুসন আশাবাদীÑ ঘুরে দাঁড়াবেন ম্যাক্সওয়েল। একই সুর ফ্লাওয়ারের কণ্ঠেও, ‘ম্যাক্সির জন্য অবশ্যই এটি একটি কঠিন টুর্নামেন্ট ছিল এবং আমরা সবাই জানি সে দলে কীভাবে অবদান রাখতে পারে। সে আসলেই দারুণ কিছু বছর কাটিয়েছে। এবারের আইপিএলে তার পারফরম্যান্স সবাইকে হতাশ করেছে সত্যি, তবে আমি তার মঙ্গল কামনা করি।’